মেয়েদের উপর অ’ত্যাচার! এবার প্রশাসনের ওপর বিস্ফোরক মমতা শঙ্কর!

আরজিকর হাসপাতালের (R G Kar Hospital) মর্মান্তিক ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে গোটা বাংলাকে। এক ডাক্তারের বেদনাদায়ক হত্যার প্রতিবাদের আজ রাস্তায় নেমেছে গোটা বাংলা। রাত দখল করছেন বাংলার মেয়ে বোনেরা। পুরুষ-মহিলা, ডাক্তার-নার্স, তারকা থেকে আইনজীবী সকলের নেমেছেন রাস্তায়। আর এই ঘটনাই আর পাঁচজন মহিলার মতো বিধ্বস্ত করেছে নৃত্যশিল্পী ও নায়িকা মমতা শঙ্করকেও (Mamata Shankar)। আরজি কর কাণ্ডে যেন রীতিমত ফুঁসছেন তিনি। মহিলা চিকিৎসকের মৃত্যুতে তিনি সমস্ত রাগ, ক্ষোভ উগরে দিলেন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে। তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বিরুদ্ধে।
আরজিকর কান্ড নিয়ে কী বলেছেন মমতা শঙ্কর?
সম্প্রতি মমতা শঙ্কর আরজিকর কান্ডের প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন সামাজিক মাধ্যমে। সরকারের ওপর উগরে দিয়েছেন ক্ষোভ। মমতা শঙ্কর বলেছেন “প্রত্যেক দিন খুঁটিয়ে খবরের কাগজ পড়ছি। ছোট পর্দায় চোখ রাখছি। দেখতে দেখতে ১০ দিন হয়ে গেল। এখনও কী করছে রাজ্য সরকার? মনে এখনও অনেক প্রশ্ন জড়ো হচ্ছে। উত্তর জানি না। খুব অসহায় মনে হচ্ছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একজন মহিলা, তারপরেও তিনি কেন আরজি করে এলেন না কেন? যে মুখ্যমন্ত্রী বারবার সবার বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি কোথায়? এ রকম আরও অনেক কিছু ফাঁক নজরে আসছে।”
বর্ষীয়ান অভিনেত্রী আরও বলেছেন “যেমন হাসপাতালের অধ্যক্ষ মৃতার মা-বাবাকে প্রথম খবর দেন। তিনি নিজেও চিকিৎসক। কী করে তিনি পরিকল্পিত হত্যাকে আত্মহত্যা বলে দিলেন? প্রশাসনও সায় দিল! তারপরেই হুড়মুড় করে এক জনকে দোষী সাব্যস্ত করা হল। এত তাড়া কে দিয়েছিল? এ সব মিটতে না মিটতেই দাহ কার্য হয়ে গেল। যে হাসপাতাল তাঁর মৃত্যুর কারণ সেই হাসপাতালেই ময়নাতদন্ত! যে ঘরে তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যু ঘটে সেই ঘর-সহ আশপাশের অন্য ঘরগুলির মেরামতি শুরু হয়ে গেল! যে ঘরে মেয়েটিকে খুন করা হল তার আশেপাশের ঘরের মেরামতি শুরু হয়ে গেল এর মধ্যেই! প্রিন্সিপালকে কেন আবার পুনর্বহাল করা হল?”
রাজ্য পুলিশের কর্মকান্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মমতা শঙ্কর
১৪ তারিখ বাকিদের সঙ্গে রাত দখলে গিয়েছিলেন তিনিও। কিন্তু তারপরই তিনি জানতে পারেন আরজিকর হাসপাতালে ফের তাণ্ডবের কথা। তিনি বলেছেন “ব্যাপক ভাঙচুর হচ্ছে। পুলিশ নিষ্ক্রিয়। সকলে প্রশাসনের দোষ দেখছেন। ওঁরা উপস্থিত থেকেও কেন কাঁদানে গ্যাস বা রবার বুলেট ছুঁড়লেন না? আমি বুঝতে পারছি, পুলিশের হাত-পা বাঁধা। ওদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল সে দিন, যেন নিষ্ক্রিয় থাকে। অথচ দেখুন, তার পরেই পুলিশ কত সক্রিয়! বিশেষ করে রবিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে। প্রশাসনের বর্বরতা দেখে জনগণ ক্ষোভে ফুঁসছে। আমার মনে প্রশ্ন জাগছে, আদৌ কি দোষী পুলিশ? চিকিৎসকেরা ইতিমধ্যেই পরিষেবা দেওয়া থেকে বিরত। এ বার যদি প্রশাসন ক্ষেপে গিয়ে আন্দোলনে নামে তা হলে রাজ্যের প্রশাসনিক পরিকাঠামোর কী হবে?”
আরও পড়ুন: ভূত সেজে মিহিকে ভয় দেখালো রুমি! মেয়েকে বাঁচাতে একি করলো মধুবনী!
মুখ্যমন্ত্রীর বিষয়ে কী বলেছেন মমতা শঙ্কর?
তিনি বলেছেন “অর্থ দিয়ে অপমান, অসম্মান, মৃত্যু কেনা যায়? এখানেই শেষ নয়। এর পর তিনি মিছিল বের করলেন। জনগণের দৃষ্টি ঘোরাতে। নারকীয় ঘটনার গায়ে রাজনৈতিক রং লাগাতে। যেন, সবই বিরোধীপক্ষের ষড়যন্ত্র। কার বিরুদ্ধে এই মিছিল? স্বাস্থ্য, প্রশাসন— সবই তো ওঁর হাতে! ওঁকে ঘিরে মুখে কুলুপ এঁটে দাঁড়িয়ে থাকলেন শাসকদলের মহিলা বিধায়ক, সাংসদেরা। ওঁদের লজ্জাও করল না। এক বারও ওঁরা ভাবলেন না, ওঁরাও নারী। আবার এখন নারীদের ‘নাইট ডিউটি’তে ফতোয়া। শুনে মনে হচ্ছে, আবার বুঝি পর্দাপ্রথা ফিরছে রাজ্যে। মুখ্যমন্ত্রী কার বুদ্ধিতে চলছেন? বর্তমান পরিস্থিতি দেখে খুব জানতে ইচ্ছে করছে। জানতে ইচ্ছে করছে, ওঁর ছায়াসঙ্গী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কোথায়? রোজ দেখছি, রাজ্য, দেশের বেড়া পেরিয়ে আন্দোলন আন্তর্জাতিক স্তর ছুঁয়ে যাচ্ছে। কিন্তু শুধু প্রতিবাদী মিছিল কি নারীদের সঙ্গে অনবরত ঘটে চলা অন্যায় বন্ধ করতে পারবে?”

