লিভ ইন সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুললেন মিঠুন চক্রবর্তী! ‘একদমই ভালো লাগে না, ওসব…’- মমতা শংকরকে সমর্থন অভিনেতার? দাবি দর্শকদের!

বাংলা ও হিন্দি চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী বরাবরই নিজের জীবনদর্শন এবং মূল্যবোধ নিয়ে স্পষ্টবাদী। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে লিভ ইন সম্পর্ক প্রসঙ্গে মুখ খুলে আবারও সেই স্বভাবের পরিচয় দিলেন তিনি। আনন্দবাজার ডট কমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মিঠুন জানালেন, প্রেমের পর বিয়েই তাঁর কাছে চূড়ান্ত গন্তব্য। আজকের দিনে লিভ ইন সম্পর্ককে অনেকেই স্বাভাবিকভাবে দেখলেও, এই ধারণা তাঁর একেবারেই পছন্দ নয় বলে স্পষ্ট করে দিয়েছেন অভিনেতা।

মিঠুনের কথায়, কমিটমেন্ট মানে শুধু একসঙ্গে থাকা নয়, বরং দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। তিনি বলেন, কমিটমেন্টের মধ্যেও ভুলভ্রান্তি থাকতে পারে, সব কিছু নিখুঁত হয় না, সেটাও তিনি মানেন। কিন্তু বর্তমানে যেভাবে সম্পর্কের সংজ্ঞা বদলে যাচ্ছে, সেটাকে তিনি বাড়াবাড়ি বলেই মনে করেন। অভিনেতার মতে, এই বিষয় নিয়ে আরও অনেক কথা বলা যায়, তবে নিজের ক্ষেত্রে তিনি নিশ্চিতভাবে জানেন যে লিভ ইন তাঁর জন্য নয়।

ব্যক্তিগত জীবনেও মিঠুন চক্রবর্তী ভালোবাসা ও বিয়ের পথে হেঁটেছেন। যোগিতা বালির সঙ্গে প্রেম করে সংসার পেতেছিলেন তিনি। তাঁদের দাম্পত্য জীবন দীর্ঘদিন ধরে বলিউডে এক স্থিতিশীল সম্পর্কের উদাহরণ হয়ে আছে। যদিও কেরিয়ারের শুরুর দিকে তাঁর জীবনে সারিকা এবং পরে হেলেনা লুকের সঙ্গে সম্পর্কের কথা শোনা গিয়েছিল, তবে শেষ পর্যন্ত যোগিতা বালির সঙ্গেই তাঁর জীবনের স্থায়ী বন্ধন তৈরি হয়। বর্তমানে তাঁদের তিন ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে সুখের সংসার।

চলচ্চিত্র জীবনে মিঠুন চক্রবর্তী মানেই একাধিক যুগের সাক্ষী। ১৯৭৬ সালে মৃণাল সেনের মৃগয়া ছবি দিয়ে যাত্রা শুরু করে জাতীয় পুরস্কার জয়, তারপর চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ৩৫০টিরও বেশি ছবিতে অভিনয় সব মিলিয়ে এক অনন্য কেরিয়ার। অভিনেতা হিসেবেই নয়, প্রযোজক, নৃত্যশিল্পী, গায়ক, উদ্যোক্তা এবং সমাজসেবী হিসেবেও তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। পাশাপাশি রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও তাঁর উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য।

আরও পড়ুনঃ শার্লির জন্মদিনে বউকে ভালোবাসায় ভরিয়ে দিলেন অভিষেক! ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি বউ’- আবেগঘন বার্তায় ভাসল নেটপাড়া!

বর্তমানে বড়পর্দায় মিঠুনকে দেখা যাচ্ছে প্রজাপতি টু ছবিতে। এই ছবিতে আগের মতোই দেবের বাবার চরিত্রে তিনি, তবে গল্পের আবেগ আরও গভীর। এখানে দেব নিজেও এক ছোট মেয়ের বাবা। দুই প্রজন্মের বাবার সঙ্গে সন্তানদের সম্পর্ক এবং সন্তানদের জন্য একজন বাবা কতদূর যেতে পারেন, সেটাই ছবির মূল উপজীব্য। পারিবারিক মূল্যবোধ এবং দায়িত্ববোধের গল্প বলতেই যেন বাস্তব জীবন ও পর্দার জীবন মিলিয়ে এক বার্তা দিচ্ছেন মিঠুন চক্রবর্তী।

Back to top button