‘মায়ের সবকিছুই ব্যক্তিগত…’ ‘মাকে নিয়ে কথা বলার সময় গোপনীয়তা বজায় রাখতে হতো, কারণ…’ সুচিত্রা সেনের কোন কথা গোপন রাখতেন মুনমুন সেন?

বাংলা সিনেমার ইতিহাসের সবচেয়ে রহস্যময়ী এবং আইকনিক অভিনেত্রী সুচিত্রা সেন (Suchitra Sen)। পর্দায় তার জাদুকরী উপস্থিতি আজও দর্শকদের মুগ্ধ করে। কিন্তু ক্যামেরা বা লাইট বন্ধ হওয়ার পর মহানায়িকা কেমন ছিলেন? সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের মা সুচিত্রা সেনের ব্যক্তিগত জীবন, তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং তৎকালীন সিনেমা জগতের নানা স্মৃতি রোমন্থন করেছেন অভিনেত্রী মুনমুন সেন।
মুনমুন সেন স্পষ্ট করেছেন যে, তার মা সুচিত্রা সেন ব্যক্তিজীবনে কতটা আড়ালে থাকতে পছন্দ করতেন। তিনি বলেন, ‘মা খুবই ব্যক্তিগত মানুষ ছিলেন, ভীষণ ব্যক্তিগত’। মুনমুন সেন তার শৈশবের স্মৃতিচারণ করে জানান, মা-মেয়ের সম্পর্ক ছিল খুব নিবিড়। তারা একসাথে খাওয়া-দাওয়া করতেন এবং একসাথে বই পড়তেন।
সুচিত্রা সেন ছিলেন এমন এক তারকা যার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মানুষের কৌতূহলের শেষ ছিল না। বিশেষ করে, দীর্ঘ ক্যারিয়ারের পর যখন তিনি স্বেচ্ছায় অন্তরালে চলে গেলেন, তখন সেই কৌতূহল আরও বেড়ে যায়। মুনমুন সেনকে শৈশব থেকেই এই দুই জগতের মাঝে ভারসাম্য বজায় রাখতে হয়েছে। বাইরের জগতের কৌতূহলী চোখ থেকে মায়ের ব্যক্তিগত সময় ও মুহূর্তগুলোকে রক্ষা করা তার জন্য একটি নিত্যদিনের দায়িত্ব ছিল। মুনমুন সেন জানান, সুচিত্রা সেনের মতো একজন কিংবদন্তি অভিনেত্রীর কন্যা হিসেবে বড় হওয়া এবং পরবর্তীকালে নিজে অভিনয় জগতে আসার পর মায়ের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করা ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, ‘আমাকে মানসিকভাবে সবসময় প্রস্তুত থাকতে হতো, যাতে মায়ের কোনো ব্যক্তিগত কথা বা গোপনীয়তা ফাঁস না হয়ে যায়’।
সাক্ষাৎকারে মুনমুন সেন তৎকালীন চলচ্চিত্র শিল্পের এক উজ্জ্বল রূপ তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, সেই সময়ে তারকাদের জনপ্রিয়তা ছিল আকাশচুম্বী। তারা পরিবার নিয়ে গাড়িতে করে ড্রাইভে যেতেন এবং মুক্তির প্রথম দিনেই সিনেমাটি ‘হাউসফুল’ হলো কি না, তা দেখার জন্য হলে যেতেন। এটি ছিল সেই সময়ের জনপ্রিয় সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা আজ অনেকটাই বদলে গেছে।
আরও পড়ুনঃ কমলিনীর আচরণে বিরক্ত নতুন! স্বামীর অবহেলায় কমলিনীর চোখে জল! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
একজন কিংবদন্তি অভিনেত্রীর কন্যা হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করা কখনোই সহজ নয়। মুনমুন সেনকে সবসময় মায়ের গোপনীয়তা রক্ষার গুরুদায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। এই চাপের মধ্যেও তিনি নিজের একটি আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন। মুনমুন সেনের উল্লেখ করেন এটি ছিল সুচিত্রা সেনের জীবনধারণের পদ্ধতি। কেন তিনি হঠাত চলচ্চিত্র জগৎ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিলেন এবং জনসাধারণের সামনে আসা বন্ধ করে দিলেন, তা নিয়ে অনেক জল্পনা থাকলেও, মুনমুন সেনের কথায় স্পষ্ট হয় যে, নিজের ব্যক্তিগত জগতকে বাইরের কোলাহল থেকে রক্ষা করাই ছিল তার মূল লক্ষ্য। এই গণ্ডির মধ্যেই মুনমুন সেন বড় হয়েছেন এবং মায়ের এই ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়েছেন।

