‘রাজনীতির নোংরামিতে নেই বলেই কি…আমি ক্ষমা চাইব না!’ মিলছে না কাজ! টলিউড থেকে বাদ পড়েছেন ঋদ্ধি সেন! রাজনীতিতে আসা তারকাদের এক হাত নিলেন অভিনেতা!

টলিউড (Tollywood) চলচ্চিত্র জগতে বর্তমানে এক অস্থির সময়ের কালো মেঘ ঘনীভূত হয়েছে। বিশেষ করে ‘ব্যান কালচার’ বা শিল্পীদের কাজ করতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে স্টুডিও পাড়ার অন্দরে যে চাপা উত্তেজনা ছিল, তা এবার জনসমক্ষে এল জাতীয় পুরস্কার জয়ী অভিনেতা ঋদ্ধি সেনের (Riddhi Sen) এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে। সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ঋদ্ধি সরাসরি আঙুল তুলেছেন ফেডারেশনের অগণতান্ত্রিক কার্যকলাপে। তাঁর দাবি, এক বিশেষ ব্যক্তির নির্দেশে এবং কোনো আইনি ভিত্তি ছাড়াই তাঁকে কাজ থেকে দূরে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা কার্যত পশ্চিমবঙ্গের বিনোদন জগতের এক অন্ধকার দিককে ফুটিয়ে তুলেছে।

ঋদ্ধি সেনের অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পরিচালক সুমন ঘোষের একটি নতুন সিনেমা। অভিনেতা জানিয়েছেন, ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের মৌখিক নির্দেশে টেকনিশিয়ানদের বলা হয়েছিল যে ঋদ্ধি ওই ছবিতে থাকলে কেউ যেন কাজ করতে না যান। এর ফলে বাধ্য হয়েই তাঁকে সেই প্রোজেক্ট থেকে সরতে হয়েছে। ঋদ্ধি আক্ষেপের সুরে বলেন, এই ধরণের সিদ্ধান্ত কেবল একজন শিল্পীর জন্য অপমানজনক নয়, বরং এটি শিল্পের স্বাধীনতার ওপর চরম আঘাত। তাঁর মতে, টলিউডের মতো ছোট একটি ইন্ডাস্ট্রিতে এমনিতেই কাজের সংখ্যা কম, তার ওপর ব্যক্তিগত আক্রোশে কাউকে কাজ করতে না দেওয়া মানে অনেক মানুষের রুটি-রুজি নিয়ে ছিনিমিনি খেলা।

Riddhi Sen, Hamlet play, social media trend, RIP trend, All Eyes On, Bengali theatre, Kaushik Sen, Reshmi Sen, Surangana Bandyopadhyay, post-pandemic Arts, modern society thoughts, Tollywood, ঋদ্ধি সেন, হ্যামলেট নাটক, সোশ্যাল মিডিয়া ট্রেন্ড, বাংলা নাটক, কৌশিক সেন, রেশমি সেন, সুরঙ্গনা বন্দ্যোপাধ্যায়, থিয়েটার, সমাজ সচেতনতা, অতিমারী পরবর্তী নাটক, শিল্প বনাম সমাজ, বর্তমান সমাজ, টলিউড

এই অঘোষিত নিষেধাজ্ঞার কোপ শুধু ঋদ্ধির ওপর নয়, সাক্ষাৎকারে অনির্বাণ ভট্টাচার্য এবং রুদ্রনীল ঘোষের মতো প্রতিভাবান অভিনেতাদের নামও উঠে এসেছে। ঋদ্ধি মনে করেন, অনির্বাণ ভট্টাচার্য কেবল একজন অভিনেতা নন, তিনি একজন সার্থক পরিচালকও। তাঁর কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়া মানে কয়েকশ টেকনিশিয়ানের কর্মসংস্থান নষ্ট হওয়া। অভিনেতা প্রশ্ন তুলেছেন, কেন বারবার ব্যক্তিগত মতবিরোধকে পেশাদারিত্বের ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া হচ্ছে? তাঁর মতে, এই সংস্কৃতি যদি চলতে থাকে, তবে আগামী দিনে বাংলা সিনেমার মান এবং সম্মান— দুই-ই তলানিতে গিয়ে ঠেকবে, যা ইতিমধ্য়েই মুম্বাই বা অন্যান্য ইন্ডাস্ট্রির কাছে টলিউডের ভাবমূর্তিকে নষ্ট করছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় করা একটি ফেসবুক পোস্টের কারণেই কি এই কোপ? এই প্রশ্নের উত্তরে ঋদ্ধি অত্যন্ত দৃঢ় কণ্ঠে জানান যে, তিনি দেশের সংবিধান প্রদত্ত বাক-স্বাধীনতা ব্যবহার করেছেন। ফেডারেশনের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাওয়ার ইঙ্গিতের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, যদি কেউ আইনিভাবে প্রমাণ করতে পারেন যে তাঁর পোস্টটি অপরাধমূলক, তবেই তিনি ক্ষমা চাইবেন। অন্যথায়, কেবলমাত্র কাজ পাওয়ার আশায় নিজের নীতি বিসর্জন দিয়ে কোনো ‘ভুল’ স্বীকার করবেন না তিনি। ঋদ্ধির মতে, প্রতিবাদ করা বা ভিন্ন মত পোষণ করা কোনো অপরাধ নয়, বরং এটি সুস্থ সমাজের লক্ষণ, যা বর্তমানে টলিউডের অন্দরে লুপ্তপ্রায়।

আরও পড়ুনঃ অস্ত্র হাতে রণচণ্ডী পারুল! বন্দি রায়ানকে মুক্ত করতে অপ্রতিরোধ্য নায়িকা! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

নিষেধাজ্ঞার পাহাড় ডিঙিয়েও ঋদ্ধি সেনের হাতে রয়েছে একগুচ্ছ বড় কাজ। আগামী ২২শে মে মুক্তি পাচ্ছে অনুরাগ কশ্যপের হিন্দি ছবি ‘বান্দার’, যেখানে ঋদ্ধি একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এছাড়াও পাভেলের ‘মন খারাপ’ ও ‘ডাক্তার কাকু’, দেবালয় ভট্টাচার্যের ‘ভুগুন’ এবং ব্রাত্য বসুর পরিচালনায় চঞ্চল চৌধুরীর সঙ্গে ‘শেখর’ ছবিতেও তাঁকে দেখা যাবে। রাজনীতির মঞ্চে যোগ না দিয়ে অভিনেতা হিসেবেই লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন ঋদ্ধি। পরিশেষে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, শিল্পীর গায়ে কোনো রঙের ছাপ লাগিয়ে তাঁকে ব্রাত্য করে দেওয়ার চেষ্টা আসলে শিল্পেরই পরাজয়।

Back to top button