রেল বস্তিতে জিতু-দেবলীনার নতুন সংসার! ট্রেনের শব্দ আর বস্তি জীবনের টানাপোড়েনে জিতু-দেবলীনা!

গ্ল্যামার আর আলোর রোশনাই ছেড়ে এবার রেললাইনের ধারের ধুলোবালি আর বস্তি জীবনে মিশে গেলেন টলিউড অভিনেতা জিতু কমল (Jeetu kamal) এবং অভিনেত্রী দেবলীনা কুমার (Devlina kumar)। পরিচালক অগ্নিভ চট্টোপাধ্যায়ের আগামী ছবি ‘চোর’-এর শুটিংয়ের জন্য শিয়ালদহ ডিভিশনের এক বাস্তব রেল বস্তিকে বেছে নেওয়া হয়েছে। কৃত্রিম সেটের বদলে বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়ে এই সিনেমার শুটিং এক অনন্য মাত্রা যোগ করেছে।
শুটিং স্পট থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই সিনেমায় রেললাইন এবং বারবার যাতায়াত করা ট্রেনগুলো কেবল প্রেক্ষাপট নয়, বরং গল্পের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। অভিনেতা জিতু কমল জানান, “এখানে ট্রেনটা একটা ক্যারেক্টার”। প্রতি মিনিটে ট্রেনের শব্দ আর কম্পনের মধ্যেই অভিনয় চালিয়ে যাচ্ছেন শিল্পীরা। জিতুর মতে, বাস্তব লোকেশনে শুটিং করলে চরিত্রের মধ্যে ঢোকা অনেক সহজ হয় এবং দর্শকদের কাছে তা অনেক বেশি বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে।
এই ছবিতে দেবলীনা কুমারকে দেখা যাবে ‘পূর্ণিমা’ নামক এক গৃহবধূর চরিত্রে। চরিত্রের নাম অনুযায়ী তাঁর সাজসজ্জায় রাখা হয়েছে সারল্য। দেবলীনা তাঁর চরিত্রটি সম্পর্কে বলেন, পূর্ণিমা একজন অত্যন্ত মিষ্টি এবং রোমান্টিক স্বভাবের নারী, তবে একই সঙ্গে তাঁর মধ্যে প্রবল আত্মসম্মানবোধ এবং স্বামীর ওপর কর্তৃত্ব বজায় রাখার গুণও রয়েছে। রেললাইনের ধারের এই প্রতিকূল পরিবেশে মেকআপ এবং অভিনয় ফুটিয়ে তোলাটা তাঁর কাছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।
পরিচালক অগ্নিভ চট্টোপাধ্যায় এই ছবির মাধ্যমে বর্তমান সময়ের একটি প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন। জিতু কমলের ভাষ্যমতে, আজ থেকে ২০ বছর পর যদি কেউ এই সিনেমাটি দেখে, তবে সে অনায়াসেই বুঝতে পারবে ২০২৪-২৫ সালের সমাজব্যবস্থা এবং মানুষের জীবন সংগ্রাম কেমন ছিল। একটি পরিবারের অন্তরের গল্প এবং টিকে থাকার লড়াই এই সিনেমার মূল উপজীব্য।
পেশাদারিত্বের এক অনন্য নজির গড়েছেন জিতু কমল। তিনি জানান, গত ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তিনি মাত্র ২ ঘণ্টা বাড়িতে থাকার সুযোগ পেয়েছেন। তিনটি আলাদা শিফটে কাজ করার পরেও তাঁর চোখেমুখে ক্লান্তির বদলে ছিল কাজের আনন্দ। তিনি বিশ্বাস করেন, একজন শিল্পী হিসেবে ভালো কাজের জন্য এইটুকু ত্যাগ স্বীকার করা তাঁর দায়িত্ব।
আরও পড়ুনঃ অনুষ্ঠানে সবার সামনেই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি! ভোরের আচরণে ক্ষুব্ধ কমলিনী! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
ভিডিওতে দেখা যায়, শুটিংয়ের খাতিরে রেললাইনের একদম ধারেই তৈরি করা হয়েছে ছোট একচিলতে ঘর। বস্তির বাসিন্দাদের সঙ্গে মিশে গিয়ে শিল্পীরা শট দিচ্ছেন। এমনকি রেললাইনে বসে রোমান্টিক দৃশ্য বা ঘরোয়া ঝগড়ার দৃশ্যগুলোও বেশ মুন্সিয়ানার সঙ্গে ক্যামেরাবন্দি করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, ‘চোর’ সিনেমাটি বড় পর্দায় এক নতুন অভিজ্ঞতার স্বাদ দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাস্তব লোকেশন, শক্তিশালী চিত্রনাট্য এবং অভিনয় শিল্পীদের নিষ্ঠা এই তিনের মেলবন্ধনে ছবিটি দর্শকদের কতটা নাড়িয়ে দেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

