‘বাংলা ছবিতে আর বাঙালিয়ানা নেই…একটা অভাব আমাকে সব সময় কুরে কুরে খায়!’- বাংলা ছবি থেকে হারিয়েছে বাঙালির আভিজাত্য! সেই উপলব্ধিতেই মর্মাহত রঞ্জিত মল্লিক!

পর্দার দাপুটে পুলিশ অফিসার, যিনি একসময় গর্জন করতেন— “চাবকে পিঠের ছাল তুলে দেব!”— সেই রঞ্জিত মল্লিককে আজ আমরা এক অন্য রূপে দেখতে যাচ্ছি। কোমরের বেল্ট নয়, হাতে আইন বই। পরিচালক অন্নপূর্ণা বসুর প্রথম ছবি ‘স্বার্থপর’-এ তিনি এবার একজন আইনজীবীর চরিত্রে। আরও বড় খবর, এই ছবিতেই ১৬ বছর পর পর্দায় ফিরছে বাবা-মেয়ের জুটি— রঞ্জিত মল্লিক ও কোয়েল মল্লিক।
তবে নতুন চরিত্রে অভিনয়ের আনন্দের মাঝেও অভিনেতার কণ্ঠে শোনা গেল একরাশ আফসোস। তিনি বললেন, “এখন অনেক বাংলা ছবি হচ্ছে, ব্যবসাও করছে। কিন্তু বাঙালিয়ানা কই! সেই গন্ধটাই যেন হারিয়ে গেছে। আমরা যে বাংলা ছবিতে বড় হয়েছি, যেখানে বাঙালির অন্দরমহল, পারিবারিক সম্পর্ক, মাটির টান ছিল— সেই গল্পগুলো আর দেখা যায় না।” তাঁর মতে, ‘স্বার্থপর’ সেই হারিয়ে যাওয়া স্বাদের কিছুটা হলেও ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
রঞ্জিতবাবুর কথায়, “ছবির গল্পটা খুব অচেনা নয়, কিন্তু ভাই-বোনের আইনি লড়াই— এটা খুব একটা পর্দায় দেখা যায়নি। পরিবারে মতবিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু যখন সেই সম্পর্ক আদালতের দরজায় গিয়ে ঠেকে, তখন তা হৃদয়বিদারক।” এই অভিজ্ঞতা তাঁর নিজের পারিবারিক জীবনের সঙ্গে কোথাও যেন মিশে আছে।
অভিনেতা স্মৃতিচারণা করে বলেন, “আমাদের ভবানীপুরের মল্লিকবাড়ি এক সময় ছিল বিশাল বনেদি পরিবার। প্রায় ২০০ জন একসঙ্গে থাকতাম। এক মহল থেকে অন্য মহলে যাওয়ার জন্য আলাদা রাস্তা লাগত না! এত বড় পরিবারে মতবিরোধ তো হতোই, কিন্তু সেটা কখনও আদালত পর্যন্ত গড়াত না। কারণ আমাদের মধ্যে ছিল বিশ্বাস, ধৈর্য আর সহনশীলতা।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের কাছে ‘বাড়ি’ মানে কেবল ইট-কাঠ নয়— নিরাপত্তা, নিশ্চিন্ততা, হৃদয়ের উষ্ণতা। এখনকার প্রজন্ম সেই জিনিসটাই হারিয়ে ফেলছে।”
‘স্বার্থপর’ ছবিতে অভিনয় করতে গিয়ে রঞ্জিতবাবুর উপলব্ধি আরও গভীর হয়েছে। তিনি বলেন, “যে বোন ভাইফোঁটার দিন দাদার দীর্ঘায়ু কামনা করে, সেই বোন যদি একদিন আদালতের দ্বারস্থ হয়, সেটার যন্ত্রণা ভাষায় বোঝানো যায় না। আমি শুধু ঈশ্বরের কাছে চাই, দাদা-বোনের সম্পর্ক যেন সব সময় অটুট থাকে। বিশ্বাস, ভরসা আর ভালোবাসাই হোক সম্পর্কের আসল ভিত্তি।”
আরও পড়ুনঃ ‘ক্ষত্রিয়রা পেছন থেকে ছুরি মারে না…ও তো কাপুরুষ!’ নাম না করেই দেবকে আক্রমণ! কি বললেন পরিচালক শিবপ্রসাদ?
অভিনেতার কণ্ঠে স্পষ্ট আবেগ। বাংলা সিনেমার পরিবর্তিত রূপে তাঁর হতাশা যেমন আছে, তেমনি আছে আশা— হয়তো একদিন আবার ফিরবে সেই বাঙালিয়ানা, যেখানে গল্প থাকবে মাটির, সম্পর্ক থাকবে হৃদয়ের। আর সেই বিশ্বাসই তাঁকে এখনও আগলে রেখেছে এই দীর্ঘ অভিনয়যাত্রায়।

