প্রবল বন্যায় ভেসেছে ঘর! ভারী বর্ষণে ফুঁসছে নদী! পাহাড়ি পথে নেমেছে ধস! তারই মাঝে আটকা পড়লেন গৌরব-প্রিয়াঙ্কা!

প্রবল বন্যায় তছনছ হয়ে গিয়েছে পঞ্জাব, হিমাচলের নদীগুলো ভয়ংকর রূপে ফুঁসছে। পাহাড়ি রাস্তায় একের পর এক ধস নেমে কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। এই ভয়াল পরিস্থিতির মাঝেই শুটিং করতে গিয়ে বিপাকে পড়লেন টলিউডের তারকা-ত্রয়ী প্রিয়াঙ্কা সরকার, গৌরব চক্রবর্তী ও শুভ্রজিৎ দত্ত। সঙ্গে রয়েছেন পরিচালক অর্ণব রিঙ্গো বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ আরও অন্তত ৩৫ জনের একটি পুরো ইউনিট। প্রশ্ন উঠছে—এমন ভয়ংকর আবহাওয়ার সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও কেন পাহাড়ে শুটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল? শিল্প নাকি অবিবেচনা?
শোনা যাচ্ছে, রিঙ্গোর নতুন ছবির শুটিং করতে গিয়েছিলেন তাঁরা মনালী ও কিন্নৌর-সহ হিমাচলের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে। শুধু তাই নয়, এই ছবির শুটিংয়ের আরেকটি প্রচারযোগ্য দিক ছিল—এটাই নাকি প্রথম বাংলা ছবি যা আইফোনে শ্যুট হচ্ছে। কিন্তু সিনেমার সেই “এক্সপেরিমেন্ট” যে অভিনেতা-অভিনেত্রী ও টেকনিশিয়ানদের জীবনকে এমন ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেবে, তা কে ভেবেছিল?
স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, ক্রমাগত বৃষ্টির জেরে তাঁরা কিন্নৌরে আটকে পড়েন। খবর পৌঁছতেই সেনা উদ্ধার কাজে নামে। অবশেষে সকলকে নামিয়ে আনা হয় কল্পায়। আপাতত তাঁদের রাখা হয়েছে এক সরকারি অতিথিশালায়। সোমবার চণ্ডীগড় বা শিমলায় পৌঁছনোর চেষ্টা করবেন তাঁরা, তারপর ফিরবেন কলকাতায়।
এখন বড় প্রশ্ন হল—এই বিপর্যয়ের মুহূর্তে, যখন সাধারণ মানুষ ভয়ে কাঁপছেন, তখন কি সত্যিই জরুরি ছিল সিনেমার শুটিং চালানো? ইউনিটের নিরাপত্তা কি একেবারেই গুরুত্ব পায়নি? নাকি নতুন ধরণের শুটিংয়ের নাম করে দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দেওয়া হল? পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা হলেও ফোনে পাওয়া যায়নি। অভিনেতাদেরও একই অবস্থা। ঘনিষ্ঠ সূত্র অবশ্য দাবি করছে, সকলেই নিরাপদে আছেন।
আরও পড়ুনঃ ‘যাঁরা মিথ্যে কথা রটাচ্ছেন তাঁদেরও ঈশ্বর মঙ্গল করুন…’- অপহরণের মিথ্যে অপবাদ নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী পূজা ব্যানার্জি!
কিন্তু বিতর্ক এখানেই থেমে নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে—ঝুঁকি নিয়ে “ভাইরাল” হওয়ার নেশায় কি এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে? নাকি সত্যিই পরিস্থিতি আন্দাজ করা সম্ভব হয়নি? পাহাড়ি অঞ্চলে যাঁরা থাকেন, তাঁরা বলছেন, এত দিনে এত সতর্কতা জারি হয়েছে, সেখানে ইউনিটের উপস্থিতিই অবাক করছে। শিল্পের নাম করে কি তবে বিপদের সঙ্গে খেলা? এই উত্তর এখনই মিলছে না, তবে বিতর্ক যে শুরু হয়ে গিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।

