ফলাফল ঘোষণার পরমুহূর্তেই উলটপুরাণ! বিজেপি সমর্থকদের সঙ্গে হাসিমুখে পোজ দিয়ে ছবি তুলতে ব্যস্ত রচনা ব্যানার্জি? ভোটের ফল বেরোতেই কি দল পাল্টানোর পরিকল্পনায় অভিনেত্রী?

টলিউডের (Tollywood) গ্ল্যামার জগত থেকে রাজনীতির আঙিনায় পা রাখা রচনা ব্যানার্জির (Rachna Banerjee) যাত্রাটা ছিল বেশ চমকপ্রদ। নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় নায়িকা এবং পরবর্তীতে ছোট পর্দার ‘দিদি নম্বর ১’ হিসেবে বাংলার ঘরে ঘরে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। সাধারণ মানুষের এই ভালোবাসাকে পুঁজি করেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আহ্বানে সাড়া দিয়ে রাজনীতিতে যোগ দেন তিনি। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে হুগলি কেন্দ্র থেকে লকেট চট্টোপাধ্যায়কে হারিয়ে সাংসদ হওয়ার পর থেকেই তিনি তৃণমূলের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ হয়ে ওঠেন। অভিনয় জগত থেকে রাজনীতির ময়দান সর্বত্রই নিজের দাপট বজায় রেখেছিলেন এই অভিনেত্রী।
তবে আজ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের দিন এক অদ্ভুত দৃশ্যের সাক্ষী থাকল রাজ্যবাসী। গণনাকেন্দ্রের বাইরে যখন তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের খবর আসছে, ঠিক তখনই রচনা ব্যানার্জিকে দেখা গেল এক ভিন্ন মেজাজে। সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, অভিনেত্রী-সাংসদ হাসি মুখে একদল বিজেপি সমর্থকের সাথে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলছেন। গেরুয়া উত্তরীয় পরা সমর্থকদের সাথে রচনার এই সাবলীল ভঙ্গি মুহূর্তের মধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। তৃণমূলের একজন সক্রিয় সাংসদ হয়ে ফলাফল ঘোষণার দিনে বিরোধীদের সাথে এমন ঘনিষ্ঠতা দেখে অনেকেই ভ্রু কুঁচকেছেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক দানা বাঁধতে শুরু করেছে। বিশেষ করে নির্বাচনের এই স্নায়ুযুদ্ধের দিনে যেখানে প্রতিটি দলের কর্মীরা প্রতিপক্ষকে ইঞ্চি ছাড় দিতে নারাজ, সেখানে রচনার এই সৌজন্যমূলক আচরণকে ভালো চোখে দেখছেন না তৃণমূলের একাংশ। বিরোধীদের একাংশও এই সুযোগে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। প্রশ্ন উঠছে, এই সেলফি কি কেবলই সৌজন্য নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো বড় রাজনৈতিক সমীকরণ? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, ভোটের ফলাফলের পর বাংলার রাজনীতিতে দলবদলের যে খেলা বারবার দেখা যায়, এটি কি তারই কোনো পূর্বাভাস?
বিতর্ক আরও উস্কে দিয়েছে রামচন্দ্র এবং জয় শ্রীরাম ধ্বনি নিয়ে তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্য। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি সাফ জানিয়েছিলেন যে রাম আমাদের ভগবান এবং তাঁর পুজো করতে কোনো বাধা নেই। আজ সেলফি বিতর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “সাংসদ হিসেবে আমি সবার সাথে কথা বলতেই পারি। আমরা আগে মানুষ, তারপর রাজনৈতিক কর্মী। ছবি তোলায় বা কারো সাথে কথা বলায় কোনো আপত্তির কারণ নেই।” তবে তাঁর এই ‘উদারতা’ তৃণমূল শিবিরের অনেকের কাছেই অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা দলের অন্দরে ফাটলের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে দাবি অনেকের।
আরও পড়ুন: জনরো’ষের মুখে রাজ চক্রবর্তী! সবার সামনে সজোরে মুখে কাদা ছোড়া হলো রাজকে! নির্বাক তারকা প্রার্থী!
সাধারণ মানুষের মনে এখন বড় প্রশ্ন তবে কি এবারে তৃণমূলের এই তারকা সাংসদ দল বদলের পথে হাঁটছেন? নির্বাচনের ফলাফলের পর যখন রাজনৈতিক পরিস্থিতির দ্রুত রদবদল ঘটছে, তখন রচনার এই কর্মকাণ্ড জল্পনার আগুনে ঘি ঢেলেছে। বিজেপি সমর্থকদের সাথে তাঁর এই ছবি রাজনৈতিক মহলে কী প্রভাব ফেলে এবং তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই বিষয়টিকে কীভাবে নেয়, সেটাই এখন দেখার। দলবদলের এই মৌসুমে রচনা ব্যানার্জি কি তাঁর পুরনো শিবিরের প্রতি অনুগত থাকবেন নাকি নতুন কোনো ইনিংস শুরু করবেন, তা নিয়ে বর্তমানে বাংলার রাজনৈতিক পাড়ায় জল্পনা তুঙ্গে।

