মেয়েকে পাশে রেখেই ক্যান্সা’রের সঙ্গে লড়ছেন মা! একা হাতে সন্তান প্রতিপালন অন্যদিকে মা’রন রোগ দমন! কন্যাকুমারীর কণ্ঠে জীবনের কঠিন পাঠ!

নিঃসন্দেহে কন্যাকুমারী (Kanyakumari Mukherjee) টলিপাড়ার এক অত্যন্ত পরিচিত মুখ। ছোট থেকেই তাঁর কথা বলার ভঙ্গি এবং স্বতঃস্ফূর্ততাই তাঁকে জনপ্রিয় করে তোলে। ছোটপর্দায় প্রবেশ করার আগেই দর্শকদের কাছে তাঁর পরিচিতি ছিল যথেষ্ট। এরপর ক্রমে একের পর এক ধারাবাহিকে অভিনয় করে দর্শকদের হৃদয় জয় করে নেন তিনি। এমনকি একসময় জনপ্রিয় গেম শো ‘দিদি নাম্বার ওয়ান’-এ মায়ের সঙ্গে অংশ নিয়েছিলেন অভিনেত্রী, যেখানে মা-মেয়ের মন ছুঁয়ে যাওয়া সম্পর্ক ধরা পড়েছিল দর্শকের সামনে। অথচ সেই মাকে নিয়েই এবার বড় চ্যালেঞ্জের মুখে অভিনেত্রী।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসের শেষের দিকে এক আবেগঘন পোস্টে তিনি জানান, তাঁর মা ক্যা’ন্সারে আক্রান্ত। যদিও আশার আলো এখনও নিভে যায়নি, কারণ চিকিৎসকদের মতে এটি দ্বিতীয় স্তরের ক্যা’ন্সার, অর্থাৎ যথেষ্ট চিকিৎসা ও মনোবল থাকলে মায়ের সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে অভিনেত্রী জানেন, এই লড়াই সহজ নয়। কাজ, পরিবার, সন্তান— সব কিছু সামলে, এখন তাঁর সবচেয়ে বড় যুদ্ধ মাকে সুস্থ করে তোলা। ব্যক্তিগত জীবনে কন্যাকুমারী একজন মা।

তাঁর ছোট্ট মেয়ের নাম ‘ভূমিসুতা’, আদর করে যাকে ‘ভূমি’ বলে ডাকেন তিনি। এই কঠিন সময়ে ছোট্ট মেয়েও যেন একরকম মানসিক শক্তি হয়ে উঠেছে তাঁর কাছে। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ভূমি বরাবরই শান্ত মেয়ে। এখন ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে, তাই বুঝতেও শিখছে। মেয়ের দিকে যত্ন নিতে হয় ঠিকই, তবে নিজেকে না ভাল রাখলে তো সন্তানের জন্যও ভাল কিছু করা যায় না। একটা গ্লাস ফাঁকা রেখে আরেকটা গ্লাস ভর্তি করা সম্ভব নয়, তাই আমি প্রথমে নিজেকে সংহত রাখি।

এখন আমাকে ভূমির যথেষ্ট দরকার, ভবিষ্যতে যখন ভূমি বড় হবে, তখন আবার পুরোদমে অভিনয়ে ফিরব।” তবে এই যাত্রাটা শুধুই একজন মায়ের লড়াই নয়, একজন মেয়ের লড়াইও বটে। হঠাৎ করে মায়ের শরীরে টিউমার ধরা পড়ে, যার ওজন ছিল প্রায় দু’কেজির সমান। চিকিৎসকরা সেসময় তেমন আশার কথা বলেননি। কিন্তু অভিনেত্রী জানালেন, “মা নিজেই ছিলেন মানসিকভাবে অসাধারণ শক্ত। মাকে দেখে আমি শিখেছি— ভেঙে পড়লে চলবে না। আমার সন্তান তো সুস্থ, মা এখনও লড়ার জায়গায় রয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ ‘ঘরে ছেলে ঢুকিয়ে দেব’ থেকে ‘সোজা বদলি করে দেব!’— ক্ষমতার অহংকারের টগবগ করে ফুটছে কাঞ্চন! রাজনীতিতে অভিনেতাদের দাদাগিরি নতুন ট্র্যাডিশন! দাবি দর্শকদের

অথচ অনেক শিশুই জন্ম থেকে নানা রোগ নিয়ে বেঁচে থাকে। তাই আমার দায়িত্ব ছিল মায়ের সঙ্গে শক্তভাবে দাঁড়ানো।” এই অভিজ্ঞতা তাঁকে শিখিয়েছে জীবনের আসল পাঠ। অভিনেত্রী জানান, “রোজ মায়ের দিকে তাকিয়ে বুঝি— শরীরে হাজার অসুস্থতা থাকেলও, মানসিক শক্তির কী অসম্ভব গুরুত্বপূর্ণ। মা যেভাবে সাহস দেখাচ্ছেন, তাতে আমিও রোজ নতুনভাবে শক্ত হচ্ছি।” এই লড়াই শুধুমাত্র তাঁর মায়ের নয়, কন্যাকুমারীর নিজেরও। মায়ের পাশে থেকে, মেয়ের হাত ধরে, আজ তিনি এক যোদ্ধা।

Back to top button