সই করার ঠিক আগের মুহূর্তেই রহস্যময় চিঠি! একটা চালেই উল্টে গেল সায়ন্তনের পরিকল্পনা! খু’নের চক্রান্ত ভেস্তে দিতে শুরু উজির নতুন খেলা! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) অন্যতম জনপ্রিয় এবং চর্চিত ধারাবাহিক হলো ‘জোয়ার ভাঁটা’ (Jowar Bhanta)। ধারাবাহিকের গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, উজির মৃত্যুর জন্য কোনো কিছু বিচার-বিবেচনা না করেই সম্পূর্ণভাবে নিশাকে দায়ী করে ঋষি। ক্ষোভ ও উত্তেজনায় অন্ধ হয়ে সে তড়িঘড়ি একটি সাংবাদিক সম্মেলন ডাকে এবং সবার সামনে ঘোষণা করে দেয় যে নিশাই উজির খুনি। সে নিশার কঠোরতম শাস্তির দাবি জানায়। শুভেন্দু চক্রবর্তী, দাদু, এমনকি জিৎও ঋষিকে বোঝানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল যে কোনো জোরালো প্রমাণ ছাড়া সংবাদমাধ্যমের সামনে এমন গুরুতর অভিযোগ করা ঠিক নয়। কিন্তু কারও কোনো যুক্তি শুনতেই রাজি ছিল না ঋষি। তার মনে দৃঢ় বিশ্বাস জন্মেছে যে, উজির সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ থাকার কারণেই নিশা এই চরম কাণ্ডটি ঘটিয়েছে।
অন্যদিকে, নিজের আসল পরিকল্পনা অনুযায়ী উজি কৌশলে নিশাকে হাসপাতালে ডেকে পাঠায়। কোনো রকম সন্দেহ এড়াতে উজি নিজে নার্সের ছদ্মবেশ ধারণ করে নিশার সঙ্গে দেখা করতে যায়। সেখানে নিশা উজির কাছে একটি বড় সত্য স্বীকার করে। সে জানায় যে, বিল্ডিং বিস্ফোরণের ঘটনার পেছনে সত্যিই তার হাত ছিল, তবে সে নিজের ইচ্ছেয় এটা করেনি। শুভেন্দু চক্রবর্তীর নির্দেশ এবং চাপের মুখে পড়েই তাকে বাধ্য হয়ে এই অপরাধমূলক কাজ করতে হয়েছিল। নিশার মুখে এই কথা শুনে ছদ্মবেশী উজিও মনে মনে ভীষণ অবাক হয়ে যায়। কিন্তু দুই বোনের এই গোপন কথোপকথনের মাঝেই আচমকা হাসপাতালের পরিস্থিতি বদলে যায়।
ঠিক সেই মুহূর্তেই জিৎ এসে বাসু ডাক্তারকে জানায় যে সে নিশার সঙ্গে দেখা করতে চায়। ডাক্তারের অনুমতি পাওয়া মাত্রই নিশা ও উজি বুঝতে পারে যে তারা বড় বিপদে পড়তে চলেছে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দরজা খুলে ঘরে ঢুকে পড়ে জিৎ, আর তাতেই কেবিনের ভেতরের উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। এর মাঝেই নিশার চিকিৎসা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন দেখা দেয়। নিশাকে ভালোভাবে পরীক্ষা না করেই ডাক্তারবাবু জানিয়ে দেন যে তার অ্যাপেন্ডিক্সের অপারেশন পর্যন্ত করতে হতে পারে এবং তড়িঘড়ি একটি ইনজেকশনও দিয়ে দেওয়া হয়। অথচ পরে জানা যায়, নিশার পুরো অসুস্থতাই ছিল আসলে অভিনয়। যে জালিয়াতি একজন ডাক্তার ধরতে পারলেন না, সেটা জিৎ, উজি ও ঋষিরা সহজেই ধরে ফেলে। এর আগেও এই ডাক্তার নিশাকে কোমা নিয়ে ভুল তথ্য দিয়েছিলেন, তাই তার সততা নিয়ে এখন বড়সড় সন্দেহ তৈরি হচ্ছে।
হাসপাতালের এই নাটকের সমান্তরালে, উজি আর জিৎ এখনও পর্দার পেছনের আসল অপরাধীকে হাতেনাতে ধরার জন্য দিনরাত এক করে প্রমাণ জোগাড়ের চেষ্টা চালাচ্ছে। এই তদন্তের মাঝেই উজি একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক ও বিস্ফোরক তথ্য জানতে পারে। সে জানতে পারে যে, ডার্ক ওয়েবে তাকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার জন্য, অর্থাৎ খুন করার জন্য মোটা অঙ্কের সুপারি দেওয়া হয়েছিল। তবে এত বড় একটা চক্রান্তের কথা জানার পরও, উজির মনে কেন একবারের জন্যও সায়ন্তনের নাম বা তার প্রতি সন্দেহ জাগল না, সেই রহস্যটা কিন্তু এখনও কাটছে না এবং দর্শকদের মনেও বড় প্রশ্ন রেখে যাচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ ‘রচনা যেটা বলতে চেয়েছিল সেটা বোঝাতে পারেনি!’ ‘পলিটিক্স করে ফ্ল্যাট কেনেনি, বোঝাতে গিয়ে ও যোগ্যতা নিয়ে…’ ‘রাগের মাথায় দু-এক লাইন এদিক-ওদিক হতেই পারে…’ বিতর্কের মাঝে অভিনেত্রীর পাশে ভরত কল! রচনা ব্যানার্জিকে নিয়ে কি বললেন অভিনেতা?
আগামী পর্বের আগাম ঝলকে দেখা যাবে, ঈষিকার কথামতো খেয়া কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নিয়ে ঋষির কাছে হাজির হয়, যাতে ঋষি সেখানে সই করে দেয়। কিন্তু ঋষি কলম ধরার ঠিক আগের মুহূর্তেই জানালার বাইরে থেকে ঘরের ভেতরে একটি চিঠি ছুড়ে দেয় উজি। সেই রহস্যময় কাগজটা হাতে পাওয়া মাত্রই ঋষি সই করা থামিয়ে দেয় এবং পুরোপুরি থমকে যায়। চিঠিতে ঠিক কী লেখা ছিল তা পরিষ্কার না হলেও, এটা স্পষ্ট যে ওই চিঠিটাই ঋষিকে সই করা থেকে আটকে দিয়েছে। খেয়া আর সায়ন্তন এই ঘটনায় হকচকিয়ে গেলেও চিঠিটা কে পাঠাল তা বুঝতে পারে না। এর পরেই অন্য এক জায়গায় বসে উজিকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে শোনা যায় যে, সে অবশেষে আসল প্রমাণ পেয়ে গেছে এবং এবার সে সম্পূর্ণ অন্যভাবে নিজের খেলা শুরু করতে চলেছে।

