‘আমাকে লা’থি মেরে বের করে দেবেন…’ ‘আমি বাংলা মিডিয়ামে পড়েছি আর আমার মুখে ব্রণ আছে বলে আমাকে…’ পেশা থেকে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অকপটে ইমন চক্রবর্তী!

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারকাদের নিয়ে ট্রোল করা বা খাটো করে দেখা এখন যেন একটা ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এবার সেই জাজমেন্টাল মানসিকতার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন জাতীয় পুরস্কার জয়ী জনপ্রিয় বাঙালি গায়িকা ইমন চক্রবর্তী (Iman Chakraborty)। একটি পডকাস্টে এসে তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, মানুষ যেন তাঁর রূপ বা ব্যাকগ্রাউন্ড না দেখে, শুধুমাত্র তাঁর গান দিয়ে তাঁকে বিচার করেন। নিজের মফস্বলের পরিচয় বা বাংলা মিডিয়ামে পড়াকে তিনি কোনো খামতি মনে করেন না, বরং এগুলোই তাঁর আসল শক্তি।

গায়িকা ইমন চক্রবর্তী সম্পর্কে আমরা সবাই কমবেশি জানি। হাওড়া জেলার এক সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে আজ তিনি বাংলা সংগীত জগতের অন্যতম সেরা তারকা। ২০১৬ সালে ‘প্রাক্তন’ সিনেমার “তুমি যাকে ভালোবাসো” গানের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ গায়িকা হিসেবে ভারতের সবচেয়ে সম্মানজনক ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’ পান। রবীন্দ্রসংগীত থেকে শুরু করে ‘রঙ্গবতী’-র মতো জনপ্রিয় লোকসংগীত কিংবা আধুনিক সিনেমা ও অ্যালবামের গান সব জায়গাতেই তাঁর কণ্ঠের জাদু শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছে। স্টেজে গান গাওয়া থেকে শুরু করে টিভির জনপ্রিয় রিয়ালিটি শো-এর বিচারক হিসেবে তিনি আজ অত্যন্ত সফল।

সম্প্রতি ইন্টারনেটে ভাইরাল হওয়া একটি ছোট ভিডিওতে ইমন সমাজের তথাকথিত আধুনিক বা শহুরে মানসিকতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, “তুমি আমার জাজ করো কাজ দিয়ে।” অর্থাৎ, একজন শিল্পী হিসেবে তিনি কেমন গান গাইছেন, গানটা ভালো হচ্ছে নাকি খারাপ সেটা নিয়ে সাধারণ মানুষ বা শ্রোতারা অবশ্যই সমালোচনা করতে পারেন। কিন্তু গানের বাইরে গিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন বা চেহারা নিয়ে কথা বলার অধিকার কারও নেই।

ভিডিওটিতে ইমন নিজের জীবনের কিছু বাস্তব কথা অকপটে স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তিনি মফস্বলের মেয়ে, তাঁর মুখে ব্রন আছে এবং তিনি বাংলা মিডিয়াম বা বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনা করেছেন। আজকালকার দিনে অনেকেই ইংরেজি মাধ্যমে না পড়লে বা নিখুঁত গায়ের চামড়া না থাকলে মানুষকে ছোট চোখে দেখেন। ইমন এই ধরনের মানসিকতাকেই সরাসরি আঘাত করেছেন। তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, বাহ্যিক চাকচিক্য বা ইংরেজি জানাটাই জীবনের শেষ কথা নয়।

আরও পড়ুনঃ’ এর সঙ্গে থাকা অসম্ভব…’ ‘ভীষণ বোরিং লেগেছিল…’ কি দেখে অসম্ভবটাকে সম্ভব করেছিলেন গায়িকা? স্বামী নিলাঞ্জনকে নিয়ে অকপটে ইমন চক্রবর্তী!

ভিডিওর শেষে ইমন এক দারুণ অনুপ্রেরণামূলক বার্তা দিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মফস্বলের পরিচয় বা বাংলা মাধ্যমে পড়া তাঁর জীবনের কোনো দুর্বলতা নয়, বরং এটাই তাঁর আসল শক্তি বা পাওয়ার। নিজের শিকড়কে ভুলে না গিয়ে, সেটাকে বুক চিতিয়ে গর্বের সাথে মেনে নেওয়ার নামই যে আসল সাফল্য, ইমনের এই কথাগুলো তারই প্রমাণ। মাত্র ২৪ সেকেন্ডের এই ভিডিওটি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় দারুণ ভাইরাল এবং ইমনের এই স্পষ্ট জবাব সাধারণ মানুষের মন জয় করে নিয়েছে।

Back to top button