‘আমিও ম’রে যেতে পারতাম…ওই জলের মধ্যেও শক্ত করে ওর হাত ধরে ছিলাম…’ রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃ’ত্যুতে শোকাহত মাধবী মুখোপাধ্যায়! তাঁর দেওয়া ঘটনার বর্ণনায় শিহরিত সমাজ মাধ্যম!

অভিনেতা রাহুল ব্যানার্জি (Rahul Arunoday Banerjee)-র আকস্মিক প্রয়াণে গভীর শোকের আবহ নেমে এসেছে টলিউডে। মাত্র ৪৩ বছর বয়সে এমন বিদায় কেউই মেনে নিতে পারছেন না। তাঁর পরিবারে রয়ে গেলেন বৃদ্ধ মা, স্ত্রী এবং ছোট সন্তান। শুটিংয়ে যাওয়ার আগে বা সেই সময়েও কেউ কল্পনাও করতে পারেননি এমন বিপর্যয় ঘটতে পারে। হঠাৎ এই ঘটনা যেন সকলকেই স্তব্ধ করে দিয়েছে।
সহকর্মীদের কথায়, রাহুল ছিলেন অত্যন্ত ভদ্র, সংবেদনশীল এবং মাটির মানুষ। ধারাবাহিকের সেটে কাজ করতে করতে তাঁর সঙ্গে অনেকেরই গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। একসঙ্গে আড্ডা, কাজের ফাঁকে গল্প, হাসি মজা সব মিলিয়ে তিনি ছিলেন খুব কাছের একজন। এমনকি তিনি নিজের শোতে সহকর্মীদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার কথাও বলতেন, যা আর বাস্তবায়িত হল না।
এই ঘটনায় অনেকে নিজেদের পুরনো অভিজ্ঞতার কথাও মনে করছেন। সমুদ্রের জলে শুটিং করতে গিয়ে কীভাবে হঠাৎ বিপদের মুখে পড়তে হয়, সেই স্মৃতি এখন আরও তীব্র হয়ে উঠছে। কেউ কেউ বলছেন, দুর্ঘটনা কখন কোথায় ঘটবে তা কেউ আগে থেকে বুঝতে পারে না। অনেক সময় ভাগ্য সহায় হলে মানুষ বেঁচে যায়, আবার অনেক সময় সেই সুযোগও মেলে না।
রাহুলের মৃত্যু শুধু একটি ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, গোটা ইন্ডাস্ট্রির জন্য এক গভীর আঘাত। তাঁর জায়গায় অন্য কাউকে কল্পনা করাও অনেকের কাছে কঠিন হয়ে উঠছে। ধারাবাহিকের ভবিষ্যৎ কী হবে, নতুন কেউ আসবেন কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সহকর্মীরা এখনও এই শূন্যতা মেনে নিতে পারছেন না।
তবুও জীবনের নিয়ম মেনেই এগোতে হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষত কিছুটা হলেও শুকোয়, কিন্তু স্মৃতি থেকে যায়। অভিনয় জগতের মানুষের কাছে কাজই সবচেয়ে বড় আশ্রয়। তাই শোককে সঙ্গে নিয়েই আবার কাজে ফিরতে হবে সকলকে। রাহুলের স্মৃতি, তাঁর কাজ এবং মানুষের প্রতি তাঁর ব্যবহারই তাঁকে বাঁচিয়ে রাখবে সবার মনে।
আরও পড়ুনঃ ‘তুই অভিনয় না করলে আমি ছবিটাই করব না!’ সত্যজিৎ রায়ের সেই আবদারমাখা নির্দেশ! ‘ওটাই আমার কাছে অস্কার…’ মমতা শঙ্করকে ছাড়া কেন অসম্পূর্ণ ছিল তাঁর চলচ্চিত্র?
অভিনেত্রী বলেন, “নিরাপত্তা থাকলেও অ্যাক্সিডেন্ট ইজ অ্যাক্সিডেন্ট। যে কোনও যায়গায় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমারও এই রকম দুর্ঘটনা ঘটেছিল। বহু বছর আগে পুরীর সমুদ্রে শুটিং করার সময়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিলাম। একটা ছবির শুটিং করছি, সঙ্গে ছিল অভিনেত্রী অঞ্জনা ভৌমিক। জলের মধ্যে শুটিং করতে গিয়ে দেখলাম ঢেউ এসে আমাদের পায়ের তলার বালি সরে যাচ্ছে। অঞ্জনা আমার নাম ধরে চিৎকার করছে। আমি ওই জলের মধ্যেও শক্ত করে ওর হাত ধরে ছিলাম। এর পর কিছুটা সামলাতে দেখলাম নুলিয়ারা এসে আমাদের উদ্ধার করলেন। সেদিন আমার মৃত্যু হতে পারত। অঞ্জনার কিছু হতে পারত। আমাদের ভাগ্য ভালো ছিল বেঁচে গিয়েছি। দেখুন অ্যাক্সিডেন্টের কথা কেউ বলতে পারে না, কখন হবে, কোথায় হবে, কেউ বেঁচে যায় আবার কেউ বাঁচে না”। তিনি আরও বলেন, “তবে আবারও বলছি খুব খারাপ লাগছে, মন খারাপ এই দুর্ঘটনায়, রাহুলের অকাল মৃত্যুতে।”

