কর্মবিরতির মাঝেই মানবিকতার নজির গড়লেন জিতু! টেকনিশিয়ানদের পাশে দাঁড়ালেন জিতু কমল! অসহায় মানুষগুলোর হাতে তুলে দিলেন ৩৩ হাজার টাকা!

রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর টলিউড জুড়ে নেমে এসেছিল শোকের ছায়া এবং সেই সঙ্গে ডাকা হয়েছিল কর্মবিরতি। ৭ এপ্রিল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও পরে বৈঠকের পর তা প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু এই অল্প সময়ের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যায়, কাজ বন্ধ থাকলে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন টেকনিশিয়ানরা, যাদের প্রতিদিনের আয়েই চলে সংসার। এই পরিস্থিতিতে শিল্পীদের পাশাপাশি সাধারণ কর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ বাড়তে থাকে।

এই কঠিন সময়েই এক মানবিক উদ্যোগ নিয়ে সামনে আসেন অভিনেতা জিতু কমল। তিনি ঘোষণা করেন, যতদিন শুটিং বন্ধ থাকবে, ততদিন নিজের পকেট থেকে টেকনিশিয়ানদের পারিশ্রমিক দেওয়ার চেষ্টা করবেন। তাঁর এই সিদ্ধান্তে অবাক হওয়ার পাশাপাশি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন অনেকেই। কারণ ইন্ডাস্ট্রিতে এই ধরনের উদ্যোগ সচরাচর দেখা যায় না। নিজের সামর্থ্যের মধ্যে থেকেই সহকর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর এই প্রচেষ্টা বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।

জিতুর এই উদ্যোগে খুশি হয়ে একাধিক টেকনিশিয়ান ভিডিও বার্তার মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁদের কথায়, এই প্রথম কোনও অভিনেতা তাঁদের কথা ভেবে এমনভাবে এগিয়ে এলেন। শুধু কথায় নয়, কাজে প্রমাণ দিয়েছেন জিতু। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, সহকর্মীরা অভুক্ত থাকবেন আর তিনি নিশ্চিন্তে থাকবেন, এমনটা তিনি মেনে নিতে পারেন না। তাঁর এই বক্তব্যে উঠে এসেছে পারিবারিক মূল্যবোধ এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা।

তবে এই উদ্যোগ নিয়েও সমালোচনা কম হয়নি। কেউ কেউ এটিকে আত্মপ্রচারের কৌশল বলেও কটাক্ষ করেছেন। কিন্তু সেই সমালোচনার জবাবও নিজের মতো করে দিয়েছেন জিতু। তিনি জানান, তিনি কুবেরের সন্তান নন, তবে তাঁর বাবা মা তাঁকে শিখিয়েছেন অন্যের বিপদে পাশে দাঁড়াতে। তাই তিনি যা করছেন, তা শুধুই নিজের মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে। এই বক্তব্যে অনেকেই তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ ‘হিম্মত থাকলে সামনে আসুন, কাপুরুষের মতো…’ ‘সামনে এসে আমার মা-বাবা, সন্তানকে খি’স্তি দিন…’ পরিবারকে আক্রমণ! বিস্ফোরক অভিনেতা সুদীপ মুখার্জি!

সমালোচনার মাঝেই জিতু একটি চেকের ছবি শেয়ার করেন, যেখানে এক টেকনিশিয়ান তাপস চক্রবর্তীকে ৩৩ হাজার টাকা সাহায্য করেছেন তিনি। সেই সঙ্গে সমালোচকদের উদ্দেশে বার্তা দেন, যদি এই উদ্যোগকে সত্যিই ভালো মনে হয়, তবে প্রশংসাও যেন প্রকাশ্যে করা হয়। তাঁর এই স্পষ্ট বক্তব্য এবং কাজ একসঙ্গে প্রমাণ করে দিয়েছে, কঠিন সময়ে মানবিকতার মূল্যই সবচেয়ে বড়।

Back to top button