অকেজো হাত নিয়েই টেনেছেন সংসার! গয়না বিক্রির টাকায় মিটিয়েছেন স্কুলের ফিস! বাবার আত্মত্যাগের কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ মানালি!

বাংলা টেলিভিশন (Television Serial) পর্দার একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় অভিনেত্রী হলেন মানালি দে (Manali Dey)। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরেই মানালিকে আমরা টেলিভিশনের পর্দায় বিভিন্ন ধারাবাহিককে অভিনয় করতে দেখতে পাচ্ছি। বউ কথা কও থেকে শুরু করে নকশি কাঁথা, ধূলোকণা-র মত একের পর এক জনপ্রিয় ধারাবাহিকে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন মানালি। শেষবার তাকে দেখা গিয়েছিল জি বাংলার কার কাছে কই মনের কথা ধারাবাহিকে। সেই ধারাবাহিক শেষ হয়েছে বেশ কয়েক মাস কেটে গিয়েছে। মানালিকে কেন পর্দায় দেখা যাচ্ছে না এতদিন সেই নিয়ে দর্শকদের মনে নানান রকম প্রশ্ন উঠেছিল।
সম্প্রতি গিয়েছে ফাদার্স ডে, সেই উপলক্ষেই দিদি নাম্বার ওয়ান এর মঞ্চে উপস্থিত ছিল টেলিভিশনের পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রীরা এবং সাথে ছিল তাদের প্রিয় বাবারা। ওই দিনে মঞ্চে প্রত্যেক অভিনেত্রী নিজেদের বাবাদের স্ট্রাগেল, কষ্ট সন্তানদের জন্য তাদের ত্যাগের কথা ভাগ করে নেন রচনা সঙ্গে।
সেরকমই মানালি ও নিজের বাবার সাথে এসে তার ছোটবেলার জীবনের গল্প সকলের সঙ্গে ভাগ করে নেন। মানালি জানান ছোটবেলায় অভিনেত্রীর বাবা অনেক কষ্ট করে অভিনেত্রীকে মানুষ করেছেন। কিন্তু সেই কষ্টটা কোনদিনও মানালিকে বুঝতে দেননি। হয়তো বাবা নিজের ইচ্ছে গুলো জলাঞ্জলি দিয়েই মানালির ইচ্ছে পূরণ করেছে তাই মানালি কোনদিনও নিজের ইচ্ছাগুলো অপূর্ব সেটা বুঝতেই পারেনি।
অভিনেত্রীর বাবা জানান ছোটবেলাতেই পোলিও রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। যার ফলে অভিনেত্রীর বাবার বা হাত অকেজো ছিল। সেই কারণে ছোটবেলাতেই বাবা তবলায় ভর্তি করেছিলেন তাকে। শুধুমাত্র হাতটা যাতে একেবারেই বসে না থাকে তার জন্য। সেই তবলা বাজানো একদিন পেশা হয়ে দাঁড়ায় মানালির বাবার। অসম্ভব ভালো তবলা বাজান তিনি। মানালি জানান ছোটবেলায় স্কুলের ফিস দিতে অনেক সময় সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। তখন তাদের অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে অভিনেত্রীর বাবাকে তার ছোটবেলার অন্নপ্রাশনের গয়না বেঁচে অভিনেত্রীর স্কুলের ফিস জমা দিতে হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ পূর্ণ হলো ছোট রানীর পাপের ঘড়া! ফুলকির কোপে শেষ হয়ে গেলো তিল তিল করে গড়ে তোলা সাম্রাজ্য!
তবে এখন বাবার পাশে সবসময় রয়েছেন মানালি। বাবাকে জানিয়ে দিয়েছেন যতটুকু কাজ তিনি করতে পারবেন ততটুকুই তিনি যেন কাজ করেন। বাকিটা মানালি সামলে নেবে। বাবার সাপোর্ট সিস্টেম হয়ে দাঁড়িয়েছে এখন মানালি। বাবার ২৪ ঘন্টা খেয়াল রাখে, বাবার যাতে কোন অসুবিধা না হয় সেই জন্য সাহায্য করার মহিলাও রয়েছে বাড়িতে।

