Paran Bandopadhyay: পিতা-মাতাহীন অনাথ অভিনেতার শ্রেষ্ঠত্ব লাভ! জেনে নিন পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবন সংগ্রাম

বাংলা চলচ্চিত্র জগতে কিংবদন্তি অভিনেতা অভিনেত্রীদের মধ্যে অন্যতম একজন হলেন পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Poran Bandopadhyay)। কয়েক দশক ধরে বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে দাপটের সঙ্গে অভিনয় করে চলেছেন অভিনেতা পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Poran Bandopadhyay)। কখনো দর্শকদের হাসিয়েছেন আবার কখনো তার অভিনয়ে চোখে জল এসে গিয়েছে দর্শকদের। বছরের পর বছর এভাবেই টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করে চলেছেন তিনি। তবে তার আজকের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে কঠোর পরিশ্রম। তার জীবন সংগ্রামের গল্প শুনলে আপনারও চোখে জল আসবে।
১৯৪০ সালের ১৮ই অক্টোবর বর্তমান বাংলাদেশের যশোর শহরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। খুব ছোট অবস্থাতেই অভিনেতার মা মা’রা যান। অভিনেতার মা মা’রা যাবার পর অভিনেতার বাবা একেবারেই দিশেহারা হয়ে পড়েন। স্ত্রীকে তিনি এতটাই ভালোবাসতেন যে স্ত্রীর মৃ’ত্যুর পর ছোট্ট পরানের কথা না ভেবেই বাড়ি থেকে চলে যান তিনি কাউকে কিছু না বলে। অল্প বয়সে পরান তখন পরে অথৈ জলে। তার জীবন কিভাবে চলবে সেটাই ছিল তখন সব থেকে বড় সংশয়ের বিষয়।
পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবনের গল্প
তারপর অভিনেতার পিসি কলকাতার দমদমে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন। সেখানে পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বড় হতে থাকেন। সেখানে সিটি কলেজে পড়াশোনা শেষ করেন। পরে রাজ্য সরকারের চাকরিতে যোগ দেন। তবে ছোট থেকে অভিনয়ের প্রতি অগাধ ভালোবাসা ছিল পরাণ বন্দোপাধ্যায়ের। তাই অভিনয় তিনি কখনোই ছাড়তে পারেননি। পাড়ার বিভিন্ন নাট্য দলে অভিনয় করতেন সেই সময়। বিভিন্ন দলে নাটক করতে করতে গণনাট্য আন্দোলনে যোগদান করেন। তারপরই পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন অভিনেতা। স্ত্রী ছিলেন একজন শিক্ষিকা। কিন্তু তা সত্ত্বেও সংসার ঠিকমতো চলছিল না। কারণ নাটকের কারণে তাকে বিভিন্ন জেলায় রাজ্যে ঘুরে বেড়াতে হতো। তাই জন্য অফিস কামাই করতে হতো। অফিস কামাই করলে কাটা যেত মাইনে। যার ফলে সংসার ঠিকমতো চলতো না। তবে নিজের ইচ্ছাকে কখনোই চাপা দিয়ে দেননি অভিনেতা। বরাবরই অভিনয়ের ইচ্ছেকে জাগিয়ে রেখেছিলেন। আর নিজের ইচ্ছের জোরে আজ তিনি এ জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে।
২০০০ সালে চাকরি থেকে অবসর নেন। একটি নাটকে পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিনয় দেখে মুগ্ধ হয়ে যান সত্যজিৎ রায়ের পুত্র সন্দীপ রায়। সে সময় সন্দীপ রায় সত্যজিতের গল্প ধারাবাহিকের জন্য নতুন মুখ খুঁজছিলেন আর পরান বাবুর অভিনয় দেখে তার ভীষণ পছন্দ হয়ে যায়। এরপর আর অভিনেতাকে ঘুরে তাকাতে হয়নি। ২০০০ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে বেশ কিছু ছবিতে অভিনয় করে ফেলেন পরাণ বন্দোপাধ্যায়। ষাট বছর বয়সে এসে এতো সাফল্যে খুব কম অভিনেতাই দেখেছেন।
আরও পড়ুন: রাঙার উপর নজর! সুব্রতকে উচিত শিক্ষা দিল আক্কু!
ভালবাসার অনেক নাম , বোম্বাইয়ের বোম্বেটে, রয়েল বেঙ্গল রহস্য, গোঁসাইবাগানের ভূত, দ্য জাপানিজ ওয়াইফ, টনিক, বব বিশ্বাস, বাদশাহী আংটি, ছায়াময়, গয়নার বাক্স, প্রলয়, কিডন্যাপার , যেখানে ভূতের ভয় , ভূতের ভবিষ্যৎ, নোবেল চোর ইত্যাদি তার অভিনীত কয়েকটি সেরা চলচ্চিত্র। বর্তমানেও দাপটের অভিনয় করে চলেছেন তিনি। কিছুদিন আগেই মুক্তি পেয়েছে টেক্কা। সেই ছবিতেও অভিনয় করেছেন তিনি।

