নেই র’ক্তের টান! তবুও সবাইকে তাক লাগাতে বাধ্য ভাই বোনের এই অটুট সম্পর্ক! কিভাবে এই পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ হলেন মানালি-শুভ্রজিৎ?

রক্তের সম্পর্কই যে জীবনের একমাত্র বন্ধন নয়, তা নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই বুঝেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা শুভ্রজিৎ দত্ত। প্রতি বছর ভাইফোঁটার সময় এই কথাটা আরও জোরে বাজে তাঁর মনে। কারণ, যাঁর কাছ থেকে তিনি ফোঁটা নেন, তিনি কোনও রক্তের বোন নন — তিনি অভিনেত্রী মানালি দে। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে এমন এক আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে তাঁদের মধ্যে, যা অনেক সময় রক্তের সম্পর্ককেও হার মানায়।
এই বন্ধনের শুরু হয়েছিল বহু বছর আগে, ‘বউ কথা কও’ ধারাবাহিকের সেটে। তখনই প্রথম আলাপ শুভ্রজিৎ ও মানালির। কাজের সূত্রে গড়ে ওঠা সম্পর্ক ধীরে ধীরে রূপ নেয় এক মধুর দাদাভাই-বোনের সম্পর্কে। শুভ্রজিৎ হাসতে হাসতে বলেন, “সব সম্পর্ককে সংজ্ঞা দিয়ে বাঁধা যায় না। মানালি কীভাবে আমার বোন হয়ে গেল, সেটা আজও বুঝে উঠতে পারিনি। আমি অনেক সময় সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগি, কিন্তু জানি — বোন আছে তো, সব সামলে নেবে।”
এই বন্ধনের গভীরতা বোঝা যায় ভাইফোঁটার দিনে। একবারও এই শুভ দিনে তাঁরা একে অপরকে ভুলে যাননি। শুভ্রজিৎ স্মিত হেসে বলেন, “এক বছর এমনও হয়েছে, আমি বাইরে শ্যুটে ছিলাম, তবুও গাড়িতে বসে ফোঁটা নিয়েছি। এমনকি একবার তো সবাই বেড়াতে গিয়েছিলাম, আমি ফোঁটার আগের দিনই ফ্লাইট ধরে ফিরে এসেছিলাম— শুধু মানালির ফোঁটা নেব বলে!”
যৌথ পরিবারে বড় হয়ে উঠলেও শুভ্রজিতের নিজের ঘরের বোনদের কাছ থেকে তেমন ফোঁটা পাওয়া হয়নি বলেই জানান তিনি। তাই হয়তো মানালির ফোঁটা তাঁর কাছে এতটা বিশেষ। “মানালি খুব বুদ্ধিমতী মেয়ে, ও আমাকে অনেক সময় গাইড করে। অনেকবার শ্যুটিং ফ্লোরেই ফোঁটা নিয়েছি ওর কাছ থেকে,” বলেন শুভ্রজিৎ, চোখে গর্ব আর স্নেহের ঝিলিক নিয়ে।
এই বছরও ভাইফোঁটার দিন দুইজনের সময় কাটবে ঠিক আগের মতোই— হাসি, খুনসুটি আর ভালোবাসায় ভরা। কী উপহার দেবেন প্রিয় বোনকে? প্রশ্ন শুনে হেসে ফেললেন শুভ্রজিৎ, “নিজের বোন তো, ওর জন্য বিশেষ কিছু পরিকল্পনা করি না। কিন্তু মানালি প্রতি বছর এমন কিছু দেয় যা সত্যিই দরকারি, মনে রাখার মতো।”
আরও পড়ুনঃ নিশা উজির আসল পরিচয় খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে এলো ভয়ংকর তথ্য! তবে কি বদলা নেওয়ার আগেই ভেস্তে গেল নেশা উজির সব প্ল্যান! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
রক্তের বন্ধন নয়, তবু মানালি-শুভ্রজিতের এই সম্পর্কই প্রমাণ করে— আসল সম্পর্ক গড়ে ওঠে অনুভূতির বাঁধনে, ভালোবাসার টানে। ভাইফোঁটার রঙে রঙিন এই বন্ধন একটিই বার্তা দেয়— পরিবার শুধু জন্মসূত্রে নয়, মন দিয়েও গড়া যায়।

