শেষ বয়সে গ্রাস করেছিল হতাশা! রোগে জর্জরিত হয়ে পড়েছিলেন তিনি! জেনে নিন বর্ষীয়ান অভিনেতা মনোজ মিত্রের জীবন সংগ্রাম!

বাংলার চলচ্চিত্র (Tollywood Industy) জগতের একজন বর্ষীয়ান অভিনেতা হলেন মনোজ মিত্র (Manoj Mitra)। ১৯৩৮ সালের ২২ ডিসেম্বর খুলনার সাতক্ষীরার চোক্কামোক্কাই গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন অভিনেতা। দেশ ভাগের পর বসিরহাটের কাছে ডান্ডিরহাট এনকেইউএস নিকেতনে দেশভাগের পর তাঁর স্কুল জীবন শুরু হয়। পরে তিনি দর্শনে অনার্সসহ স্কটিশ চার্চ কলেজে যোগ দেন এবং ১৯৫৮ সালে স্নাতক হন।

স্কটিশ চার্চেই তিনি থিয়েটার দলে নাম লেখান। কলেজে নিয়মিত অনুষ্ঠান হতো সেখানে অংশগ্রহণ করতেন তিনি। এরপর তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনে এমএ করেন এবং ডক্টরেটের জন্য গবেষণা শুরু করেন। পড়াশুনা শেষ করে তিনি সিউড়ি বিদ্যাসাগর কলেজে দর্শনের অধ্যাপনা শুরু করেন এবং পরে রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক বিভাগে যোগদান করেন। পরে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে নাট্য বিভাগের অধ্যাপক পদে যোগ দেন।

নিজের অভিনয় ক্যারিয়ারে তপন সিনহা , সত্যজিৎ রায় , বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত , বাসু চ্যাটার্জি , তরুণ মজুমদার , শক্তি সামন্ত এবং গৌতম ঘোষের মতো বিভিন্ন পরিচালকের ছবিতে অভিনয় করেছেন। তপন সিনহার চলচ্চিত্র বাঞ্ছারামের বাগানে প্রধান ভূমিকার জন্য এখনও তাকে মনে রেখেছেন দর্শক। সত্যজিৎ রায়ের ঘরে বাইরে এবং গণশত্রুতে তার ভূমিকার উপর ভিত্তি করে নির্মিত।

শেষ জীবনে পেয়েছিলেন কষ্ট

আজ ১২ই সেপ্টেম্বর অভিনেতা শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর আগে ভীষণ কষ্ট পেয়েছেন অভিনেতা। ভুগেছিলেন শারীরিক কষ্টে। চলতি বছর সেপ্টেম্বর মাসে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বর্ষীয়ান অভিনেতা তথা নাট্যকারকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। সল্টলেকের ক্যালকাটা হার্ট ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট নিয়ে অশীতিপর অভিনেতাকে ভর্তি করানো হয়। শরীরে সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের মাত্রা কমে যাওয়ার রক্তচাপ খুবই কমে গিয়েছিল।

আরও পড়ুন: ফের নায়িকা চরিত্রে মুখ বদল! গর্ভবতী হয়ে পড়ায় ধারাবাহিক ছাড়ছেন প্রধান নায়িকা?

অভিনেতার মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ গোটা টলিউড। ইন্ডাস্ট্রির সকল অভিনেতা অভিনেত্রীরা বর্ষীয়ান অভিনেতার মৃত্যুতে শোকবার্তা জানিয়েছেন। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীও শোক প্রকাশ করেছেন। খলনায়ক ও কমেডি চরিত্রেই মূলত তাকে দেখা গিয়েছিল বেশিরভাগ ছবিতে। সেইসব চরিত্রে অভিনয় করেই দর্শকদের মাতিয়ে রেখেছেন কয়েক দশক ধরে।

Back to top button