‘আমি কোনোদিনও পারিনি একজন ভালো…’- বছরের শেষ প্রান্তে গায়িকার জীবনে শোকের ছায়া! মাকে হারিয়ে ভেঙে পড়লেন জোজো মুখোপাধ্যায়!

মাত্র আঠারো বছর বয়সে বাবার অমতে পালিয়ে প্রেমিক কিংশুক (বাবলু)-কে বিয়ে করেছিলেন গায়িকা জোজো মুখোপাধ্যায়। বাংলা সঙ্গীত জগত তাঁকে চেনে ‘মিস জোজো’ নামে, কিন্তু তাঁর জীবনের গল্পে যেমন সুর আছে, তেমনই আছে ছোঁয়া লাগা বাস্তবের আবেগ। কৈশোরেই সংসার জীবনে পা রাখা জোজো স্বীকার করেন, তখন তিনি জানতেন না সংসার কাকে বলে। আর ঠিক সেই সময়ই তাঁকে নিজের মেয়ে বলে বুকে টেনে নিয়েছিলেন শাশুড়ি মা, যিনি ধীরে ধীরে তাঁকে শিখিয়েছিলেন জীবনের পাঠ।

শনিবার না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন জোজোর সেই শাশুড়ি মা। বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। মৃত্যুর খবর নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাগ করে নিয়েছেন ‘সারেগামাপা’-র বিচারক জোজো। শাশুড়ির মৃত্যুর পর এক গভীর আফসোস তাঁকে কুরে কুরে খাচ্ছে—শেষ সময়ে মায়ের পাশে থাকতে পারেননি তিনি। সারেগামাপা-র ব্যস্ত শ্যুটিং সূচির কারণে সময়মতো উত্তরবঙ্গে পৌঁছাতে পারেননি। তবে সান্ত্বনা একটাই—শেষ মুহূর্তে শাশুড়ি ছিলেন ছেলে কিংশুকের কাছে, তাঁদের উত্তরবঙ্গের রিসর্টেই কাটিয়েছেন জীবনের শেষ দিনগুলি।

ফেসবুকে আবেগঘন পোস্টে জোজো লেখেন, “মা, যখন আমার সঙ্গে বাবলুর বিয়ে হয়, আমি তখন মাত্র ১৮। সংসার শব্দটাই ছিল নতুন। আমি হয়তো পারফেক্ট বউমা হতে পারিনি, কিন্তু তোমার কাছ থেকে যা শিখেছি, তা আজীবনের শিক্ষা হয়ে থাকবে।” তিনি আরও জানান, পেশাগত জীবন ও সংসারের ভারসাম্য রাখতে না পারলেও শাশুড়ি কখনও তাঁকে বাঁধা দেননি, বরং ডানা মেলতে সাহায্য করেছেন। মেয়ের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে জোজোকে গানের জগতে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছিলেন তিনিই।

শেষ পোস্টে জোজো লিখেছেন, “এখন তুমি আমাদের থেকে চলে গেলে, আর কিছুই আগের মতো থাকবে না। আমাদের ছুটি, সিদ্ধান্ত, কালীপুজোর আয়োজন—সব তোমার উপস্থিতি ছাড়া অসম্পূর্ণ মনে হবে। আদি (নাতি) এখনও জীবনের এই সত্য বুঝে উঠতে পারেনি। ভালো থেকো মা, সাবধানে যেও… আবার দেখা হবে।”

আরও পড়ুনঃ সমাজ মাধ্যমে তৈরি হয়েছে দূরত্ব! টেলিভিশনের জনপ্রিয় জুটি পায়েল-দ্বৈপায়নের সম্পর্কে ফাটল! কি বলছেন অভিনেত্রী?

মাতৃসম সেই মানুষটির প্রয়াণে ভেঙে পড়েছেন জোজো। কিন্তু তাঁর শেখানো সাহস, মমতা আর ভালোবাসার পাঠ নিয়েই আবার গানের পথে ফিরে যাবেন গায়িকা—এই বিশ্বাসই যেন এখন তাঁর একমাত্র প্রেরণা।

Back to top button