কঠিন সময় পেরিয়ে কাজের সুযোগ! ধারাবাহিক শেষ হতেই আবারও দুশ্চিন্তায় মৈত্রী মিত্র! ফুরিয়েছে জমানো পুঁজি, বেড়েছে অনিশ্চয়তা!

টেলিভিশনের পরিচিত মুখ মৈত্রী মিত্র (Moitree Mitra)। বাংলা ছোটপর্দায় একাধিক জনপ্রিয় ধারাবাহিকে কাজ করেছেন তিনি। ‘সুবর্ণলতা’, ‘ওগো বধূ সুন্দরী’, ‘গোয়েন্দা গিন্নি’, ‘শোলোক শাড়ি’, ‘তিতলি’, ‘উমা’ সহ নানা সিরিয়ালে তাঁকে দেখা গেছে বিভিন্ন চরিত্রে। বহু বছর ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করলেও বর্তমানে কোন ধারাবাহিকেই নিয়মিত নন তিনি। সম্প্রতি যে কাজটি করছিলেন, সেটিও সবে শেষ হয়েছে। ফলে অনিশ্চয়তাই এখন তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় বাস্তবতা।
এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে মৈত্রী খোলাখুলি স্বীকার করেছেন, অনেকদিন তিনি সম্পূর্ণ কাজহীন অবস্থায় ছিলেন। সেই সময়টায় আর্থিকভাবে ভীষণ সমস্যার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। দীর্ঘ বিরতির পর যে কাজটি হাতে পেয়েছিলেন, সেটি শেষ হয়ে যাওয়ায় নতুন করে দুশ্চিন্তা ফিরে এসেছে। তাঁর কথায়, জীবনে যে পরিমাণ আর্থিক সংকট এক সময়ে নেমে এসেছিল, তার পূর্ণ সমাধান এখনও হয়নি। বিষয়গুলো খুবই ব্যক্তিগত হওয়ায় সবার সামনে সবকিছু বলা যায় না, তাই অনেকটা কষ্টই তাঁকে নিজের ভেতরে চেপে রাখতে হয়।
মাসের পর মাস একটি ধারাবাহিকে কাজ করার পর শুটিং শেষ হয়ে গেলে, সেই শূন্যতা মেনে নেওয়া সহজ নয় বলেই জানিয়েছেন মৈত্রী। আগে এই অবস্থায় তিনি ভেঙে পড়তেন, প্রায়ই কেঁদে ফেলতেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই পেশায় থেকে ধীরে ধীরে নিজেকে শক্ত করেছেন। এখন মন ভেঙে গেলেও, সেই কান্না আর তিনি প্রকাশ করেন না। তবু ভিতরে ভিতরে চলতে থাকা লড়াইটা কিন্তু থামে না।
প্রতিবার কোনো ধারাবাহিক শেষ হয়ে গেলে, অথবা গল্পের প্রয়োজনে তাঁর চরিত্রের আর দরকার না পড়লে, একটা প্রশ্ন বারবার তাড়া করে তাঁকে, যদি আরও দু’দিন কাজ করা যেত, কত ভালো হতো! কাজ কমে যাওয়ার এই সময়ে কখনও কখনও নিজেকেই হারিয়ে ফেলেন মৈত্রী, কারণ যেটা তাঁর সবচেয়ে ভালোবাসার জায়গা, সেই সেটে, সেই চরিত্রগুলোর কাছাকাছি তিনি বেশিদিন থাকতে পারেন না। অল্প সময়ে কাজ শেষ হয়ে যায়, আর অনিশ্চয়তার অন্ধকার আবার ঘনিয়ে আসে।
আরও পড়ুনঃ ডিভোর্স এখন অতীত! জিতু বিতর্কের মাঝেই আদুরে চু’ম্বনে নজর কাড়লেন নবনীতা! কি চলছে অভিনেত্রীর জীবনে?
অভিনেত্রী পরিষ্কার জানিয়েছেন, বাইরে থেকে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের জীবন যতটা গ্ল্যামারাস আর ঝলমলে দেখায়, বাস্তবে তার পেছনে প্রচুর সংগ্রাম লুকিয়ে থাকে। কাজের অনিশ্চয়তা, আর্থিক টানাপোড়েন, মানসিক চাপ এই লড়াইগুলো ভাষায় প্রকাশ করা সহজ নয়। তাঁর একটাই বড় চাওয়া, তিনি যেন কাজ করে যেতে পারেন, ধারাবাহিকভাবে কাজের অভাব যেন না হয়। কারণ কাজই তাঁর একমাত্র ভরসা, একমাত্র আত্মপরিচয়।

