‘ছোঁবে না আমাকে…’ নির্দোষ হয়েও শুটিং সেটে সুচিত্রা সেনের দুর্ব্যবহার! সেই ব্যবহারে আজও কষ্ট পান অভিনেত্রী কল্যাণী মন্ডলে!

বাংলা চলচ্চিত্র (Bengali Film Industry) জগতের জনপ্রিয় বর্ষীয়ান অভিনেত্রীদের মধ্যে অন্যতম একজন হলেন কল্যাণী মন্ডল (Kalyani Mandal)। কয়েক দশক ধরে অভিনয় জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিনেত্রী। বড় পর্দার পাশাপাশি বর্তমানে ছোটপর্দাতেও দাপটের সঙ্গে অভিনয় করেছেন বছরের পর বছর ধরে। বর্তমানে তাকে দেখা যাচ্ছে জি বাংলার (Zee Bangla) জনপ্রিয় ধারাবাহিক আনন্দীতে (Anondi) ঠাম্মির ভূমিকায় অভিনয় করতে।
তবে একসময় নাকি সুচিত্রা সেনের সাথে অভিনয় করতে গিয়ে অপমানিত হতে হয়েছে অভিনেত্রীকে। সাদাকালো সিনেমার যুগে সুচিত্রা সেন ছিলেন প্রথম সারির অভিনেত্রী। অনেক সময় বড় বড় অভিনেতাদের নামের আগেও তার নাম উল্লেখ করা হতো। তাঁর সঙ্গে কথা বলার দুঃসাহস দেখাতে পারতেন না কেউ। খোশ গল্প করা তো দূরের কথা। হঠাৎ-হঠাৎ মেজাজ পাল্টে যেত সুচিত্রার। এই নিয়ে অনেক গল্প রয়েছে টলিপাড়ায়।
এই নিয়ে অনেক গল্প রয়েছে টলিপাড়ায়। তবে যে ব্যক্তির সঙ্গে ঘটনাগুলো ঘটেছে, তাঁর চেয়ে ভাল করে বর্ণনা বোধহয় কেউ দিতে পারবেন না।তেমনই এক ব্যক্তি অভিনেত্রী কল্যাণী মণ্ডল। বাংলা ছবির স্বর্ণযুগে আবির্ভূত হয়েছিলেন এই অভিনেত্রী। তারপর ৯০-এর দশকে বাণিজ্যিক বাংলা ছবিতে তাঁকে দেখা গিয়েছে মা-জেঠিমা-কাকিমার চরিত্রে। এই মুহূর্তে তিনি চুটিয়ে অভিনয় করছেন সিরিয়ালে। বয়স হয়েছে অনেকটাই। অভিনয় জগতে আসার পরই উত্তম-সুচিত্রা অভিনীত এক ছবিতে অভিনয় করার সুযোগ আসে কল্যাণী মণ্ডলের কাছে। প্রথম ছবিতেই তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ ঘটে মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের।
কল্যাণী দিদি নম্বর ওয়ানে এসে বলেছিলেন, “আমার প্রথম দিনের শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা অদ্ভুত। মেকআপ রুমে গিয়ে দেখি উত্তমকুমার বসে আছেন। তিনি ছিলেন দরাজ মনের মানুষ। নতুন কোনও প্রতিভাকে চোখের সামনে দেখতে পেলে তাঁকে আদর করে গ্রহণ করতেন। আমাকেও করেছিলেন। আশীর্বাদ করেছিলেন বুক ভরে এবং বলেছিলেন ভাল করে কাজ করতে। কিন্তু সুচিত্রা সেনের সঙ্গে আমার যা অভিজ্ঞতা, তা এক কথায় বলে প্রকাশ করা যাবে না। তাঁর ঘরে গিয়ে তাঁর চাউনি দেখে তো গলা থেকে আওয়াজই বের হয়নি আমার। আমাকে যিনি নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি বলেছিলেন, ‘চলো চলো বেরিয়ে যাই।’ তারপর আমরা বেরিয়ে আসি।”
অভিনেত্রীর। বলেছিলেন “আমার জীবনের প্রথম শর্ট সুচিত্রা সেনের সঙ্গে। আমার কথা ছিল তাঁকে গিয়ে জড়িয়ে ধরার। তেমনই বলা হয়েছিল আমাকে। আমি সুচিত্রা সেনকে জড়িয়ে ধরি এবং তারপরই তীব্র চিৎকার করে সুচিত্রা সেন ‘কাট’ বলে উঠেন। আমার তো ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল হাত-পা। কঠোর কণ্ঠে সুচিত্রা সেন বলে ওঠেন, ‘ডোন্ট টাচ। ম্পর্শ করবে না আমাকে।”
আরও পড়ুনঃ নতুনকে ফিরিয়ে আনাতে ভয়ংকর কান্ড ঘটালো মিঠি! কমোলিনীর মনের কথা বুঝতে পেরে নিজের জীবনকে বিলিয়ে দিল সে! ফাঁ’স ধারাবাহিকের আজকের পর্ব
তিনি আরও বলেন, “পরের শটেও একই ঘটনা ঘটে। সুচিত্রাকে সেই শটে আমার ছোঁয়ারই কথা ছিল না। আমি যথারীতি অভিনয় করছি। হঠাৎই সুচিত্রা সেন বলে ওঠেন ‘কাঠ’। তারপরে বলেন, ‘কী গো আমাকে জড়িয়ে ধরো’ আমি তো আকাশ থেকে পড়েছি। এই মহিলাকে তো প্রেডিক্ট করা খুবই ডিফিকাল্ট!”

