আপনজনদের হারিয়ে হয়েছিলেন নিঃসঙ্গ! য’ন্ত্রণা নিয়ে ছেড়েছিলেন ইহলোক! কেমন ছিল বাঘা বাইন রবি ঘোষের শেষ জীবন?

পর্দায় যার অভিনয় দেখে আট থেকে আশি প্রত্যেকে হেসে লুটোপুটি খেতেন। যিনি বাংলা চলচ্চিত্র জগতে নতুন জোয়ার এনেছিলেন। তিনি হলেন আমাদের সকলের প্রিয় অভিনেতা রবি ঘোষ (Rabi Ghosh)। ছোটো থেকেই তার অভিনয়ের প্রতি ছিল অগাধ ভালোবাসা। কিন্তু সেই ভালোবাসার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন রবি ঘোষের বাবা। তিনি একেবারেই পছন্দ করতেন না অভিনয় করা। স্কুলে পড়াকালীনই বাবার থেকে লুকিয়ে অভিনয় শুরু করেন। এরপর কলেজ জীবনে বন্ধুদের নিয়ে গড়ে তোলেন ‘বন্ধু মন’ নামের একটি নাট্যদল। আশুতোষ কলেজের ছাদে সেই দলের মহড়া বসতো। বাবার সাপোর্ট না পেলেও ছোট থেকে মায়ের সাপোর্ট পেয়েছেন অভিনেতা। তাই বাংলা চলচ্চিত্র জগত এমন একজন মানুষকে পেয়েছেন।

২৪শে নভেম্বর, ১৯৩১ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পুরো নাম রবীন্দ্রনাথ ঘোষ দস্তিদার। পড়াশুনার পাশাপাশি চালিয়ে গিয়েছেন অভিনয়। অভিনয়ের প্রতি এতটাই ভালোবাসা ছিল যে আদালতে চাকরি পাওয়া সত্ত্বেও সেই চাকরি ছেড়ে দিয়েছিল। ১৯৫৩ সাল থেকে ১৯৫৯ পর্যন্ত তিনি বংশাল কোর্টে কাজ করেন। তারপর ছেড়ে দেন সেই কাজ। বহু কাছের মানুষকে হারিয়েছেন কিন্তু তাতেও থামানো যায়নি অভিনেতাকে। ১৯৫৯ সালের ৩১ শে ডিসেম্বর ঐদিন মিনার্ভা নাট্য দলের আয়োজিত উৎপল দত্তের পরিচালনায় অঙ্গার নাটকের প্রথম শো ছিল, আর তার ঠিক ৫ দিন আগেই মারা যায় অভিনেতার বাবা। অভিনেতার বাবা ঠিক করেছিলেন ছেলের অভিনয় দেখবেন কিন্তু সেটার হয়ে ওঠেনি ভাবার মৃত্যুর যন্ত্রণা বুকে নিয়ে অঙ্গার নাটকটি মঞ্চস্থ করেন অভিনেতা।

কাছের মানুষদের মৃ’ত্যুর পরেও ছাড়েননি অভিনয়

তার কয়েক বছর পর যখন যখন তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত অভিনেতা হয়েছেন। হঠাৎ একদিন বোন মারা যাওয়ার খবর পাওয়া কয়েক ঘন্টা বাদেই মঞ্চে দমফাটা হাসির নাটক কনে বিভ্রাট মঞ্চস্থ করেন অভিনেতা। তার অসাধারণ অভিনয় দেখে কেউ ধরতেই পারল না সদ্যই নিজের বোনকে হারিয়েছেন অভিনেতা। তবে সব থেকে বড় ধাক্কাটা খেয়েছিলেন নিজের প্রথম স্ত্রী অনুভা গুপ্তাকে হারিয়ে। হাঁসুলি বাঁকের উপকথা ছবিতে অভিনয় করার সময় স্ত্রী অনুভার সঙ্গে আলাপ হয় রবি ঘোষের। তারপরেই তারা দুজন বিয়ে করেন। স্ত্রীর অকাল প্র’য়াণে একেবারেই ভেঙে পড়েছিলেন অভিনেতা। মাথা র’ক্তক্ষ’রণের জন্য মৃ’ত্যু হয়েছিল অনুভার। স্ত্রীকে হারানোর পর বেশ কয়েক বছর অভিনয় জগত থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিলেন রবি ঘোষ। এরপর সত্যজিৎ রায়ের হাত ধরে গুপী গাইন বাঘা বাইন ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে ফিরে আসেন।

তার অভিনীত ছবি গুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল পদ্মা নদীর মাঝি, আগন্তুক, গুপী বাঘা ফিরে এলো, অন্তর্জালি যাত্রা, হীরক রাজার দেশে, নৌকাডুবি, চারমূর্তি, মৌচাক, ধন্যি মেয়ে, গুপী গাইন বাঘা বাইন, মণিহার, গল্প হলেও সত্যি, মহাপুরুষ, অভিযান ইত্যাদি।

আরও পড়ুন: জেলের চার দেওয়ালে বন্দী ফুলকি! মাধবী কি পারবে ফুলকিকে বাঁ’চাতে?

প্রথমা স্ত্রীর মৃত্যুর দশ বছর পর তিনি ২৪শে নভেম্বর, ১৯৮২ সালে বৈশাখী দেবীকে বিয়ে করেন। এমনকি নিজের মা মারা যাবার পরেও তিনি মাকে শ্মশানে দাহ করে এসে মহড়াতে এসেছিলেন। তারপর ১৯৯৭ সালে ৪ঠা ফেব্রুয়ারি হঠাৎ একদিন বাংলা চলচ্চিত্র জগত থেকে চিরদিনের মত হারিয়ে গেলেন রবি ঘোষ।

Back to top button