জনরো’ষের মুখে রাজ চক্রবর্তী! সবার সামনে সজোরে মুখে কাদা ছোড়া হলো রাজকে! নির্বাক তারকা প্রার্থী!

২০২৬ সালের ৪ মে বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রইল। দীর্ঘ ১৫ বছরের একচ্ছত্র শাসনের পর এবারের বিধানসভা নির্বাচনে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এক অভাবনীয় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে। সকাল থেকে ভোট গণনার যে ট্রেন্ড সামনে আসছে, তাতে স্পষ্ট যে রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে বড়সড় রদবদল ঘটতে চলেছে। পরিবর্তনের এই হাওয়ায় সবার নজর ছিল ব্যারাকপুর বিধানসভা কেন্দ্রের দিকে, যেখানে ঘাসফুল শিবিরের বাজি ছিলেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক রাজ চক্রবর্তী (Raj Chakraborty)। কিন্তু গণনার ফলাফল যত সামনে আসছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে যে ব্যারাকপুরের মাটিতে রাজকীয় আধিপত্য ধরে রাখা তাঁর পক্ষে কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভোট গণনার শুরু থেকেই ব্যারাকপুর কেন্দ্রে রাজ চক্রবর্তীর পিছিয়ে পড়ার খবর আসছিল। রাউন্ড যত এগোচ্ছিল, ব্যবধান কমার বদলে বরং পাল্লা ভারী হচ্ছিল বিরোধীদের দিকেই। এক সময় যে ব্যবধান ছিল সামান্য, সময়ের সাথে সাথে তা পাহাড়প্রমাণ হয়ে দাঁড়ায়। দুপুরের দিকে যখন হার কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায়, তখন আর গণনা কেন্দ্রে থাকা সমীচীন মনে করেননি এই তারকা প্রার্থী। পরাজয়ের গ্লানি সঙ্গী করেই তিনি গণনা কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন। তবে তাঁর এই প্রস্থান মোটেই মসৃণ ছিল না; বরং তা ছিল অত্যন্ত তিক্ত এবং উত্তপ্ত এক অভিজ্ঞতায় ঠাসা।
গণনা কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষারত একদল মানুষের তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়েন রাজ চক্রবর্তী। পরাজিত প্রার্থীর উদ্দেশ্যে ধেয়ে আসতে থাকে একের পর এক কটূক্তি এবং বিরোধী স্লোগান। পরিস্থিতি এতটাই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে যে, ভিড়ের মধ্য থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে কাদা ছোড়ার মতো অনভিপ্রেত ঘটনাও ঘটে। বিশৃঙ্খলা চরমে পৌঁছালে তাঁর দলের কর্মীরা মানবশৃঙ্খল তৈরি করে তাঁকে নিরাপত্তার ঘেরাটোপে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যান। এই চরম উত্তেজনার মুহূর্তেও রাজ কিন্তু ছিলেন সম্পূর্ণ অবিচল ও নির্বাক। কোনো পাল্টা মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়ার পথে না হেঁটে নীরবতাকেই নিজের সেরা হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন তিনি।
উল্লেখ্য যে, নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় ব্যারাকপুরে ভোটগ্রহণ হয়েছিল। কিন্তু ভোটের দিনও রাজকে সেভাবে বুথে বুথে ঘুরতে বা সক্রিয় মেজাজে দেখা যায়নি। তিনি আগেই জানিয়েছিলেন, তাঁর উপস্থিতিতে যাতে সাধারণ মানুষের ভোট দিতে কোনো অসুবিধা না হয় বা এলাকায় উত্তেজনা না ছড়ায়, তার জন্যই তিনি নিজেকে আড়ালে রেখেছেন। তিনি চেয়েছিলেন মানুষ নির্ভয়ে এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজের রায় দিক। ৪ মে-র এই ফলাফল সেই ‘মানুষের রায়’-কেই প্রতিফলিত করল। ব্যারাকপুরের মানুষ যে বিকল্পের সন্ধানে ছিল, রাজের পিছিয়ে থাকা বা পরাজয়ের ইঙ্গিত যেন সেই বড় পরিবর্তনেরই একটি ক্ষুদ্র প্রতিচ্ছবি।
আরও পড়ুন: ‘তোকে আবার হারতে দেখে বেশ ভালো লাগছে…’ ভোট গণনার মাঝেই জেগে উঠলো পুরনো দ্বন্দ্ব! প্রতিদ্বন্দ্বী অদিতি মুন্সীর হারে ভীষণ খুশি গায়ক! তারই জানান দিলেন সারেগামাপা বিজয়ী সৌম্য চক্রবর্তী!
পরিশেষে বলা যায়, রাজনীতির ময়দানে জয়-পরাজয় থাকবেই, কিন্তু এবারের নির্বাচন শাসকদল ও রাজ চক্রবর্তী উভয়ের জন্যই এক বড় ধাক্কা হিসেবে প্রমাণিত হলো। ১৫ বছরের প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া যে কতটা প্রবল হতে পারে, তা আজ স্পষ্ট। রাজ চক্রবর্তী যেভাবে সম্পূর্ণ নীরব থেকে ভিড়ের বিক্ষোভ উপেক্ষা করে বেরিয়ে গেলেন, তা যেন এক যুগের অবসান এবং নতুন এক রাজনৈতিক সমীকরণের সূচনার ইঙ্গিতবাহী। বাংলার ভোটাররা যে এবার স্থির সংকল্প হয়ে পরিবর্তনের পথে পা বাড়িয়েছেন, ব্যারাকপুরের এই দৃশ্যপট সেই সত্যটাকেই আরও একবার জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠিত করল।

