‘স্বামী প্রাক্তন স্ত্রীর কাছে…’ ‘শাশুড়ি ভালোবাসেন আগের বউকে, আমাকে নয়!’ ফের প্রাক্তন স্ত্রীর কাছে ফেরা? তবে কি সম্পর্কে ফাটল? কেন এমন বললেন কনীনিকা বন্দোপাধ্যায়?

টলিউডের (Tollywood) জনপ্রিয় ও স্পষ্টবক্তা অভিনেত্রী কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায় (Koneenica Banerjee) সবসময়ই নিজের শর্তে বাঁচতে ভালোবাসেন। সম্প্রতি একটি ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের ব্যক্তিগত জীবন, বৈবাহিক সম্পর্ক এবং পারিবারিক টানাপোড়েন নিয়ে এমন কিছু বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন, যা ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। বিয়ের পর স্বামীর প্রাক্তন স্ত্রীর বাড়িতে আসা-যাওয়া থেকে শুরু করে শাশুড়ির অবহেলা সবকিছু নিয়ে অত্যন্ত খোলামেলা ও সাহসিকতার সাথে জবাব দিয়েছেন অভিনেত্রী, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।

সাক্ষাৎকারের সবচেয়ে বিতর্কিত ও আলোচিত বিষয়টি ছিল কনীনিকার বৈবাহিক জীবনের সমীকরণ এবং তাঁর স্বামীর প্রাক্তন স্ত্রীর উপস্থিতি। কনীনিকা জানান, তিনি যখন সুরজিৎকে বিয়ে করেন, তখন জেনেশুনেই এক ডিভোর্সি এবং এক সন্তানের পিতাকে গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু বিতর্কের সূত্রপাত হয় তখনই, যখন কনীনিকা প্রকাশ করেন যে তাঁদের বিয়ের পর থেকই তাঁর স্বামীর প্রাক্তন স্ত্রী তাঁদের বাড়িতে নিয়মিত আসা-যাওয়া শুরু করেন। এই পরিস্থিতিতে কোনো রকম লুকোচুরি পছন্দ না করে কনীনিকা তাঁর স্বামীকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যা করার যেন তাঁর সামনেই করা হয়। কারণ, সম্পর্কের জটিলতা বা পেছনের গল্প নিয়ে মাথা ঘামিয়ে তিনি নিজের মানসিক সুস্থতা নষ্ট করতে চান না।

এই আলোচনার রেশ ধরেই কনীনিকা এমন একটি মন্তব্য করেন যা নেটিজেনদের চমকে দিয়েছে। তিনি অত্যন্ত পরিপক্বতার সাথে জানান, সম্পর্কে যেকোনো ইনসিকিউরিটি বা জটিলতার চেয়ে তাঁর কাছে নিজের মানসিক শান্তি অনেক বেশি অগ্রাধিকার পায়। তিনি তাঁর স্বামীকে এক প্রকার খোলা ছাড়পত্র দিয়ে রেখেছেন। অভিনেত্রীর ভাষায়, তাঁর স্বামী যদি কখনো মনে করেন যে তিনি তাঁর আগের স্ত্রীর কাছেই বেশি ভালো থাকবেন এবং সেখানে ফিরে যেতে চান, তবে কনীনিকার তাতে বিন্দুমাত্র আপত্তি থাকবে না। তিনি খুশি মনেই স্বামীকে ছেড়ে দেবেন, তবে নিজে আর সেই সম্পর্কের সমীকরণে বা যোগাযোগে থাকবেন না। একজন বিবাহিত নারীর মুখ থেকে এমন স্বাধীনচেতা ও বাস্তববাদী মন্তব্য সচরাচর শোনা যায় না বলেই এটি বড় বিতর্কের রূপ নিয়েছে।

আরও পড়ুন: ‘মাকে খাবারের সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে খাইয়েছি…’ ‘খুব অল্প বয়সেই বড় হয়ে গিয়েছি…’, ১১ বছর বয়সেই সংসারের দায়িত্ব কাঁধে! মায়ের অসুস্থতার সঙ্গে লড়াইয়ের গল্প শোনালেন দেবলীনা ভট্টাচার্য!

ব্যক্তিগত জীবনের এই টানাপোড়েনের পাশাপাশি কনীনিকা তাঁর শাশুড়ির ভূমিকা নিয়েও চরম সত্যটি সবার সামনে এনেছেন। তিনি অকপটে স্বীকার করেন যে, তাঁর শাশুড়ি মা এখনো সুরজিতের আগের পক্ষের স্ত্রীকেই নিজের মেয়ের মতো ভালোবাসেন এবং আদর-যত্ন করেন। অন্যদিকে, শাশুড়ি কনীনিকাকে কোনোদিনই সেভাবে পছন্দ করেননি বা পরিবারের অংশ হিসেবে মনে-প্রাণে গ্রহণ করতে পারেননি। এর পাশাপাশি রয়েছে সৎমা হিসেবে তাঁর বরের প্রথম পক্ষের ছেলে দ্রোণকে বড় করার চ্যালেঞ্জ। সমাজ যেভাবে সৎমা শব্দটির গায়ে একটা নেতিবাচক তকমা লাগিয়ে দিয়েছে, তার ফলে ছেলেকে শাসন করার ক্ষেত্রেও কনীনিকাকে অনেক সাবধানে পা ফেলতে হয়, যাতে কোনো ভুল বোঝাবুঝি না তৈরি হয়।

সব মিলিয়ে, কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিরাচরিত সমাজ ব্যবস্থার মুখে এক বড়সড় ধাক্কা। যেখানে সাধারণত নারীরা যেকোনো মূল্যে স্বামীকে ধরে রাখার জন্য লড়াই করেন বা প্রাক্তন স্ত্রীর উপস্থিতিতে তীব্র অশান্তি তৈরি করেন, সেখানে কনীনিকার এই আত্মমর্যাদাবোধ ও ছেড়ে দেওয়ার মানসিকতা এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই তাঁর এই বাস্তববাদী ও পরিপক্ব চিন্তাভাবনার প্রশংসা করছেন, আবার কেউ কেউ একে পারিবারিক কাঠামোর পরিপন্থী বলেও মনে করছেন। তবে সমালোচনা বা বিতর্ক যাই হোক না কেন, কনীনিকা প্রমাণ করে দিয়েছেন যে অন্যের দেওয়া সার্টিফিকেটে নয়, বরং নিজের মানসিক শান্তি এবং মেয়ে কিয়াকে একটি সুস্থ পরিবেশ দেওয়াই তাঁর জীবনের একমাত্র লক্ষ্য।

Back to top button