‘নায়িকার চেয়েও পার্শ্বচরিত্রে অভিনয়টা দেখানোর সুযোগ বেশি!’ ‘আমি কোনোদিন হিরোইনদের মতো…’ ঝুলিতে রয়েছে কয়েকশো ছবির অভিজ্ঞতা! অভিনয় নিয়ে অনেক বড় শিক্ষা দিলেন অভিনেত্রী লিলি চক্রবর্তী!

বাংলা চলচ্চিত্রের (Tollywood) ইতিহাসের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র লিলি চক্রবর্তী (Lily Chakraborty)। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তিনি নিজের অভিনয় দক্ষতা দিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করে রেখেছেন। ষাটের দশকে অভিনয় জীবন শুরু করে তিনি উত্তম কুমার, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মতো মহারথীদের সঙ্গে যেমন স্ক্রিন শেয়ার করেছেন, তেমনি কাজ করেছেন গুলজারের মতো কিংবদন্তি পরিচালকের সাথেও। বর্তমানেও তিনি ছোট পর্দা এবং বড় পর্দা উভয় মাধ্যমেই অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে কাজ করে চলেছেন এবং তাঁর সাবলীল অভিনয় আজও নতুন প্রজন্মের অভিনেতাদের কাছে এক বড় অনুপ্রেরণা।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই প্রবীণ অভিনেত্রী তাঁর ক্যারিয়ারের শুরুর দিনগুলো এবং চরিত্র নির্বাচন নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। তিনি জানান যে, তাঁর অভিনয় জীবনের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল ‘সেকেন্ড লেডি’ বা পার্শ্বচরিত্রগুলো। লিলি চক্রবর্তীর মতে, একজন নায়িকার চরিত্রে অনেক সময় অভিনয়ের চেয়ে বাহ্যিক সৌন্দর্যের ওপর বেশি জোর দেওয়া হতো, কিন্তু পার্শ্বচরিত্রগুলোতে অভিনয়ের গভীরতা দেখানোর সুযোগ ছিল অনেক বেশি। এই বৈচিত্র্যের কারণেই তিনি এই ধরণের চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে কাজ করতে সবসময় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন।
অভিনয়ের ধরন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি সেকালের নায়িকাদের ‘ম্যানেরিজম’ বা ধরাবাঁধা অভিনয়রীতির প্রসঙ্গ তুলে ধরেন。 তিনি বলেন যে, সেই সময়ে নায়িকাদের একটি নির্দিষ্ট ধাঁচে অভিনয় করতে হতো কারণ সাধারণ মেয়েরা তাঁদের আইডল হিসেবে অনুসরণ করত। কিন্তু লিলি চক্রবর্তী নিজে এই ধারার বিপরীতে গিয়ে পর্দায় সবসময় অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং সাবলীল থাকার চেষ্টা করতেন। তাঁর এই কৃত্রিমতাহীন সাধারণ অভিনয় দর্শক থেকে শুরু করে পরিচালক সকলেই অত্যন্ত পছন্দ করতেন, যার ফলে একের পর এক কাজ তাঁর কাছে আসতে থাকে।
নিজের সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান যে, এখনো পর্যন্ত তিনি প্রায় ৫০০-র বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। ছোট ছোট রোল থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ পার্শ্বচরিত্র প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি নিজের ছাপ রাখার চেষ্টা করেছেন। এই বিশাল অভিজ্ঞতাই তাঁকে বাংলা সিনেমা জগতের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তাঁর মতে, অভিনয়ের প্রতি সততা এবং চরিত্রের প্রয়োজনে নিজেকে ভেঙে নতুনভাবে গড়াই হলো একজন প্রকৃত শিল্পীর পরিচয়।
আরও পড়ুনঃ ‘আমি ‘চটিচাটা’ হলে আজ…’ ‘বাবার ওপর পুলিশের অকথ্য নির্যাতন দেখেছি…’ ‘আগে দেখান আমি কোন রঙের তলায় ছিলাম!’ ট্রোলারদের কড়া জবাব অভিনেত্রী মৈত্রেয়ী মিত্রর!
পরিশেষে, বর্তমান সময়ের তরুণ অভিনেতাদের জন্য তাঁর এই সাক্ষাৎকারটি একটি বড় শিক্ষা হতে পারে। লিলি চক্রবর্তী প্রমাণ করেছেন যে, শুধুমাত্র পর্দার মূল নায়ক বা নায়িকা হওয়াই বড় কথা নয়, বরং একটি ছোট চরিত্রেও যদি জানপ্রাণ দিয়ে অভিনয় করা যায়, তবে তা মানুষের মনে চিরস্থায়ী জায়গা করে নেয়। তাঁর এই দীর্ঘ পথচলা এবং অভিনয়ের প্রতি অগাধ ভালোবাসা আজও তাঁকে বাংলা চলচ্চিত্র প্রেমীদের কাছে সমানভাবে জনপ্রিয় করে রেখেছে।

