বসন্ত পঞ্চমীর সন্ধ্যায় রাজকীয় বিয়ে! লাল বেনারসিতে লাল টুকটুকে বউ সেজে উপস্থিত “পাখি”! শীতের আমেজে জমজমাট মেনু!

বসন্ত পঞ্চমীর পবিত্র সন্ধ্যায় একেবারে টুকটুকে লাল শাড়িতে লাজে রাঙা কনে বউ হিসেবে ধরা দিলেন অভিনেত্রী মধুমিতা সরকার। পর্দায় বহুবার কনে সাজলেও বাস্তব জীবনে সেই স্বপ্ন পূরণের সুযোগ খুব একটা পাননি তিনি। যদিও জীবনে একবার বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিলেন, কিন্তু সেই অধ্যায় ছিল সাদামাটা এবং অনেকটাই নীরব। এবার জীবনের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করবার সময় নিজের স্বপ্নের মতো করেই ধুমধাম করে বিয়ে সারলেন মধুমিতা। লাল বেনারসি শাড়ি আর গা ভর্তি সোনার গয়নায় অভিনেত্রীকে দেখে অনেকেই বলছেন, ঠিক যেন কোনও অপ্সরা নেমে এসেছেন মর্ত্যে।

কনের সাজে যেমন নজর কেড়েছেন মধুমিতা, তেমনই কম যাননি তাঁর বর দেবমাল্য চক্রবর্তীও। পেশায় আইটি প্রফেশনাল দেবমাল্য লাল বন্ধগলা আর ধুতিতে বিয়ের আসরে হাজির হয়ে কনের সঙ্গে দারুণ মানিয়ে গিয়েছিলেন। শ্বশুরবাড়ির দেওয়া সাদা পাঞ্জাবি পরে তিনি বসেছিলেন বিয়ের পিঁড়িতে। দুজনকে পাশাপাশি দেখে বোঝাই যাচ্ছিল, এই সম্পর্ক শুধু ভালবাসার নয়, বন্ধুত্ব আর বোঝাপড়ারও। সাবেকি বাঙালি রীতিতে অগ্নিসাক্ষী রেখে মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়েই চারহাত এক হল তাঁদের।

বিয়ের আয়োজনে কোনও খামতি রাখেননি মধুমিতা। সাজসজ্জা থেকে ভোজ সব কিছুতেই ছিল রাজকীয় ছোঁয়া। যদিও বিয়ের থিমে সাবেকিয়ানা বজায় রাখা হয়েছিল, তবে ভুরিভোজের মেনু ছিল আধুনিক আর মোগলাই স্বাদের মিশেলে ভরপুর। অতিথিদের জন্য এমন এক খাবারের আয়োজন করা হয়েছিল, যা এক কথায় মন ভোলানো। বিরিয়ানি থেকে ফিশ ফ্রাই সব কিছুতেই ছিল স্বাদ আর বৈচিত্র্যের দারুণ সমন্বয়।

খাবারের তালিকায় শুরুতেই ছিল কলকাতা স্টাইল ভেটকি ফিশ ফ্রাই কাসুন্দির সঙ্গে। স্টার্টারে পরিবেশন করা হয় রেশমি কাবাব আর হারিয়ালি চিকেন কাবাব। মেনুর অন্যতম আকর্ষণ ছিল সুগন্ধি বাসমতি চালের বিরিয়ানি নরম মাংস আর সেই চিরচেনা আলু সহ। সঙ্গে গরম গরম বাটার নান তন্দুর থেকে সরাসরি পরিবেশন করা হয়েছিল। নানের সঙ্গে গ্রেভি ঠাসা বিশেষ চিকেনের পদ অতিথিদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। নিরামিষাশীদের জন্যও ছিল পনিরের একাধিক পদ সালাদ আর রায়তা।

আরও পড়ুনঃ একটা ছোট্ট জ্যান্ত সরস্বতী! লাল পাড় সাদা শাড়ি, পায়ে লাল টুকটুকে আলতা! ইয়ালিনির মায়াভরা রূপে মুগ্ধ টলিপাড়া!

ভোজের শেষে ছিল হরেক রকম মিষ্টি আর খাস বেনারসি পান। বিরিয়ানি আর কাবাবের গন্ধে ম ম করছিল গোটা বিয়ের মণ্ডপ। ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজন আর টলিপাড়ার অল্প কয়েকজন বন্ধুর উপস্থিতিতেই এই বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। ছোটবেলার বন্ধু মধুমিতা আর দেবমাল্যের মধ্যে এক সময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলেও ফের কাছাকাছি এসে আর দেরি করেননি দুজনে। মালাবদল সিঁদুরদান সাতপাক সব রীতি মেনে নতুন জীবনের পথে হাঁটা শুরু করলেন তাঁরা।

Back to top button