‘বিচ্ছেদের পরেও ও কিন্তু আমায়…’ সম্পর্ক ভাঙলেও এক অজানা টান আজও অটুট! প্রাক্তন স্ত্রী নবনীতাকে শুধু “বন্ধু” বলতে নারাজ জীতু কমল!

এই মুহূর্তে বড় পর্দা ও ছোট পর্দা দুই জগতেই সমান তালে ব্যস্ত অভিনেতা জীতু কমল। একের পর এক কাজ নিয়ে তিনি যেন নিজের কেরিয়ারের সেরা সময় কাটাচ্ছেন। খুব শীঘ্রই অগ্নিদেব চট্টোপাধ্যায় পরিচালিত ছবি চোরে তাঁকে দেখা যাবে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে। পাশাপাশি জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক চিরদিনই তুমি যে আমার এর অন্যতম প্রধান আকর্ষণও তিনি। দর্শকের কাছে তিনি অডিয়েন্স স্টার, পর্দায় তাঁর উপস্থিতি মানেই আলাদা উন্মাদনা। অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিত্ব দিয়েও তিনি জয় করেছেন বহু মানুষের মন।
পেশাগত জীবনে যতটাই স্থির এবং সফল, ব্যক্তিগত জীবনে এক সময় ততটাই গভীর সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন জীতু। ২০১৯ সালের ৬ মে অভিনেত্রী নবনীতা দাসের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন তিনি। সেই সময় টলিপাড়ায় তাঁদের জুটিকে ঘিরে ছিল আলাদা চর্চা। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই সম্পর্ক আর টিকে থাকেনি। পরবর্তীকালে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। যদিও সম্পর্ক ভাঙার পরেও কোনও তিক্ততা জায়গা পায়নি তাঁদের জীবনে, বরং পরিণত মানসিকতার এক সুন্দর উদাহরণ তৈরি করেছেন তাঁরা।
সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে এই প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন জীতু কমল। অভিনেতা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, একসঙ্গে থাকা সম্ভব হয়নি বলেই কাউকে শত্রু ভাবার কোনও কারণ নেই। তাঁর কথায়, নবনীতা জীবনের কঠিন সময়ে বহুবার তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন, এমনকি তখনও যখন তাঁদের মধ্যে স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক ছিল না। তাই আজও তিনি প্রাক্তন স্ত্রীকে বন্ধু হিসেবেই দেখতে ভালোবাসেন। সম্পর্কের সমীকরণকে তিনি কখনও জটিলভাবে দেখেননি।
নিজের ভাবনাকে আরও সহজ উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করেছেন অভিনেতা। জীতুর মতে, যেমন একটি অফিস ছেড়ে অন্য অফিসে কাজ করতে গেলে পুরনো সহকর্মীরা শত্রু হয়ে যায় না, ঠিক তেমনই সম্পর্কের ক্ষেত্রেও বিচ্ছেদ মানেই শত্রুতা নয়। তিনি জানান, আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত ছিল তাঁদের দুজনেরই যৌথ সিদ্ধান্ত। বিয়ে মানেই আজীবন এক বন্ধনে আটকে থাকা এই ধারণায় তিনি বিশ্বাসী নন। সম্পর্ককে স্বাধীনতা আর সম্মানের জায়গা থেকে দেখতেই তিনি স্বচ্ছন্দ।
আরও পড়ুনঃ ‘এই গানটা আমার কাছে পুরনো বইয়ের পাতার গন্ধের মত…’ শিরিনের গানে মন্ত্রমুগ্ধ জিতু কমল! সেই গানে ভিডিও পোস্ট করে প্রশংসায় পঞ্চমুখ অভিনেতা!
ডিভোর্সের পরেও নবনীতা যেভাবে বন্ধুর মতো পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন, তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ বলেই জানিয়েছেন জীতু। কাজের দিক থেকেও তাঁর কেরিয়ার এখন ঊর্ধ্বমুখী। গত বছর শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের বিপরীতে গৃহপ্রবেশ ছবিতে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন তিনি। আগামী দিনে শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গেও তাঁকে একটি ছবিতে দেখা যাবে। সব মিলিয়ে এই মুহূর্তে জীতু কমল শুধুই একজন সফল অভিনেতা নন, পরিণত মানুষ হিসেবেও অনুপ্রেরণা।

