‘জয় নয়, তোমার অ’ভিশপ্ত জীবনের এটাই শুরু…’- কাকে উদ্দেশ্য করে এমন কথা বললেন জিতু কামাল? ন্যায় বিচারের আশায় কাঠগড়ায় অভিনেতা!

বাংলা টেলিভিশনের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এমন নজির সত্যিই বিরল। টিআরপিতে উপরের সারিতে থাকা সত্ত্বেও ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ সিরিয়ালটি আজ বিপদের মুখে। নায়ক জিতু কমল এবং নায়িকা দিতিপ্রিয়া রায়ের ব্যক্তিগত সংঘাত এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, শ্যুটিং থেকে প্রচার—সবই অনিশ্চয়তায় ঢেকে গিয়েছে। গত শুক্রবার থেকে দু’জনের মতবিরোধ নিয়ে টলিপাড়ায় তুমুল চর্চা চলছে। যদিও মাসখানেক আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় একে অপরকে উদ্দেশ্য করে পোস্ট করে আবার তা মুছে ফেলে ‘সব ঠিক’ বলেছিলেন তাঁরা, বাস্তব পরিস্থিতি যে অন্য কথা বলছে তা এখন পরিষ্কার।

শনিবার ও রবিবার কোনোভাবে শ্যুট চালানো গেলেও, সোমবার রাতে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে ওঠে। প্রযোজনা সংস্থা নায়ক-নায়িকাকে মুখোমুখি বসিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা আলোচনা চালায়। কিন্তু এতক্ষণ কথা বলার পরেও কোনো সমাধান মেলেনি। দু’জনেই নিজেদের অবস্থানে অনড় থেকে যান। ফলে সিরিয়ালের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়।

ঠিক তার পরেই, সোমবার গভীর রাতে জিতুর সোশ্যাল মিডিয়ায় আসে এক রহস্যময় পোস্ট। একটি ছবির উপর লেখা— “মানুষ মৃত্যুর চেয়ে বদনামকে বেশি ভয় করে”। ক্যাপশনে অভিনেতা যোগ করেছেন— “এত ভালো অভিজ্ঞতার জন্য ধন্যবাদ। কিন্তু এটা তোমার জয় নয়, তোমার অভিশপ্ত জীবনের এটাই শুরু”। সঙ্গে দেওয়া ‘ওম’ ও ‘ইউনিভার্স’ ইমোজি আরও বাড়িয়েছে জল্পনা। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে— এই বার্তা কি দিতিপ্রিয়াকেই ইঙ্গিত করছে? আর তার মানেই কি ‘চিরদিনই’ বন্ধ হতে চলেছে?

ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই এই তিক্ততায় বিরক্ত। এর আগেও শ্যুটিং চলাকালীন নায়ক-নায়িকার মনোমালিন্যের খবর মিলেছে। মিঠাই সিরিয়ালের শেষের দিকেও সৌমিতৃষা ও আদৃতের সম্পর্ক নাকি ভালো ছিল না। কিন্তু তাঁদের ব্যক্তিগত সমস্যা কখনও কাজের ক্ষতি করেনি। তাই অনেকেই বলছেন— জিতু-দিতিপ্রিয়ার ঝামেলা এবার যে মাত্রা ছাড়িয়েছে, তা নজিরবিহীন।

কলহের সূচনা হয়েছিল অগস্টে। দিতিপ্রিয়া অভিযোগ করেছিলেন, জিতু সেটে তাঁর সঙ্গে কথা বলেন না। হোয়াটসঅ্যাপে কথোপকথনেও নাকি তাঁকে এমন কিছু মন্তব্য করেছিলেন যাতে নায়িকা অস্বস্তিতে পড়েন— যেমন তাঁর ডাক্তার দেখাতে যাওয়া নিয়ে ‘প্রেগন্যান্সি’ নিয়ে ঠাট্টা। আবার ফ্যানেদের বানানো এআই চুমুর ভিডিও পাঠিয়ে তা ‘প্রেমিককে’ দেখাতে বলেছিলেন। পরে জিতু গোটা চ্যাট প্রকাশ করে দাবি করেন, দিতিপ্রিয়া আগে কখনো আপত্তি জানাননি। সেবার প্রযোজকরা বিষয়টি সামাল দিলেও, ভিতরে ভিতরে যে অসন্তোষ জমেছিল তা এখন বিস্ফোরণের মতো ফেটে বেরোচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ দুই বছরের লড়াই পেরিয়ে জলসার পর্দায় প্রিয় অভিনেত্রী! কুর্চির পুত্রবধূ হয়ে চিরসখায় ধরা দিলেন কে?

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— এত নাটকীয় ঝামেলার পর কি সত্যিই বন্ধ হয়ে যাবে জনপ্রিয় সিরিয়ালটি? দর্শকের চোখ এখন প্রযোজনা সংস্থার দিকে।

Back to top button