‘বেশি ফলোয়ার হলেই কি সিনিয়রকে অপমান করা যায়?’ ‘অহংকার নয়, বিনয়ই আসল পরিচয়!’ নাম না করেই অনন্যাকে এক হাত নিলেন জয়জিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়!

সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) লড়াই এখন আর কেবল ট্রোলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, তা সরাসরি টলিপাড়ার অভিনেতা-অভিনেত্রীদের দ্বন্দ্বে রূপ নিয়েছে। অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Banerjee) গাড়ির পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ এবং তার পাল্টা হিসেবে তরুণী অভিনেত্রী অনন্যা গুহর (Ananya Guha) তীব্র কটাক্ষ সব মিলিয়ে সরগরম নেটপাড়া। এই বিতর্কে এবার নাম না করেই অনন্যাকে শালীনতার পাঠ দিলেন অভিনেতা জয়জিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়।
সম্প্রতি একটি নামী গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থার ওপর বেজায় চটেছিলেন রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়। মাত্র ছয় মাসের মধ্যে তাঁর নতুন গাড়িটি চারবার খারাপ হওয়ায় এবং সঠিক পরিষেবা না পাওয়ায় ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করে নিজের ক্ষোভ উগড়ে দেন অভিনেতা। কিন্তু এই ভিডিওটিকেই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেন অভিনেত্রী অনন্যা গুহ।
পুরোনো কোনো মনোমালিন্যের রেশ টেনে অনন্যা ফেসবুকে লেখেন, “ফেসবুকে ভিডিও করা নিয়ে তো খুব সমস্যা ছিল বলেছিলেন। গাড়ি খারাপ হলে কি ফেসবুকটাকে সার্ভিস সেন্টার ভেবে ফেলেছেন?” এখানেই শেষ নয়, এই বিবাদে যোগ দেন অনন্যার দিদি অলকানন্দাও। তিনি রাহুলের মানসিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি অভিযোগ করেন যে, রাহুল তাঁদের নামে মিথ্যে গল্প বানিয়ে টাকা কামিয়েছেন।
অনন্যা ও তাঁর দিদির এই ক্রমাগত আক্রমণ এবং রাহুলকে ‘অপমান’ করার বিষয়টি নজরে আসতেই মুখ খোলেন অভিনেতা জয়জিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সরাসরি অনন্যার নাম উচ্চারণ না করলেও তাঁর নিশানায় যে এই তরুণী অভিনেত্রীই ছিলেন, তা স্পষ্ট। জয়জিৎ নিজের পোস্টে লেখেন:
“তোমার কাছে ফলোয়ার বেশি থাকতেই পারে, তোমার জনপ্রিয়তাও অনেক হতে পারে। কিন্তু মনে রেখো – যে তোমার থেকে সিনিয়র, যে আগে পথ দেখিয়েছে, তাকে অসম্মান করা কখনোই বড় হওয়া নয়। সম্মান দিলে সম্মান ফিরে আসে। অহংকার নয়, বিনয়ই আসল পরিচয়।”
আরও পড়ুনঃ চির বিদায় জানালেন শব্দের জাদুকর! স্তব্ধ বাংলা সাহিত্য! প্রয়াত সাহিত্যিক মণিশংকর মুখোপাধ্যায়!
জয়জিতের এই পোস্টের পর নেটিজেনদের বড় একটি অংশ অনন্যার দিকে আঙুল তুলেছেন। তাঁদের মতে, একজন সিনিয়র অভিনেতার সমস্যার কথা শুনে সহানুভূতি দেখানোর বদলে এভাবে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা এবং তাঁকে নিচু দেখানো অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ আচরণ। অনেকে সরাসরি মন্তব্য করেছেন, “অল্প বয়সে বেশি ফলোয়ার পেয়ে গেলে সৌজন্যবোধ হারিয়ে যায়।” রাহুল বনাম অনন্যা লড়াই এখন আর কেবল গাড়ি সারাতে না পারার ক্ষোভে আটকে নেই, তা এখন ইন্ডাস্ট্রির শিষ্টাচার ও সিনিয়রিটির প্রশ্নে এসে দাঁড়িয়েছে। জয়জিতের এই মধ্যস্থতা বা পালটা জবাব পরিস্থিতিকে শান্ত করবে নাকি নতুন কোনো বিতর্কের জন্ম দেবে, তা সময়ই বলবে।

