‘সবাই ওকে ভালবেসেছে, কিন্তু আমি নয় মাস বেশি ভালোবেসেছি…’ ছেলেকে মানুষ করতে শিল্পী রিনি বিশ্বাসের কঠিন সংগ্রাম! শিল্পী নাকি মা, জীবনের কোন ক্ষেত্রে মিলেছে সফলতার ছোঁয়া?

জনপ্রিয় বাচিক শিল্পী রিনি বিশ্বাস (Rini Biswas) আবৃত্তি অঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি তার ভরাট কণ্ঠস্বর, চমৎকার উচ্চারণ এবং আবেগঘন উপস্থাপনার মাধ্যমে খুব অল্প সময়েই শ্রোতাদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। কবিতার ভাব ও রসকে নিজের কণ্ঠের জাদুতে জীবন্ত করে তোলাই তাঁর প্রধান বৈশিষ্ট্য।

রিনি বিশ্বাসের আবৃত্তির মধ্যে এক ধরণের পরিশীলিত আভিজাত্য খুঁজে পাওয়া যায়। তিনি কেবল প্রথাগত ধারায় কবিতা পড়েন না, বরং সমসাময়িক প্রেক্ষাপট ও আধুনিক জীবনবোধকে কবিতার সাথে মিলিয়ে দর্শকদের সামনে তুলে ধরেন। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তাঁর আবৃত্তিগুলো দারুণ জনপ্রিয়, যা বর্তমান তরুণ প্রজন্মকে বাংলা কবিতার প্রতি নতুন করে আগ্রহী করে তুলছে। বাচিক শিল্পীর পাশাপাশি টেলিভিশনের পর্দার একাধিক শো সঞ্চালনা করেছেন দক্ষতার সাথে।

সম্প্রতি ‘আবার বৈঠক’-নামের পড কাস্ট শোতে ধরা দিয়েছেন তিনি। সেই পর্বে রিনি বিশ্বাস তাঁর জীবনের এমন কিছু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন যা সচরাচর লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের দুনিয়ায় আড়ালে থেকে যায়। তিনি জানিয়েছেন, আজকের এই অবস্থানে পৌঁছানোটা তাঁর জন্য খুব একটা সহজ ছিল না। একজন আবৃত্তিকার হিসেবে নিজের একটি স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করতে তাঁকে দীর্ঘ সময় সাধনা করতে হয়েছে। পডকাস্টটিতে উঠে এসেছে তাঁর ছোটবেলার দিনগুলোর কথা।

এছাড়াও রিনি অত্যন্ত গর্বের সাথে জানিয়েছেন যে, তাঁর আজকের এই অবস্থানে দাঁড়িয়ে থাকার পেছনে তাঁর পুত্রই হলো মূল শক্তি ও অনুপ্রেরণার উৎস। একজন সিঙ্গেল মাদার হিসেবে তাঁর পথচলা মোটেও মসৃণ ছিল না। সামাজিক প্রতিকূলতা, একাকীত্বের লড়াই এবং ক্যারিয়ার সামলানোর দ্বিমুখী চাপ সবকিছুই তিনি জয় করেছেন কেবল তাঁর ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে। পডকাস্টে তিনি বলেন আমি আমার ছেলেকে সবসময় একটা কথা বলি, ‘সারা পৃথিবীর মানুষ তোমাকে ভালবাসলেও তুমি মনে রাখবে তাদের সবার থেকে নয় মাস বেশি ভালো আমি তোমাকে বেসেছি।’

আরও পড়ুনঃ টিআরপি তালিকায় টানটান লড়াই! আবারও শীর্ষে পরশুরাম! প্রথম পাঁচে রয়েছে কারা? দেখে নিন এই সপ্তাহের টিআরপি তালিকা!

তিনি অত্যন্ত বিনয়ের সাথে জানিয়েছেন যে, তাঁর জীবনের চাহিদাবলী অত্যন্ত সীমিত। তিনি মনে করেন, জীবনের সুখ বিলাসিতায় নয়, বরং অল্পতে সন্তুষ্ট থাকার মধ্যেই নিহিত। “যতটুকু আছে, যা আছে—সব ঠিক আছে”—তাঁর এই সহজ স্বীকারোক্তি প্রমাণ করে যে, তিনি জীবনের প্রতি কতটা ইতিবাচক এবং প্রাপ্তি নিয়ে কতটা তুষ্ট। বর্তমানের এই প্রতিযোগিতামূলক যুগে যেখানে মানুষের উচ্চাকাঙ্ক্ষার শেষ নেই, সেখানে রিনি বিশ্বাসের এই অল্পে খুশি। রিনি বিশ্বাস জানিয়েছেন যে, তিনি এত অল্প বয়স থেকে কাজ করা শুরু করেছেন যে, কাজ এখন তাঁর অস্তিত্বের সাথে মিশে গেছে। তাঁর মতে, তিনি কাজ না করে একদিনও থাকতে পারবেন না। এই নিরবচ্ছিন্ন কর্মস্পৃহা তাঁর দীর্ঘদিনের অভ্যাসের ফল। শৈশব বা কৈশোর থেকেই তিনি যেভাবে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন এবং সৃজনশীল চর্চার মধ্য দিয়ে বড় হয়েছেন, তাতে কর্মহীন জীবন তাঁর কাছে অকল্পনীয়।

Back to top button