‘আমাকে ফোন করে বললেন, তোকে নিতে সবাই বারণ করছে, তাই…!’ ‘কারও মুখে তো শ’য়তান লেখা থাকে না!’ ‘আমাকে দেখতে নাকি খুব…!’ নিজের চেহারার কোন বৈশিষ্ট্যে কাজ হারাতে বসেছিলেন অভিনেত্রী? মুখ খুললেন কন্যাকুমারী মুখোপাধ্যায়!

জনপ্রিয় টলিউড (Tollywood) অভিনেত্রী কন্যাকুমারী মুখোপাধ্যায় (Kanyakumari Mukherjee) বাংলা টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির এক অত্যন্ত পরিচিত মুখ। বহু বছর ধরে নিজের সাবলীল অভিনয় দিয়ে তিনি দর্শকদের মনে একটি বিশেষ জায়গা তৈরি করে নিয়েছেন। বিশেষ করে পজিটিভ চরিত্রের পাশাপাশি খলনায়িকা বা নেতিবাচক চরিত্রেও তাঁর অভিনয় দারুণ প্রশংসিত হয়েছে। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে এসে তিনি তাঁর অভিনয় জীবনের শুরুর দিকের এক অজানা লড়াই ও অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন।

ভিডিওতে অভিনেত্রী তাঁর ক্যারিয়ারের একটি বড় মোড়ের কথা বলতে গিয়ে পরিচালক বা প্রযোজক ‘স্নিগ্ধাদি’র অবদান স্মরণ করেন। কন্যাকুমারী জানান, ইন্ডাস্ট্রিতে যখন তাঁকে নিয়ে অনেকেই দ্বিধাবোধ করছিলেন, তখন স্নিগ্ধাদিই প্রথম তাঁর ওপর বড় একটা ভরসা রেখেছিলেন। একটি মেগাসিরিয়ালে তাঁকে খলনায়িকার চরিত্রে কাস্ট করার জন্য স্নিগ্ধাদি রীতিমতো চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন, যা অভিনেত্রীর জীবনের পুরো মোড়টাই ঘুরিয়ে দেয়।

প্রথম মিটিংয়ের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে অভিনেত্রী জানান, স্নিগ্ধাদি তাঁকে সরাসরি বলেছিলেন যে এই নেতিবাচক চরিত্রটির জন্য তাঁকে নিতে বাকি সবাই ভীষণ আপত্তি জানাচ্ছিল। কন্যাকুমারীকে এই চরিত্রে কাস্ট করার কথা শুনে চারপাশের অনেকেই অবাক হয়েছিলেন এবং স্নিগ্ধাদিকে বারণও করেছিলেন। আসলে ইন্ডাস্ট্রির একটা বড় অংশের ধারণা ছিল যে, কন্যাকুমারীর মিষ্টি ও শান্ত চেহারা খলনায়িকার চরিত্রের সঙ্গে একেবারেই মানাবে না।

চেহারার এই বাঁধাধরা ধারণা বা ‘টাইপকাস্টিং’ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কন্যাকুমারী একটি দারুণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, মানুষের মুখে তো আর আগে থেকে লেখা থাকে না যে সে খুব খারাপ বা শয়তান! লেন্সের চোখে যে চেহারাটাকে খুব পজিটিভ বা নরম মনে হচ্ছে, তাকে দিয়েই পর্দায় নেতিবাচক অভিনয় করিয়ে দেখানোর একটা জেদ কাজ করেছিল স্নিগ্ধাদির মনে। তিনি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন যে, আজ যারা বারণ করছেন, কাজ দেখার পর তারাই একদিন এসে তাঁর এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করবেন।

আরও পড়ুনঃ ‘বাচ্চাটার গলায় পা দিয়ে…’ ‘অপরাধের চেয়েও বড় হল অপরাধীর পেছনে…!’ ‘বিচার পাওয়ার আগের আর পরের সমাজটা একই থেকে যায়!’ ১১ বছরের নাবালিকার বস্তাবন্দী দে’হ! সমাজের খোলস টেনে ছিঁড়ে কোন ভয়ঙ্কর রূপ দেখালেন ঋদ্ধি সেন?

শেষ পর্যন্ত স্নিগ্ধাদির নেওয়া সেই ঝুঁকি বা ‘গ্যাম্বেল’ একশো ভাগ সফল হয়েছিল। অভিনেত্রী জানান, সেই প্রজেক্টটি অর্থাৎ স্টার জলসার অত্যন্ত জনপ্রিয় মেগা ধারাবাহিক বধূবরণ দীর্ঘ চার বছর ধরে চলেছিল। এই ধারাবাহিকে তাঁর অভিনীত ‘তিস্তা’ চরিত্রটি দর্শকদের কাছে আইকনিক হয়ে ওঠে। কন্যাকুমারী আবেগঘন হয়ে জানান, তাঁর গোটা অভিনয় জীবনে তিনি এখনও পর্যন্ত মাত্র একবারই কোনো পুরস্কার বা অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন, আর সেটা এসেছিল এই বধূবরণ ধারাবাহিকের ‘তিস্তা’ চরিত্রের জন্যই।

Back to top button