‘ওদের জন্যই আজ আমি তারকা…পাপ ও পুণ্যের ভয় আমার আছে, তাদের অহংকার দেখাই কী করে?’ দুই বাংলায় সমান দাপটে পর্দা কাঁপানো অভিনেত্রী, কেন এমন বলেনন? কাদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডুর?

বর্তমান সময়ের অন্যতম চর্চিত অভিনেত্রী জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু (Jyotirmoyee Kundu)। সম্প্রতি একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও অভিনয় ক্যারিয়ার নিয়ে একাধিক বিস্ফোরক ও আবেগপ্রবণ তথ্য শেয়ার করেছেন। দীর্ঘ এই আলাপচারিতায় তিনি কেবল তাঁর আসন্ন কাজ বা বিতর্কিত বিষয় নিয়েই কথা বলেননি, বরং তাঁর যাপিত জীবন এবং দর্শনের এক গভীর দিক দর্শকদের সামনে তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে বাংলাদেশের সুপারস্টার শাকিব খানের সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা এবং তাঁকে নিয়ে চলা বিভিন্ন বিতর্কের বিষয়ে জ্যোতির্ময়ীর স্পষ্টবাদিতা নেটিজেনদের নজর কেড়েছে।
অভিনেত্রীর কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের ওঠানামা এই প্রতিবেদনের একটি বড় অংশ। জ্যোতির্ময়ী জানান, তাঁর অভিনয় জীবনের শুরুটা হয়েছিল মডেলিংয়ের হাত ধরে। এরপর কঠিন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন। তবে ক্যারিয়ারের এই উজ্জ্বল সময়েও তিনি ভুলে যাননি তাঁর ফেলে আসা দিনগুলোর কথা। ব্যক্তিগত জীবনে প্রথম প্রেম ভেঙে যাওয়ার যন্ত্রণা তাঁকে মানসিকভাবে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে। তিনি জানিয়েছেন যে, জীবনে অনেক চড়াই-উতরাই আসলেও তিনি সবসময় ড্রামার চেয়ে মানসিক শান্তিকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন, যা তাঁকে পেশাদার ক্ষেত্রেও স্থির থাকতে সাহায্য করে।
জ্যোতির্ময়ীর জীবনদর্শনের একটি অন্যতম স্তম্ভ হলো ‘পাপ-পুণ্য’ এবং কর্মফলের ওপর তাঁর গভীর বিশ্বাস। সাক্ষাৎকারে তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানান যে, তিনি অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ এবং বিশ্বাস করেন প্রতিটি মানুষের কৃতকর্মের হিসাব প্রকৃতি রাখে। অভিনয় জগতের চাকচিক্যের মাঝেও তিনি নিজের আধ্যাত্মিক সত্তাকে বজায় রেখেছেন। তাঁর মতে, একজন মানুষ হিসেবে তিনি যা অর্জন করেছেন বা ভবিষ্যতে যা করবেন, তার পেছনে তাঁর নৈতিকতা ও সৎ চিন্তার বড় ভূমিকা রয়েছে। এই বিশ্বাসই তাঁকে গ্ল্যামার জগতের হাতছানি থেকে দূরে রেখে মাটির কাছাকাছি থাকতে সাহায্য করে।
অহংকার ও দর্শকদের প্রতি দায়বদ্ধতা নিয়ে জ্যোতির্ময়ী যে বক্তব্য রেখেছেন, তা বর্তমান প্রজন্মের অনেক শিল্পীর জন্যই শিক্ষণীয়। তিনি বিনম্রভাবে স্বীকার করেছেন যে, তাঁর মধ্যে কোনো দম্ভ বা অহংকার নেই। তাঁর কথায়, “আজ আমি যে অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছি, তার সম্পূর্ণ কৃতিত্ব দর্শকদের। দর্শকরাই আমাদের অভিনেতা বা তারকা তৈরি করেন।” তিনি বিশ্বাস করেন, একজন শিল্পী হিসেবে দর্শকদের এই ঋণ কখনোই শোধ করা সম্ভব নয়। আর সেই কারণেই জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থেকেও তিনি কখনোই দর্শকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন না বা কোনো প্রকার অহংকার প্রদর্শন করেন না। তার পাপ পুণ্যের ভয় আছে তিনি ভগবানে বিশ্বাস করেন।
আরও পড়ুনঃ জন্ম না দিয়েও হওয়া যায় মা, রক্তের সম্পর্ক ছাপিয়ে নিঃস্বার্থ মাতৃত্ব, ‘কমলা নিবাস’-এ পল্লবী-মিঠির এক নতুন রূপকথা!
পরিশেষে, জ্যোতির্ময়ী তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং অভিনয়ের প্রতি তাঁর নিষ্ঠার কথা ব্যক্ত করেছেন। তিনি কেবল জনপ্রিয়তা নয়, বরং মানসম্পন্ন কাজের মাধ্যমে দর্শকদের মনে স্থায়ী জায়গা করে নিতে চান। সিনেমা হোক বা ওয়েব সিরিজ, চরিত্রের প্রয়োজনে নিজেকে ভেঙে নতুনভাবে গড়ার চ্যালেঞ্জ নিতে তিনি সর্বদা প্রস্তুত। বাংলাদেশের প্রজেক্টে কাজ করার সুবাদে সেখানকার দর্শকদের প্রতিও তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। সব মিলিয়ে, একজন সংবেদনশীল মানুষ এবং পরিশ্রমী অভিনেত্রী হিসেবে জ্যোতির্ময়ী নিজেকে যেভাবে মেলে ধরেছেন, তা তাঁর ভক্তদের কাছে তাঁকে আরও প্রিয় করে তুলেছে।

