‘টলিউডের নামে ভোট জেতা হয়েছে, ভয় পাই না…’ ‘ঈশ্বর আর দর্শক পাশে থাকলে লড়াই চলবেই!’– টলিউডের দুর্নীতির বিরুদ্ধে একা লড়ছেন জিতু কামাল!

বাংলা চলচ্চিত্র জগতের (Tollywood) অন্যতম জনপ্রিয় ও শক্তিশালী অভিনেতা জিতু কামাল (Jeetu Kamal) বর্তমানে টলিউডের এক চর্চিত নাম। ছোটপর্দার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘রাগে অনুরাগে’ দিয়ে কেরিয়ার শুরু করলেও, ২০২২ সালে অনীক দত্তের ‘অপরাজিত’ ছবিতে সত্যজিৎ রায়ের আদলে ‘অপরাজিত রায়’-এর চরিত্রে অভিনয় করে তিনি আন্তর্জাতিক স্তরে খ্যাতি অর্জন করেন। এই একটি ছবিই তাঁর কেরিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। বর্তমানে তিনি জি বাংলার ‘চিরদিনই তুমি যে আমরা’ ধারাবাহিকের মুখ্য চরিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি বড়পর্দাতেও সমানভাবে সক্রিয়। অত্যন্ত মেধাবী এবং স্পষ্টবক্তা হিসেবে পরিচিত এই অভিনেতা বরাবরই তাঁর কাজের প্রতি নিষ্ঠা এবং সামাজিক ও পেশাগত অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য দর্শক মহলে প্রশংসিত।

সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে জিতু কামাল টলিউডের অন্দরের কঙ্কালসার চেহারাটা সাধারণ মানুষের সামনে উন্মোচিত করেছেন। তাঁর প্রধান অভিযোগ হলো ‘আর্টিস্ট ফোরাম’-এর চূড়ান্ত নিষ্ক্রিয়তা। অভিনেতা জানান, গত ১৫ মার্চ তিনি শুটিং ফ্লোরে একটি অপ্রীতিকর ঘটনার শিকার হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন এবং ফোরামকে মেইলও করেছিলেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, তথাকথিত ‘অভিভাবক’ সংস্থাটি তাঁর কোনো ফোন ধরেনি বা অভিযোগের কোনো গুরুত্বই দেয়নি। বরং প্রয়াত অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর যখন তিনি প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে নিজের ছবিতে মালা পরিয়েছিলেন, তখন ফোরামের পক্ষ থেকে তাঁর সমালোচনাই করা হয়েছিল। জিতুর মতে, আর্টিস্ট ফোরাম এখন কেবল একটি আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

সাক্ষাৎকারে জিতু কামালের নিশানায় ছিলেন টলিউডের ‘মেগাস্টার’ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। তিনি সরাসরি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে চাটুকারিতার অভিযোগ তুলেছেন। জিতুর দাবি, ফোরামের উচ্চপদে আসীন থেকে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ব্যক্তিদের তোষণ করেছেন, যার ফলে সাধারণ শিল্পীদের স্বার্থ বিঘ্নিত হচ্ছে। অভিনেতা আক্ষেপের সুরে বলেন, একজন পদ্মশ্রী প্রাপক অভিনেতাকে যখন শাসকের পদলেহন করতে দেখা যায়, তখন সাধারণ শিল্পীদের নিরাপত্তার জায়গাটি আর থাকে না। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্বরা যদি নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত থাকেন, তবে টলিউডের ভবিষ্যৎ যে ঘোর অন্ধকারে, সেই ইঙ্গিতই দিয়েছেন জিতু।

রাজনীতি ও টলিউডের এই মাখামাখি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জিতু কামাল সায়নী ঘোষ এবং রাজ চক্রবর্তীর মতো তারকা-রাজনীতিকদের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি জানান, ইন্ডাস্ট্রি থেকে যারা সাংসদ বা বিধায়ক হয়েছেন, তারা টলিউডের উন্নতির পরিবর্তে শিল্পীদের ওপর ‘চমকানি-ধমকানি’ দিতেই বেশি ব্যস্ত। সায়নী ঘোষের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এক সময় বিপদে পড়ে সায়নীর কাছে সাহায্য চাইলেও কোনো উত্তর মেলেনি, বরং পরবর্তীতে তাঁর ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। রাজ চক্রবর্তীর রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তকেও তিনি ‘সুবিধাবাদ’ হিসেবে অভিহিত করেন। জিতুর মতে, ক্ষমতা থাকলে এরা একরকম আচরণ করেন, আর ক্ষমতা চলে গেলে আবার অভিনয়ের দোহাই দিয়ে ইন্ডাস্ট্রিতে ফেরার চেষ্টা করেন, যা আসলে চরম দ্বিচারিতা।

আরও পড়ুনঃ ভোটে ধাক্কার পর উল্টে গেলো আসন! বৈঠকে অনুপস্থিত দেব! মুখ ঘোরালেন টলি কুইন কোয়েল মল্লিক! তবে কি শাসক দলে যুক্ত হবেন তারা?

পরিশেষে, জিতু কামাল টলিউডের এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের কিছু পথ বাতলেছেন। তিনি মনে করেন, ফ্লোরে পরিচালকদের প্রকৃত ক্ষমতা বা ‘ক্যাপ্টেন অফ দ্য শিপ’ হিসেবে সম্মান ফিরিয়ে দেওয়া জরুরি। এছাড়া টেকনিশিয়ান এবং শিল্পীদের মধ্যে খাবারের যে বৈষম্য বা কাজের পরিবেশে যে অসংবেদনশীলতা রয়েছে, তার পরিবর্তন হওয়া দরকার। তিনি সরকারকে আবেদন জানান যেন টলিউডের এই ‘ব্যান কালচার’ বন্ধ করা হয় এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজের সুযোগ তৈরি হয়। জিতু অত্যন্ত প্রত্যয়ের সঙ্গে বলেন, হাজারো প্রতিবন্ধকতা আসলেও তিনি তাঁর লড়াই চালিয়ে যাবেন, কারণ দর্শকদের ভালোবাসা এবং সত্যের প্রতি তাঁর অবিচল আস্থা তাঁর বড় শক্তি।

Back to top button