লড়াইয়ে পাশে থাকেনি কেউ, বাবা-মাও হাত ছেড়ে দিয়েছে! নিজের জীবন সংগ্রাম ভাগ করে নিলেন মিমি

বর্তমানে বাংলা চলচ্চিত্র জগতের একজন উজ্জ্বল তারকা হিসেবে নিজেকে সফলভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে জনপ্রিয় অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী (Mimi Chakraborty)। বহু বছর ধরে নিজের অসামান্য দক্ষতার পরিচয় দিয়ে চলেছেন এই অভিনেত্রী। একের পর এক হিট মুভি বাংলার দর্শকদের উপহার দিয়েছেন তিনি। তবে তার জীবনের শুরুটা এতটা সহজ ছিল না। অনেক প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে অনেক কঠিন সময় অতিক্রম করে তিনি আজ সফলতার শীর্ষে নিজেকে স্থাপন করতে পেরেছেন।

বর্তমান চলচ্চিত্র জগত যেখানে নেপোটিজমে ভরপুর সেখানে কোন রকম সুযোগ-সুবিধা ছাড়াই কেবল পরিশ্রমকে সঙ্গী করে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে জলপাইগুড়ির একটি ছোট্ট শহরের মেয়ে মিমি। আর পাঁচজন সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ের মতোই বেড়ে উঠেছেন তিনি। পরিবার, পাড়া, গতে বাঁধা চিন্তাভাবনার বিরুদ্ধে লড়াই করে আজ সেই মেয়েটিই বাংলার পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন। কিছুদিন আগে পর্যন্ত সাংসদও ছিলেন।

নিজের লড়াইয়ের কথা নিজের কলমে এক জনপ্রিয় সংবাদপত্রে লিখেছেন মিমি। একদম ছোট থেকেই এত নিয়মমাফিক জীবন তার পছন্দ ছিল না। দিদির সাথে অনেকবার তার তুলনা টেনে তার ছোট্ট শিশু মনকে আঘাত করা হয়েছে কারণ তার দিদি সংগীত শিল্প থেকে শুরু করে পড়াশোনা সবেতেই ছিল তুখোর। অভিনেত্রী বেশ আফসোসের সুরে বলেন, “কেউ আসে না আমার খেলা দেখতে, জয় দেখতে, বাবাও না, মাও না। তাঁদের সব চিন্তার কারণ আমি। বড়দের কথা শুনি না, হাফ প্যান্ট পরি।”

পাড়ার লোকজনের কান ভাঙানিও কম শুনতে হয়নি তাকে। মিমি লিখেছেন, কাবাডি থেকে শুরু করে অন্যান্য খেলা সবেতেই তার দক্ষতা ছিল। তবে তার পাওয়া প্রথম মেডেলগুলো এখন বোধহয় হারিয়েই ফেলেছে তার পরিবার। খেলা-ধুলোয় তাঁর প্রথম হওয়ার মেডেল যদি তিনি এখন খুঁজতেও বসেন, হয়ত পাবেন না। এই লড়াইয়ে ঈশ্বর ছাড়া তার পাশে আর কেউ ছিল না। ঈশ্বরেই প্রতি অগাধ ভাষা ছিল তার। তার বড়পিসির মেয়ের বিয়েতেই তিনি প্রথম পা রেখেছিলেন কলকাতার বুকে। তখন থেকেই এই শহরেই থেকে পড়াশোনা করার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। জলপাইগুড়ি কলেজে যাতায়াত করতে কত টাকা রিকশা ভাড়া লাগবে সেই নিয়ে চিন্তিত তার মা আর মিমি সেখানে কলকাতার বুকে থাকার চিন্তায় মগ্ন। মিমির বায়নার সঙ্গে এক্কেবারেই সহমত ছিলেন না তাঁর মা।

আরো পড়ুন: ভয়ংকর দুর্ঘটনায় মর্মান্তিক পরিণতির শিকার অভিনেতা সায়ক চক্রবর্তী! নিজেই জানালেন তিনি

তবে মিমিও কম জেদি নন। মিমির কথায়, “দুদিন খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলাম, বাড়ির লোক বাধ্য হয়েছিল।” তবে তারপরেও তাকে একটি শর্ত দেওয়া হয় আর সেটা হল পিসির বাড়ির কাছের কোন কলেজেই তাকে ভর্তি হতে হবে। মিমির কথায়, “মেয়েদের ক্ষেত্রে আসলে কোনও কিছুই সহজ হয় না… গ্রামের মেয়ে, কোনওদিনও অভিনয় হবে না। আজ সেই মুখগুলো দেখি না।” এখন সমাজমাধ্যমের পাতায় একটাই প্রশ্ন কবে বিয়ে করছেন অভিনেত্রী? মিনি জানান, তাঁর কাছে বাবা-মায়ের পরে আর কেউ নেই। “জীবন একার এ আমার অভিযোগ নয়, এ আমার শান্তির।”

Back to top button