‘আমিই সেদিন ১ ঘণ্টা দেরি করেছিলাম, মুনমুন দি আমার সঙ্গে…’ ‘টাকা হলে আগে ওটা কেনো…’ ‘ওনার ব্যবহারে আমি…’ স্টুডিওয় ১ ঘণ্টা দেরিতে কাঞ্চনা মৈত্র! সেটে অভিনেত্রীকে দেখে কি বলেছিলেন মুনমুন সেন?

টলিউডের (Tollywood) অন্যতম জনপ্রিয় এবং শক্তিশালী অভিনেত্রী কাঞ্চনা মৈত্র (Kanchana Moitra) তাঁর সাবলীল অভিনয় এবং স্পষ্টভাষী ব্যক্তিত্বের জন্য দর্শকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। দীর্ঘদিনের কেরিয়ারে তিনি খলনায়িকা থেকে শুরু করে পজিটিভ চরিত্র সব ধরনের ভূমিকাতেই নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। সম্প্রতি একটি পডকাস্ট শোতে এসে এই গুণী অভিনেত্রী তাঁর কেরিয়ারের শুরুর দিনগুলোর এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলেন। পর্দার পেছনের এক টুকরো সোনালী অতীত এবং এক কিংবদন্তি অভিনেত্রীর মানবিক রূপ উঠে এল তাঁর কথায়।

কাঞ্চনা জানান, তাঁর জীবনের প্রথম মেগা সিরিয়াল ছিল দূরদর্শনের অত্যন্ত জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘পৌষ ফাগুনের পালা’। বর্তমান যুগের ওটিটি বা অসংখ্য বিনোদন চ্যানেলের ভিড়ে তখনকার দূরদর্শনের আবেদন ছিল সম্পূর্ণ অন্যরকম। সেই সময়ে দূরদর্শনের কোনো প্রজেক্টে অভিনয় করার সুযোগ পাওয়া যেকোনো শিল্পীর কাছে ছিল এক পরম প্রাপ্তি। দূরদর্শনের পর্দায় সুযোগ পাওয়ার জন্য সে যুগের অভিনেতা-নেত্রীরা রীতিমতো মুখিয়ে থাকতেন এবং এই ধারাবাহিকে কাজ পাওয়াই কাঞ্চনার কেরিয়ারের এক বড় টার্নিং পয়েন্ট ছিল।

এই ধারাবাহিকে অভিনয় করার সময়ই টলিউড ও বলিউডের চিরসবুজ গ্ল্যামার কুইন মুনমুন সেনের সাথে কাজ করার সুযোগ পান কাঞ্চনা। ধারাবাহিকে তিনি মুনমুন সেনের বোনের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। কাঞ্চনা জানান, সেই সময়ে আজকের মতো প্রযুক্তির এত বাড়বাড়ন্ত ছিল না, এমনকি তাঁর নিজের কোনো মোবাইল ফোন বা যাতায়াতের জন্য নিজস্ব গাড়িও ছিল না। শুটিংয়ের জন্য ইন্দ্রপুরী স্টুডিওতে যাওয়ার পথে হলুদ ট্যাক্সির ভরসায় থাকতে গিয়ে একদিন তিনি স্টুডিওতে পৌঁছাতে প্রায় এক ঘণ্টা দেরি করে ফেলেন, যেখানে মুনমুন সেনের সাথেই তাঁর দুটি গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য শুট করার কথা ছিল।

সিনিয়র সুপারস্টারের কল-টাইম থাকা সত্ত্বেও নতুন অভিনেত্রীর এক ঘণ্টা দেরি করে আসায় সাধারণত সেটের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠার কথা ছিল। কিন্তু মুনমুন সেনের ব্যবহারে কাঞ্চনা সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে যান। তিনি জানান, মুনমুন সেন বিন্দুমাত্র রাগ না করে অত্যন্ত মিষ্টিভাবে তাঁকে কাছে টেনে নিয়েছিলেন। সে যুগে মোবাইল ফোন সবেমাত্র বাজারে আসতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি বুঝে মুনমুন সেন তাঁকে স্নেহভরে পরামর্শ দিয়ে বলেছিলেন, “বাবু, টাকা-পয়সা হলে তুমি পরে একটা মোবাইল নিও।” সিনিয়র অভিনেত্রীর এই সহমর্মিতা ও অমায়িক আচরণ কাঞ্চনার মন ছুঁয়ে গিয়েছিল।

আরও পড়ুনঃ সই করার ঠিক আগের মুহূর্তেই রহস্যময় চিঠি! একটা চালেই উল্টে গেল সায়ন্তনের পরিকল্পনা! খু’নের চক্রান্ত ভেস্তে দিতে শুরু উজির নতুন খেলা! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

কাঞ্চনার মতে, মুনমুন সেনকে যাঁরা কেবল বাহ্যিক সৌন্দর্য রূপের জন্য চেনেন, তাঁরা ওঁর ভেতরের আসল মানুষটাকে সম্পূর্ণ চেনেন না। পর্দার পেছনের মুনমুন সেন অত্যন্ত ভালো মনের একজন মানুষ, যিনি কখনোই কারও পেছনে লাগেন না বা পরনিন্দা-পরচর্চায় মেতে ওঠেন না। এর পাশাপাশি তিনি অসম্ভব বিদুষী এবং বই পড়তে ভালোবাসেন। কাঞ্চনা স্মৃতিচারণ করে বলেন, একবার এক সাক্ষাৎকারে মুনমুন সেনকে তাঁর মতো সুন্দরী হওয়ার রহস্য জিজ্ঞেস করা হলে তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, “পড়াশোনা করো, বই পড়ো।” এই কথাটি কাঞ্চনার মনে গভীরভাবে দাগ কেটেছিল, যা আজও তিনি ভোলেননি।

Back to top button