অনুষ্ঠানে সবার সামনেই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি! ভোরের আচরণে ক্ষুব্ধ কমলিনী! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

স্টার জলসা (Star Jalsha) চিরসখা (Chirosokha) ধারাবাহিকে গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, নতুনের ইনস্টিটিউটে ‘ভালোবাসা দিবস’ উপলক্ষ্যে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে পরিবারের সকলেই উপস্থিত ছিল। নাচ-গানের সেই আনন্দঘন সন্ধ্যায় নতুন ও ভোর যখন একসাথে গান গাইতে শুরু করে, তখন দর্শকদের ভিড়ে দাঁড়িয়ে থাকা কমলিনীর চোখে জল চলে আসে। সে নতুনকে হারিয়ে ফেলার এক অজানা আশঙ্কায় কুঁকড়ে যায়। কমলিনী বুঝতে পারছে না যে, ভোরের সাথে নতুনের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে তার এই অহেতুক সন্দেহ বা ধারণা আসলে তাদের নিজেদের সম্পর্কেরই অপূরণীয় ক্ষতি করে ফেলছে।
আজকের পর্বে দেখানো হবে, অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বতন্ত্রকে ভালোবাসা নিয়ে কিছু বলতে বলা হলে, সে অত্যন্ত আবেগের সাথে তার সমস্ত ভালোবাসা কমলিনীকে উদ্দেশ্য করে প্রকাশ করে। সবার সামনে স্বতন্ত্রের এই অকপট স্বীকারোক্তি যেমন সুন্দর ছিল, তেমনই তা কমলিনীর প্রতি তার গভীর অনুরাগেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছিল। তবে অনুষ্ঠানের আবহ কিছুটা বদলে যায় যখন ভোরের বক্তব্য শেষ হওয়ার পর ছবি তোলার পালা আসে।

ছবি তোলার সময় ভোরের আচরণে এক ধরণের অস্বস্তি তৈরি হয়। কমলিনীকে যখন মঞ্চে ডাকা হয়, তখন ভোর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে স্বতন্ত্রকে সরিয়ে দিয়ে তাদের দুজনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে পড়ে। ভোরের এই অনধিকার চর্চা এবং নিজেকে জাহির করার প্রচেষ্টা উপস্থিত অনেকের কাছেই বেশ বাড়াবাড়ি এবং দৃষ্টিকটু মনে হয়েছে, যা পরিবেশটাকে কিছুটা অস্বাভাবিক করে তোলে।
অনুষ্ঠান শেষে বাড়িতে ফিরে রাতের নির্জনে যখন স্বতন্ত্র ও কমলিনী বিছানায় কথা বলতে যায়, তখন তাদের মধ্যে এক ধরণের চাপা উত্তেজনা কাজ করছিল। কমলিনী ভোরের আচরণে মনে মনে ক্ষুব্ধ হয়ে চুপচাপ শুয়ে থাকে। স্বতন্ত্র পাশে বসে বই পড়তে পড়তে কথা বলে পরিবেশটা হালকা করার চেষ্টা করলেও কমলিনী প্রথমে বিশেষ সাড়া দেয়নি। এক পর্যায়ে সে প্রসঙ্গ বদলাতে স্বতন্ত্রকে তার পাহাড় ভ্রমণের পরিকল্পনার কথা জিজ্ঞাসা করে।
আরও পড়ুনঃ বিপদের মুখে গোরা! পুলস্ত্যর জেদ কি ফাঁস করে দেবে দিতির আসল পরিচয়? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
পাহাড় ভ্রমণের উত্তরে স্বতন্ত্র জানায় যে, সে একা না গিয়ে বরং বিয়ের পর সবাইকে সাথে নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবছে। এই আলোচনায় অবধারিতভাবেই ভোরের প্রসঙ্গ চলে আসে। স্বতন্ত্র স্পষ্ট করে দেয় যে সে কাজ ছাড়া ভোরকে নিয়ে বাড়তি চিন্তা করার সময় পায় না। কিন্তু কমলিনী অভিযোগ করে যে স্বতন্ত্র ভোরকে কিছুটা বেশিই প্রশ্রয় দেয়, যা তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের মাঝে দেয়াল হয়ে দাঁড়াচ্ছে। উত্তরে স্বতন্ত্র নিজেকে নির্দোষ দাবি করে জানায় যে ভোর কেবলই তার একজন সহকর্মী, কোনো ছাত্রী নয় যে তাকে সবসময় শাসন করা যাবে। সে আক্ষেপ করে বলে যে, তাদের সুন্দর মুহূর্তের মধ্যে বারবার অন্য কারো প্রসঙ্গ আনা ঠিক নয়। কমলিনীর এই সন্দেহ বা অবিশ্বাস স্বতন্ত্রকে ব্যথিত করে এবং সে নিজের চরিত্রের সততা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় অভিমান করে কথা বলা বন্ধ করে দেয়।

