‘বাকিরা জল মাপছে, দিদি একাই ময়দানে!’ ‘যাদের হাতে ক্ষমতা দিয়েছিলেন তারা তো অকেজো, ফালতু…’ ফের আইনজীবী রূপে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী! তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিদ্রুপের হাসি হাসলেন অরিত্র দত্ত বণিকের!

শিশু অভিনেতা হিসেবে রুপোলি পর্দায় যাত্রা শুরু করা অরিত্র দত্ত বণিক (Aritra Dutta Banik) বরাবরই স্পষ্ট কথার জন্য পরিচিত। ‘ডান্স বাংলা ডান্স’-এর সেই ছোট্ট ‘মিষ্টি’ ছেলেটি আজ প্রাপ্তবয়স্ক এবং সমাজিক-রাজনৈতিক ইস্যুতে নিজের মতামত প্রকাশে বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করেন না। অভিনয়ের পাশাপাশি সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে তাঁর তীক্ষ্ণ বিশ্লেষণ মাঝেমধ্যেই নেটপাড়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। অরিত্র নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দলের ঝাণ্ডা ধরুন বা না ধরুন, তাঁর লেখনিতে শাসক ও বিরোধী উভয় পক্ষের গঠনমূলক সমালোচনা এবং বিদ্রুপের ছোঁয়া থাকে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রণকৌশলকে কেন্দ্র করে তিনি যে পোস্টটি করেছেন, তা তাঁর রাজনৈতিক সচেতনতারই পরিচয় দিচ্ছে।
সম্প্রতি অরিত্র নিজের সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্টে একটি পোস্ট শেয়ার করেন, সেখানে লেখা ছিল, ‘এই বয়সেও বিরোধী শিবিরের হয়ে মিডিয়ার পুরো নজর কেড়ে নিচ্ছেন। এই মুহুর্তে প্রো এক্টিভ বিরোধী রাজনৈতিক দলের যেভাবে ইমেজ গঠন করা উচিৎ সেটাই করছেন, তিনি কি সাওয়াল করলেন, মামলায় জিতলেন না হারলেন সেই সব আইনি টেকনিক নিয়ে উনি ভাবছেন না। সমস্ত প্রেস ওনাকে নিয়ে খবর করছে সেইটাই ওনার আসল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য। অথচ তার দলের বাকি জয়ী বিধায়ক, সেনাপতি, যুবনেতারা গায়েব, কেউ জল মাপছে কেউ বিজেপিতে মিসড কল দিচ্ছে। তৃণমূল দলটির অস্তিত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে শুরু হয়েছিলো এবং তিনি যতদিন ময়দানে থাকবেন ততদিনই তৃণমূলের অস্তিত্ব থাকবে তারপর আস্তে আস্তে ইতিহাসের পাতায় স্থান নেবে। কারণ তিনি যাদের হাতে ভবিষ্যতের দায়িত্ব দিয়েছেন তারা একেবারেই অকেজো ও রাজনৈতিক বুদ্ধিতে ফালতু।’
অরিত্র তাঁর পোস্টে অত্যন্ত কৌশলী ভাষায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক দক্ষতার প্রশংসা করার ছলে বর্তমান পরিস্থিতিকে কটাক্ষ করেছেন। তিনি লিখেছেন, এই বয়সেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে একাই বিরোধী শিবিরের সমস্ত আলো নিজের দিকে কেড়ে নিচ্ছেন, তা সত্যিই লক্ষ্যণীয়। তাঁর মতে, আইনি লড়াইয়ে জয়-পরাজয় বা মামলার টেকনিক্যাল বিষয়গুলো মুখ্যমন্ত্রীর কাছে গৌণ; তাঁর আসল লক্ষ্য হলো মিডিয়ার নজর কেড়ে নেওয়া এবং নিজেকে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা। একটি প্রো-অ্যাক্টিভ বিরোধী দল বা নেতার ইমেজ যেভাবে তৈরি হওয়া উচিত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঠিক সেটুকুই অত্যন্ত নিপুণভাবে করে চলেছেন। মামলার মেরিট কী হলো, তার চেয়েও বড় কথা হলো সব চ্যানেলে ওনাকে নিয়েই খবর হচ্ছে আর এটাই সম্ভবত ওনার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বলে অভিনেতা ইঙ্গিত দিয়েছেন।
তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মলগ্ন থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন দলটির প্রধান স্তম্ভ। অরিত্র তাঁর পোস্টে এই সত্যটিকেই মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, তৃণমূল দলটির অস্তিত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরেই শুরু হয়েছিল। অভিনেতার দাবি, তৃণমূল মানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি যতদিন সক্রিয় রাজনীতিতে বা ময়দানে থাকবেন, ততদিনই এই দলের অস্তিত্ব বজায় থাকবে। কিন্তু দলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অরিত্রর ভবিষ্যদ্বাণী অত্যন্ত রূঢ়। তিনি মনে করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবর্তমানে এই দলটি ধীরে ধীরে ইতিহাসের পাতায় বিলীন হয়ে যাবে, কারণ তাঁর উত্তরসূরি বা যাদের হাতে ভবিষ্যৎ দায়িত্ব ন্যস্ত, তারা রাজনৈতিক বুদ্ধিতে একেবারেই অদক্ষ।
আরও পড়ুনঃ ১২ বছর পর ভেসে এল ‘দারু ব্রহ্ম’! সামান্য ত্রুটিতেই মহা সর্বনাশ! অশুভ শক্তির ছায়ায় কি ধ্বংস হবে নবদ্বীপ? প্রকাশ্যে তারে ধরি ধরি মনে করি ধারাবাহিকের নতুন প্রোমো!
নিউজ আর্টিকেলের শেষ পর্যায়ে অভিনেতার সেই বক্তব্যের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন, যেখানে তিনি তৃণমূলের বর্তমান ‘প্রজন্ম’ বা পরবর্তী নেতৃত্বকে সরাসরি ‘অকেজো’ বলে দাগিয়ে দিয়েছেন। অরিত্রর মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাদের ওপর আগামীর ভরসা রাখছেন, তাদের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা বা লড়াইয়ের ক্ষমতা—কোনোটাই বর্তমান নেত্রীর সমতুল্য নয়। রাজনৈতিক বুদ্ধিতে তাদের ‘ফালতু’ বলে সম্বোধন করে তিনি স্পষ্ট করতে চেয়েছেন যে, ব্যক্তি মমতার ক্যারিশমা বাদ দিলে দলের ঝুলিতে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। অরিত্রর এই পোস্টটি যেমন তৃণমূলের জন্য অস্বস্তিকর, তেমনই রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিয়েছে।

