‘হাসপাতালে রুগীর সামনে ক্যামেরা কেন? বন্ধুরা দেখা করতে গিয়ে কনটেন্ট বানাচ্ছে? ফেসবুক খুললেই “৭৮টা ঘুমের ও’ষুধ খেয়েছে” বাচ্চারা কি শিখছে?’ এই যুগে সবকিছুই কি কনটেন্ট আর টাকা কামানোর উপায়? দেবলীনা কান্ডে বিরক্ত মানসী!

সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন একটাই আলোচনা দেবলীনা নন্দীর সাম্প্রতিক ঘটনার পর তিনি কতগুলি ঘুমের ওষুধ খেয়েছিলেন। মানুষের কৌতূহল যেন থামছেই না। কিন্তু এই প্রবণতাই এবার প্রশ্নের মুখে ফেললেন অভিনেত্রী মানসী সেনগুপ্ত। ফেসবুক লাইভে এসে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানালেন, একজন মানুষের মানসিক অবস্থা কেমন, তিনি কীভাবে সুস্থ হবেন বা তাঁর সমস্যার সমাধান কীভাবে হবে, সেই আলোচনা কোথাও নেই। বরং সংখ্যা আর গসিপ ঘিরেই তৈরি হচ্ছে কনটেন্ট। এই পরিস্থিতি দেখে তিনি গভীরভাবে হতাশ এবং ক্ষুব্ধ।

লাইভে মানসী বলেন, তিনি কখনও অপ্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে কথা বলেন না। কিন্তু এই বিষয়টি তাঁকে বাধ্য করেছে মুখ খুলতে। কারণ একজন অভিনেতা বা ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে তাঁর দায়িত্ব রয়েছে সমাজের প্রতি। মানুষ সোশ্যাল মিডিয়া দেখে প্রভাবিত হয়, বিশেষ করে শিশুরা। আজ চারদিকে যেভাবে বারবার বলা হচ্ছে কতগুলি ঘুমের ওষুধ খাওয়া হয়েছে, সেটাই কি ঠিক বার্তা দিচ্ছে সমাজকে এই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। সমস্যার সমাধান কি সত্যিই এমন পথ দেখানো।

অভিনেত্রীর মতে, কেউ মানসিকভাবে অসুস্থ হলে তার প্রয়োজন কাউন্সেলিং, আইনি সহায়তা বা পরিবারের পাশে থাকা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে হাসপাতালে গিয়ে ক্যামেরা অন করে ভিডিও বানানো হচ্ছে, ভ্লগ করা হচ্ছে। বন্ধুদের দেখা করাও যেন কনটেন্ট তৈরির অংশ হয়ে উঠেছে। মানসী প্রশ্ন তুলেছেন, সত্যিকারের সহানুভূতি থাকলে কি ক্যামেরা বন্ধ রেখে পাশে দাঁড়ানো উচিত নয়।

তিনি আরও বলেন, আমরা এক তরফা গল্প শুনেই রায় দিয়ে দিচ্ছি। দু পক্ষের কথা শোনা হচ্ছে না। আবার এই বিষয়গুলো আদৌ কি জনসমক্ষে আলোচনার? সম্পর্ক তৈরি বা ভাঙার সময় তো কেউ সমাজের অনুমতি নেয় না, তাহলে ভাঙনের সময় কেন সবাইকে জানাতে হবে। এতে অজান্তেই আর একজনকে চরম মানসিক চাপে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে না তো সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ আদৃতের বাজনার তালে রুবেলের নাচ! তাতে যোগ দিয়েছে উদয়-রণজয়! কি চলছে টলিপাড়ায়?

সবশেষে মানসী জানান, একজন মা হিসেবে তিনি ভয় পাচ্ছেন। তাঁর মেয়েও বড় হচ্ছে, অন্য শিশুদের মতো সেও সোশ্যাল মিডিয়া দেখছে। তারা কী শিখছে। সমস্যা হলে আইন, পুলিশ, চিকিৎসক রয়েছে। কিন্তু ঘুমের ওষুধ খাওয়াকে সমাধান হিসেবে দেখানো বা তা নিয়ে কনটেন্ট বানানো ভয়ংকর বার্তা দিচ্ছে। তাই এই প্রবণতা বন্ধ হওয়া জরুরি বলেই মনে করেন অভিনেত্রী।

Back to top button