বড় পর্দায় ‘প্রত্যাবর্তন’! ৩১ বছর পর ফের জুটি বাঁধছেন অঞ্জন দত্ত ও রূপা গাঙ্গুলী! শহুরে জীবনের টানাপোড়েনের গল্প বলবে ‘প্রত্যাবর্তন’!

টলিপাড়ার ছবির জগতে স্পষ্ট বদল চোখে পড়ছে। চেনা ছকের বাইরে বেরিয়ে এখন গল্প বলার ধরনও পাল্টাচ্ছে। রোম্যান্স বা ফর্মুলা নির্ভর বিনোদনের গণ্ডি ছেড়ে সমাজ ও জীবনের বাস্তব দিক তুলে ধরার চেষ্টা করছেন নির্মাতারা। সেই ধারাবাহিকতাতেই আসতে চলেছে নতুন বাংলা ছবি ‘প্রত্যাবর্তন’। শহুরে জীবনের দৌড়ঝাঁপ, সাফল্যের মোহ আর সম্পর্কের ভাঙাগড়ার গল্প বলবেন পরিচালক সমর্পণ সেনগুপ্ত। সমাজ, পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবনের সূক্ষ্ম টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে তৈরি এই ছবি দর্শকের ভাবনার জগতে নাড়া দিতে পারে বলেই মনে করছেন সিনেমা মহল।

ছবির গল্প আবর্তিত হয়েছে পুরুলিয়ার প্রত্যন্ত গ্রামে বড় হওয়া এক চিকিৎসক পরিবারকে ঘিরে। উন্নত ভবিষ্যৎ আর ভালো থাকার আশায় ডঃ দীপঙ্কর সান্যাল স্ত্রী শালিনী ও ছোট মেয়েকে নিয়ে ছেড়ে আসেন মফস্বলের জীবন। কলকাতার নামী সার্জেন হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের জীবনে ঢুকে পড়ে সাফল্য, সামাজিক মর্যাদা আর বিলাসিতার হাতছানি। শহরের ব্যস্ত জীবনে ধীরে ধীরে বদলে যায় মূল্যবোধ, বদলে যায় সম্পর্কের সমীকরণ। বাইরে থেকে সবকিছু নিখুঁত মনে হলেও ভিতরে ভিতরে জমতে থাকে শূন্যতা।

সময়ের সঙ্গে কেটে যায় বারোটি বছর। এই সাফল্যের দৌড়ে সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে পড়ে তাঁদের কন্যা দিশা। বাবা মায়ের ব্যস্ত জীবনে একাকিত্ব গ্রাস করে কিশোরী দিশাকে। নিজের পরিচয় আর স্বীকৃতির খোঁজে সে আশ্রয় নেয় সোশ্যাল মিডিয়ার জগতে। সেখান থেকেই শুরু হয় এমন এক বিপর্যয়, যা পুরো সমাজকে দীপঙ্কর ও শালিনীর বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দেয়। নামজাদা সার্জেন আর সমাজে প্রতিষ্ঠিত স্ত্রীর কাছে সমাজ চায় দৃষ্টান্তমূলক জবাব। তখনই নিজেদের ভুল বুঝতে শুরু করেন তারা।

সত্যের মুখোমুখি দাঁড়ানোর সাহস করে শহরের জীবন ছেড়ে আবার শিকড়ে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন দীপঙ্কর ও শালিনী। পুরনো গ্রাম, পুরনো মানুষ আর হারিয়ে যাওয়া মূল্যবোধের মাঝে শুরু হয় নতুন লড়াই। এই বাস্তবধর্মী ছবিতে অভিনয় করছেন অঞ্জন দত্ত, রূপা গাঙ্গুলি, শিলাজিৎ মজুমদার, অপরাজিতা আঢ্য, খরাজ মুখার্জি, কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, গৌরব তপাদার সহ একঝাঁক পরিচিত মুখ। নতুন শিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছেন মিষ্টু। প্রত্যেকটি চরিত্রেই জীবনের ছাপ স্পষ্ট।

আরও পড়ুনঃ ‘কেউ আমায় এখন আর বাবুন বলে ডাকে না…কোথায় হারিয়ে গেলে মা!’ অভিনেত্রীর চোখের কোণে জল! আজও মায়ের স্মৃতি আগলে বাঁচেন মানালি দে!

পরিচালক সমর্পণ সেনগুপ্তের কথায়, এই গল্প শুধুমাত্র একটি পরিবারের নয়, এটি আমাদের সময়ের প্রতিচ্ছবি। দ্রুত বদলে যাওয়া শহুরে জীবন, সাফল্যের সংজ্ঞা আর সোশ্যাল মিডিয়ার ঝলকানিতে হারিয়ে যাওয়া মানুষের কথাই বলতে চেয়েছেন তিনি। তাঁর আশা, দর্শক যেন প্রেক্ষাগৃহ ছেড়ে বেরিয়ে নিজের জীবন, সম্পর্ক আর ভালো থাকার অর্থ নিয়ে ভাবতে শুরু করেন। ছবিটি প্রযোজনা করছে শ্রী অভিজ্ঞান ড্রিমওয়ার্কস প্রাইভেট লিমিটেড। পরিচালনার পাশাপাশি চিত্রনাট্যের দায়িত্বেও রয়েছেন সমর্পণ সেনগুপ্ত। প্রযোজক হিসেবে যুক্ত অভিজিৎ চ্যাটার্জি।

Back to top button