‘সেলিব্রেটি হলেই যা খুশি হাতে তুলে নেওয়া যায় না, ওনার সাহসটা…’ ‘মেয়েরাই মেয়েদের শত্রু, তাই…’ নারীদের পারিশ্রমিকের বৈষম্য থেকে শ্রীলেখা মিত্রের পোস্টার বিতর্ক! মুখ খুললেন রত্না ঘোষাল!

টলিউডের (Tollywood) অন্যতম পরিচিত ও প্রবীণ মুখ রত্না ঘোষাল (Ratna Ghoshal)। বহু দশক ধরে নিজের অভিনয় দক্ষতার মাধ্যমে তিনি দর্শকদের মন জয় করে এসেছেন। ছোট পর্দা থেকে শুরু করে সিনেমার রূপালী পর্দা সব মাধ্যমেই তাঁর স্বাভাবিক অভিনয় প্রশংসা কুড়িয়েছে। সাধারণ মধ্যবিত্ত বাঙালি চরিত্রকে যেভাবে তিনি ফুটিয়ে তোলেন, তা সত্যিই অতুলনীয়। অভিনয়ের পাশাপাশি স্পষ্টভাষী হিসেবেও তিনি ইন্ডাস্ট্রিতে বেশ পরিচিত।
সম্প্রতি ইউটিউব চ্যানেলকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি সমাজের বিভিন্ন দিক নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন। সেখানে তিনি বিশেষ করে নারীদের একত্র হওয়া এবং তাঁদের এগিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। তাঁর মতে, আগে বলা হতো নারীরাই নারীদের প্রধান শত্রু, কিন্তু বর্তমান সময়ে এই ধারণার অনেকটাই বদল ঘটেছে। এখন নারীরা একে অপরের পাশে দাঁড়াচ্ছেন, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছেন এবং একে অপরকে সমর্থন করছেন।
আরও পড়ুন: নিজের সন্তানের থেকে বারবার আঘাত পাচ্ছে কমলা! সমর-শান্তনুর আচরণে অবাক গোটা পরিবার! ছেলেকে শিক্ষা দিতে কি করে বসলো কমলা?
নারীদের সামাজিক অবস্থানের পাশাপাশি তাঁদের আর্থিক স্বাবলম্বিতা নিয়েও রত্না ঘোষাল জোর সওয়াল করেছেন। তিনি মনে করেন, একজন নারীর স্বাধীনভাবে বাঁচার জন্য অর্থনৈতিকভাবে আত্মনির্ভরশীল হওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। বিশেষ করে মফস্বল বা গ্রামাঞ্চলের মেয়েরা যাতে সমাজ ও পরিবারের বাধা কাটিয়ে স্বাবলম্বী হতে পারেন, সেই বিষয়েও তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। একই সাথে বিনোদন জগতে নায়ক ও নায়িকাদের পারিশ্রমিকের পার্থক্য নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, আগের তুলনায় পরিস্থিতি এখন অনেক উন্নত এবং অভিনেত্রীরাও এখন সঠিক পারিশ্রমিক পাচ্ছেন।
ইন্ডাস্ট্রির আলোচনার পাশাপাশি সাম্প্রতিক কিছু বিতর্কিত বিষয় নিয়েও মুখ খুলেছেন এই প্রবীণ অভিনেত্রী। নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনের কলকাতায় ফেরাকে তিনি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে স্বাগত জানিয়েছেন। অন্যদিকে, অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রের সাম্প্রতিক পোস্টার বিতর্ক ও এফআইআর প্রসঙ্গে তিনি কিছুটা সমালোচনামূলক মনোভাব প্রকাশ করেন। রত্না ঘোষালের মতে, একজন পরিচিত ব্যক্তিত্ব বা সেলিব্রেটি হিসেবে যেকোনো প্রতিবাদী ছবি বা পোস্টার হাতে তুলে নেওয়ার আগে সেটির বিষয়বস্তু ভালো করে দেখে ও বুঝে নেওয়া উচিত ছিল।
সাক্ষাৎকারের একদম শেষভাগে এসে সমাজের কিছু স্পর্শকাতর ঘটনা নিয়ে নিজের গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন রত্না ঘোষাল। সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার মতো বেদনাদায়ক ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং যেকোনো পরিবারের জন্যই এক অপূরণীয় ক্ষতি। এই ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের সোচ্চার হওয়া ও প্রতিবাদ করা একদম স্বাভাবিক। সার্বিকভাবে, তাঁর এই সাক্ষাৎকারটিতে নারীশক্তি, ইন্ডাস্ট্রির বাস্তবতা এবং সামাজিক নানা সচেতনতার এক স্পষ্ট ছবি ফুটে উঠেছে।

