‘বেঁচে থাকলে রাহুলই আজ সবচেয়ে বেশি প্রতিবাদ করতেন!’ রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃ’ত্যু! টলিউড নিয়ে বি’স্ফোরক মিমি চক্রবর্তী!

সম্প্রতি টলিউড (Tollywood) অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Banerjee) অকাল প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্টুডিও পাড়ায়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় বিনোদন জগতের সহকর্মীরা যেমন শোকাহত, তেমনই সেটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে প্রয়াত অভিনেতাকে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি টলিউডের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নিজের স্পষ্ট মতামত তুলে ধরেন অভিনেত্রী তথা প্রাক্তন সাংসদ মিমি চক্রবর্তী। রাহুলের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে যে ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সঞ্চার হয়েছে, মিমির কথাতেও তার প্রতিফলন লক্ষ্য করা গেছে।

রাহুলের ব্যক্তিত্বের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মিমি জানান যে, রাহুল ছিলেন একাধারে মেধাবী অভিনেতা এবং অন্যদিকে অত্যন্ত প্রতিবাদী একজন মানুষ। মিমি স্বীকার করেন যে, রাহুলের সাথে তাঁর খুব ঘনিষ্ঠ বা ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব ছিল না, কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় রাহুলের বিভিন্ন পোস্ট এবং তাঁর চিন্তাভাবনা মিমিকে বরাবরই প্রভাবিত করত। মিমির মতে, রাহুল যে কোনও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে দ্বিধা করতেন না। আজ রাহুলের জায়গায় যদি অন্য কোনও শিল্পী বিপদে পড়তেন, তবে রাহুল নিশ্চয়ই সবার আগে এগিয়ে আসতেন এবং প্রতিবাদ করতেন। রাহুলের এই স্পষ্টভাষী চরিত্রটিই তাঁকে ইন্ডাস্ট্রির অন্যদের থেকে আলাদা করে চিনিয়েছিল।

ভিডিওটিতে মিমির কথায় উঠে আসে শ্যুটিং সেটের পেশাদারিত্ব এবং নিরাপত্তার বিষয়টি। রাহুলের মৃত্যুর কারণ হিসেবে প্রোডাকশনের গাফিলতির যে অভিযোগ উঠেছে, সে প্রসঙ্গে মিমি বেশ গুরুত্বের সাথে নিজের বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, সিনেমা বা ধারাবাহিকের কাজে ফায়ার সিকুয়েন্স বা হারনেস ব্যবহারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দৃশ্য থাকতেই পারে, তবে সেখানে যথাযথ সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রোডাকশনের প্রাথমিক দায়িত্ব। মিমির মতে, একজন শিল্পী আহত হওয়া মানে কেবল তাঁর ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং তা প্রোডাকশনের কাজ এবং সময় উভয়েরই বড় ধরনের ক্ষতি। তাই কাজের জায়গায় কোনওরকম অবহেলা বা গাফিলতিকে প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয় বলে তিনি মনে করেন।

দুঃখের আবহের মাঝেই আসন্ন পয়লা বৈশাখ নিয়ে কিছুটা স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন অভিনেত্রী। ছোটবেলার নববর্ষের স্মৃতি ভাগ করে নিতে গিয়ে তিনি জানান, উত্তরবঙ্গে কাটানো তাঁর সেই দিনগুলোর কথা। মামার মিষ্টির দোকানে বসে মিষ্টি সাজানো, ক্যালেন্ডার সংগ্রহ করা আর দিদিমার দেওয়া নতুন জামা পরে ঘুরে বেড়ানোর দিনগুলো আজও তাঁর মনে অমলিন। তবে এখন কাজের ব্যস্ততা এবং প্রিয়জনদের হারানোর বিষাদ সেই আনন্দের আমেজকে কিছুটা ম্লান করে দিয়েছে। বর্তমান প্রজন্মের জন্য ফ্যাশন প্রসঙ্গে তিনি জানান, কলকাতার তীব্র গরমে সুতি বা লিনেনের মতো আরামদায়ক পোশাকই তাঁর প্রথম পছন্দ।

আরও পড়ুনঃ গোরার সম্মান রক্ষায় সিংহের মতো গর্জে উঠল দিতি! রক্তিমের বি’ষদাঁত ভাঙতে বদ্ধপরিকর অদ্বিতীয়া! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

সবশেষে, ইন্ডাস্ট্রির কাজের পরিবেশ উন্নত করার ওপর জোর দেন মিমি। তিনি জানান যে, তিনি ব্যক্তিগতভাবে বরাবরই এমন ব্র্যান্ড বা প্রোডাকশনের সাথে কাজ করতে পছন্দ করেন যারা সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রাখে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি নিরামিষাশী এবং নিজের বাগানে সময় কাটাতে ভালোবাসলেও, মিষ্টির প্রতি তাঁর দুর্বলতা আজও একই রকম আছে। রাহুলের মৃত্যু থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী দিনে টলিউড যাতে আরও সুরক্ষিত এবং দায়িত্বশীল হয়ে ওঠে, সেই বার্তাই মিমির বক্তব্যের মাধ্যমে উঠে এসেছে। বিনোদন জগতের এই কঠিন সময়ে শিল্পীদের একতাবদ্ধ হওয়া এবং কাজের অধিকার বুঝে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা এখন সব মহলেই আলোচিত হচ্ছে।

Back to top button