“আমার উত্তরও খোলা দক্ষিণও খোলা, ডাঁসা পেয়ারা দেখলে যা লোভ হয়!”- ৯০ পেরোলেও মনটা এখনো তরুণ! সদা প্রাণবন্ত মিতা চট্টোপাধ্যায়

বাংলা চলচ্চিত্র জগতের (Film Industry) জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের মধ্যে অন্যতম একজন অভিনেত্রী হলেন মিতা চট্টোপাধ্যায় (Mita Chatterjee)। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে অভিনয় জগতের সঙ্গে যুক্ত অভিনেত্রী একাধিক বাংলা ধারাবাহিক বাংলা চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন। বর্তমানে বয়সের কারণে নিয়মিত অভিনয়ের সঙ্গে তার যোগাযোগ নেই তবে একসময় দাপিয়ে অভিনয় জগতে কাজ করেছেন তিনি। বর্তমানে অভিনেত্রীর বয়স ৯০ পেরিয়েছে, তবে এখনো একই রকম মজার মানুষ রয়েছেন মিতা চট্টোপাধ্যায়।
টিভির পর্দায় অভিনেত্রীকে আমরা অনেক সময় ঝগড়ুটে কুচুটে মহিলার চরিত্রে অভিনয় করতে দেখেছি। আবার বিভিন্ন ধারাবাহিকে প্রিয় ঠাম্মির চরিত্রে অভিনয় করতেও দেখেছি। অভিনেত্রী খুব অল্প বয়স থেকে অভিনয় জগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অভিনয়ের পাশাপাশি অভিনেত্রীর আরো অনেক গুন রয়েছে, সেই সম্পর্কে অনেকেই হয়তো জানেন না। একবার দিদি নাম্বার ওয়ানের মঞ্চে এসে অভিনেত্রী নিজের সমস্ত অজানা গল্প সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছিলেন। নব্বইয়ের দশকে দূরদর্শনের পর্দায় সম্প্রচারিত হত ‘জন্মভূমি’ ধারাবাহিক। ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত ছোটপর্দায় রাজত্ব করেছিল এই মেগা ধারাবাহিক। সেখানে দাপুটে পিসিমার চরিত্রে সবার মন জিতেছিলেন অভিনেত্রী মিতা চট্টোপাধ্যায়। টানা আট দশক ধরে তিনি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে রাজত্ব করেছেন।
১৯৪৪ সালে অভিনয় জগতে কাজ করা শুরু দেন মিতা। দিদি নাম্বার ওয়ানের মঞ্চে এসে জানিয়েছিলেন, ‘সেইসময় কাগজে ছবি বেরিয়েছিল। পাড়ার সবাই কি ভালোবেসেছিল আমায়’। অভিনেত্রী এটাও জানান যে অভিনয় তাঁর একমাত্র পেশা নয়, বরং নাচ দিয়েই হাতেখড়ি। অল ইন্ডিয়া ডান্স কম্পিটিশনে বরাবর ফার্স্ট হয়েছেন। তবে এখন শারীরিক অসুস্থতার জেরে নাচ বাদ পড়েছে জীবন থেকে। ঠিক করে হাঁটতেও পারেন না। তবুও ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানান। বলেন, ‘এখন আর ঠিক করে হাঁটতে পারি না। তবু তো আমি চলছি রে মা… এটার জন্যই আমি ভগবানকে ধন্যবাদ জানাই।’
অভিনেত্রীর অভিনয় জগতে আসা তার বাবার বন্ধুর হাত ধরে। অভিনেত্রীর বাবার বন্ধু একদিন বাড়িতে এসে তার বাবার কাছে অনুমতি চেয়েছিলেন অভিনেত্রীকে অভিনয় করতে দেবে কিনা। অভিনেত্রীর বাবা জানিয়েছিলেন যদি তিনি পারেন তাহলে করবেন। অভিনেত্রীর বাবা এই সমস্ত ক্ষেত্রে কখনোই বাধা দেননি। অভিনেত্রী যেটা করতে পারবেন সেটা সবসময় তাকে করতে দেওয়া হতো। এভাবে কেটে গেল কয়েক বছর। অভিনেত্রী জানান তিনি এখনো ফিজিকালি ভীষণভাবে ফিট। এনজিওতে সময় কাটান মাঝেমধ্যেই সকলের সঙ্গে। সেখানে সময় কাটে সকলের সঙ্গে। এক সময় ভালো রাইফেল চালাতেন, ঘোড়া চড়তে পারতেন। এই সব করেই সময় কেটেছে অভিনেত্রীর।
আরও পড়ুন: বলিউডের ডাক পেতেই ভোল বদল! নিজেকে আপাদমস্তক বদলে ফেললেন “নিম ফুলের মধু”-র প্রধান অভিনেতা!
তবে বয়সের জন্য এখন খাওয়া দাওয়াতে অনেক নিয়ম চলে এসেছে। ভাত রুটি খান, তবে ডাঁসা পেয়ারা মাখা, লোভনীয় খাবার দেখলে এখন আর লোভ সামলাতে পারে না। কিন্তু দাঁতের জন্য সেগুলো খাওয়াও বারণ। অভিনেত্রীর কথায় ‘আমার উত্তরও খোলা দক্ষিণও খোলা, ডাঁসা পেয়ারা দেখলে যা লোভ হয়!’ কিন্তু এসব খাওয়া একেবারেই বারণ। তবে এখন স্বতঃস্ফূর্ত এবং প্রাণোচ্ছল রয়েছেন অভিনেত্রী। নব্বই বছর বয়স পেরিয়ে গিয়েছে তাও এখনো একই রকম রয়ে গিয়েছেন।

