‘আমাকে সবসময় নায়িকার রোল দেওয়া হতো!’ অফিস ক্লাবের নাটক থেকে বড় পর্দার কিংবদন্তি! ফিরে দেখা লিলি চক্রবর্তীর ফেলে আসা দিনগুলি!

বাংলা চলচ্চিত্র জগতের (Tollywood) অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র এবং প্রবীণ অভিনেত্রী লিলি চক্রবর্তী (Lily Chakraborty) মানেই একরাশ স্নিগ্ধতা ও নিখুঁত অভিনয়ের প্রতিচ্ছবি। ১৯৫৮ সালে ‘ভানু পেল লটারি’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় তাঁর পথচলা শুরু হলেও, দীর্ঘ কয়েক দশকে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী শিল্পী হিসেবে। শুধু বাংলা নয়, হিন্দি ও দক্ষিণী সিনেমাতেও তিনি তাঁর প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। আজও তাঁর সাবলীল অভিনয় নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর জীবনের সেই শুরুর দিনগুলো এবং কীভাবে অভিনয়ের সঙ্গে তাঁর সখ্যতা তৈরি হলো, তা নিয়ে বিস্তারিত স্মৃতিচারণ করেছেন।
স্মৃতির জানালা খুলে লিলি চক্রবর্তী জানান, তাঁর জন্ম মধ্যপ্রদেশে হলেও বেড়ে ওঠা এবং শৈশবের একটা বড় সময় কেটেছে ঢাকায়। দেশভাগের পরবর্তী সময়ে মাত্র পাঁচ বছর বয়সে তিনি পরিবারের সঙ্গে কলকাতায় চলে আসেন। শৈশবের সেই দিনগুলোর কথা মনে করে তিনি বলেন, তৎকালীন সময়ে সাদাকালো সিনেমার যুগেও এক অদ্ভুত রঙিন মায়া ছিল, যা আজও তাঁর মনকে আবেগপ্রবণ করে তোলে। মধ্যপ্রদেশ থেকে কলকাতায় থিতু হওয়ার পর থেকেই তাঁর ভেতরে অভিনয়ের এক সুপ্ত বাসনা দানা বাঁধতে শুরু করেছিল, যা পরবর্তীকালে তাঁকে একজন মহান শিল্পী হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
অভিনয় জগতে তাঁর হাতেখড়ি হয়েছিল মূলত পারিবারিক এবং সামাজিক অনুষ্ঠানের মঞ্চে। লিলি চক্রবর্তীর মা লক্ষ্য করেছিলেন যে ছোটবেলা থেকেই মেয়ের অভিনয়ের প্রতি প্রবল আগ্রহ রয়েছে। সেই কারণে মা নিজেই পাড়ার বাঙালি ছেলেমেয়েদের নিয়ে রবীন্দ্র জয়ন্তী, সরস্বতী পূজা বা কালীপূজার অনুষ্ঠানে যেসব নাটক পরিচালনা করতেন, সেখানে লিলিকে সবসময় প্রধান চরিত্র বা ‘নায়িকা’র রোল দিতেন। সেই বয়সেই বড়দের সাথে পাল্লা দিয়ে মঞ্চ কাঁপাতেন তিনি। মায়ের সেই উৎসাহ এবং ছোটবেলার সেই মঞ্চাভিনয়ই তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছিল বহুগুণ।
পেশাদার অভিনয়ের আঙিনায় পা রাখার আগে তিনি অফিস ক্লাবের নাটকেও নিয়মিত অংশগ্রহণ করতেন। লিলি চক্রবর্তী স্মৃতিচারণ করে জানান যে, তাঁর মেজদি অভিনয় করতেন এবং তাঁর রিহার্সাল দেখতে দেখতেই তিনি অভিনয়ের প্রেমে পড়ে যান। অভাব-অনটনের দিনে পরিবারকে সাহায্য করার মানসিকতা যেমন ছিল, তেমনই ছিল অভিনয়ের প্রতি এক বুক ভালোবাসা। অফিস ক্লাবের নাটকগুলোতে তাঁর অভিনয় দেখে সবাই প্রশংসা করতেন এবং সেখান থেকেই মূলত তাঁর লড়াকু মানসিকতা আর অভিনয় সত্তার বিকাশ ঘটে। তাঁর মতে, সেই সময়ের নাটকের অভিজ্ঞতাগুলোই তাঁকে পর্দার সামনের কঠিন চরিত্রগুলো ফুটিয়ে তুলতে সাহস জুগিয়েছিল।
আরও পড়ুনঃ ঝিনুকের জীবনে এন্ট্রি নিচ্ছেন তার হিরো! শুরু হলো নতুন প্রেমের অধ্যায়! প্রকাশ্যে কমলা নিবাস ধারাবাহিকের নতুন প্রোমো!
সাক্ষাৎকারের শেষে অভিনেত্রী জানান যে, আজকের ডিজিটাল যুগে দাঁড়িয়েও তিনি সেই সাদাকালো দিনগুলোর সতেজতা অনুভব করেন। তাঁর জীবনের গল্পটি সংগ্রাম এবং প্যাশনের এক অদ্ভুত মিশ্রণ। একজন সাধারণ মেয়ে থেকে কিংবদন্তি হয়ে ওঠার পেছনে এই ছোটবেলার মঞ্চাভিনয় এবং পারিবারিক সংস্কৃতির যে বড় অবদান ছিল, তা তিনি অকপটে স্বীকার করেন। বর্তমানে প্রবীণ এই অভিনেত্রী আমাদের কাছে কেবল একজন শিল্পী নন, বরং বাংলা চলচ্চিত্রের এক জীবন্ত ইতিহাস, যাঁর প্রতিটি অভিজ্ঞতা নতুনদের জন্য এক অমূল্য শিক্ষা।

