‘আমরা কারোর ছত্র-ছায়ায় বাঁচি না!’ ‘আমার ছেলে প্রচণ্ড…স্বার্থে ঘা লাগায় ওরা ওর কাজ কেড়ে নিয়েছে!’ অকপটে অভিনেত্রী রেশমী সেন!

বাংলা বিনোদন জগতের (Tollywood) অন্যতম পরিচিত মুখ এবং বর্ষীয়ান অভিনেত্রী রেশমী সেন (Reshmi Sen) সম্প্রতি এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার এবং সমসাময়িক বিতর্ক নিয়ে মুখ খুলেছেন। নিজের ছেলে, জাতীয় পুরস্কারজয়ী অভিনেতা ঋদ্ধি সেনকে টলিউড ফেডারেশন কর্তৃক ‘ব্যান’ করা থেকে শুরু করে তাঁদের পরিবারের রাজনৈতিক ও সামাজিক আদর্শ সব বিষয়েই রেশমী ছিলেন অত্যন্ত স্পষ্টবক্তা।

ছেলের ব্যান হওয়ার বিষয়ে জানাতে গিয়েই তিনি প্রথমে বলেন, ‘পার্সোনাল ইগোতে লাগায় ব্যান করা হয়েছে’। সাক্ষাৎকারের শুরুতেই উঠে আসে ঋদ্ধি সেনের ওপর আরোপিত ব্যান বিষয়টি। রেশমী সরাসরি অভিযোগ তোলেন যে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ব্যক্তিগত অহংবোধ বা ইগো-র কারণে তাঁর ছেলেকে কাজ থেকে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। তিনি কঠোর ভাষায় বলেন, ‘ছেলেও প্রচণ্ড ভোকাল। রিসেন্টলি তোমার ছেলের একটা কথা নিয়ে ব্যান করা হয়েছে। আমার ছেলেকেই বলে ফেডারেশন থেকে… কারো পার্সোনাল ইগোতে লাগার জন্য তার যদি মনে হয় যে ঋদ্ধিকে ব্যান করে দেবে, ঋদ্ধির কাজ বন্ধ করে দেবে…।’

তিনি আরও যোগ করেন যে ঋদ্ধি নিজের যোগ্যতায় আজ এই জায়গায় পৌঁছেছেন। রেশমীর কথায়, ‘ঋদ্ধি নিজের জোরে ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে।’ এমনকি এই বিষয়ে তৎকালীন প্রভাবশালী মহলের সাথে সরাসরি কথোপকথন নিয়েও তিনি মুখ খোলেন। তিনি জানান, ‘সরাসরি অরূপ বিশ্বাসকে ফোন করে, তো উনি স্বীকার করে নেন যে হ্যাঁ ঋদ্ধিকে আমরা ব্যান করেছি।” রাজনৈতিক সচেতনতা: “আমরা কারো ছাতার তলায় নেই’

টলিউডে যখন বিভিন্ন শিল্পী কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় থাকতে পছন্দ করেন, তখন রেশমী সেনের পরিবার এক ভিন্ন মেরুর প্রতিনিধিত্ব করে। রেশমী জানান যে তাঁরা অত্যন্ত ‘ভারবাল’ অর্থাৎ মুখরা, কিন্তু তাঁরা কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের অনুসারী নন। রেশমী বলেন, ‘রাজনৈতিকভাবে আমরা ভীষণ ভারবাল এবং আমরা কারো ছায়ায় নেই, কারো ছাতার তলায় নেই।’ তিনি আরও মনে করেন, একজন শিল্পীর পক্ষে রাজনীতি থেকে বিমুখ থাকা সম্ভব নয়। তাঁর ভাষায়, ‘অনেকে বলে না আমি না রাজনীতি বুঝি না, কী হচ্ছে এখন জানি না। কেন জানি না? কারণ ওটার সাথেই তো তুমি জড়িত।’

আরও পড়ুনঃ কাকা নেই, রয়ে গেছে তাঁর সাজানো স্বপ্ন! স্মৃতিঘেরা ক্যাফেই এখন দেবলীনার নতুন ঘর!

সাক্ষাৎকারে রেশমী জোর দেন সততার ওপর। তিনি বিশ্বাস করেন, একজন শিল্পীর নিজের শিল্প এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ থাকা জরুরি। তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে ইম্পর্টেন্ট হচ্ছে যে তুমি সৎভাবে জীবনটা চালাচ্ছ কি না, সৎভাবে তোমার শিল্পের প্রতি সৎ কি না, তোমার পরিবারের প্রতি, তোমার সমাজের প্রতি সৎ কি না।’ তাঁর মতে, শিল্পীকে সব সময় চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। ‘তোমার সত্তাটা তৈরি হবে না তুমি যদি সব না জানো। দরজা জানলাগুলো খুলে রাখতে হবে। সবসময় হাওয়া আসতে হবে।’

Back to top button