‘উনি সেদিন ফোনে…’- মুনমুনকে ফোন করে কী বলেছিলেন প্রসেনজিতের মা? স্মৃতি মন্থন করে কি বললেন অভিনেত্রী?

সম্প্রতি পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় ও পিয়া চক্রবর্তীর পুত্রের অন্নপ্রাশন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলা ছবির সুপারস্টার প্রসেনজিত্ চট্টোপাধ্যায়। সেই পারিবারিক পরিবেশেই তাঁর সঙ্গে দেখা হয় মুনমুন সেন ও রাইমা সেনের। হাসি গল্প আর স্মৃতিচারণার মধ্যেই প্রসেনজিত জানালেন, মা ও মেয়ে দুই প্রজন্মই কোনও না কোনও সময়ে তাঁর নায়িকা হিসেবে কাজ করেছেন। রাইমাকে তিনি আদর করে এখনও বালি বলেই ডাকেন, কারণ ঋতুপর্ণ ঘোষ পরিচালিত চোখের বালি ছবিতে রাইমাই ছিলেন তাঁর সহ অভিনেত্রী। এই ছোট্ট কথোপকথনের মাঝেই উঠে আসে এক গভীর মানবিক গল্প।
প্রসেনজিত সেই সময়ের কথা বলতে গিয়ে জানান, তখন তাঁর বয়স ছিল কম এবং একটি ছবির শুটিংয়ে যাওয়ার আগে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। ছেলের শারীরিক অবস্থার কথা ভেবে চিন্তায় পড়ে যান তাঁর মা। কিন্তু পরিস্থিতি এমন ছিল না যে প্রযোজনা সংস্থা তাঁকে শুটিংয়ে সঙ্গে নিয়ে যেতে পারবে। ছেলের পাশে নিজে থাকতে না পারার কষ্ট আর উদ্বেগ থেকেই তিনি এক সাহসী সিদ্ধান্ত নেন এবং ফোন করেন সেই ছবির নায়িকা মুনমুন সেনকে।
ফোনে প্রসেনজিতের মা খুব সাধারণ অথচ হৃদয়ছোঁয়া অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, আমাকে ওঁরা বুম্বার সঙ্গে যেতে দেবে না, তাই ওর দিকে একটু খেয়াল রাখার অনুরোধ রইল। একজন মায়ের এই সরল বিশ্বাস আর ভরসার কথাই মুনমুন সেন গভীরভাবে মনে নিয়েছিলেন। সেই মুহূর্ত থেকে সহ অভিনেত্রী নয়, বরং অভিভাবকের মতোই যত্ন নিতে শুরু করেন তিনি।
প্রসেনজিত নিজেই জানান, মুনমুন সেন তাঁর অসুস্থতার সময় এক মুহূর্তের জন্যও দায়িত্বে কোনও খামতি রাখেননি। শরীর ভালো রাখার জন্য গরম দুধ পাঠানো থেকে শুরু করে বারবার খোঁজ নেওয়া, সব কিছুই করেছিলেন নিঃস্বার্থভাবে। এত বছর পেরিয়ে গেলেও সেই শুটিংয়ের দিনগুলোর কথা আজও তাঁর মনে গেঁথে রয়েছে। এত যত্ন আর ভালোবাসা ভুলে যাওয়া অসম্ভব বলেই জানান অভিনেতা।
আরও পড়ুনঃ শ্রীময়ীর কোলে কাঞ্চন! ‘তুই বউয়ের কথায় নাচিস, বউ তোকে ভালোই নাচায়…’- দম্পতির গোপন রহস্য ফাঁ’স করলেন রচনা!
এই স্মৃতির কথা বলতে বলতেই আবেগে মুনমুন সেনকে আলিঙ্গন করেন প্রসেনজিত। উপস্থিত সকলেই এই গল্প শুনে মুগ্ধ হয়ে যান, বিশেষ করে রাইমা সেন। প্রসেনজিত আরও জানান, মুনমুনের তুলনায় তিনি রাইমার সঙ্গে বেশি ছবিতে কাজ করেছেন। তবে এই গল্প প্রমাণ করে দেয়, ক্যামেরার আড়ালেও বাংলা ছবির জগতে সম্পর্কগুলো কতটা আপন আর মানবিক হতে পারে।

