‘আমি সাতদিন যৌ’ন পল্লীতে থেকেছি…আমার লজ্জা, ঘেন্না কিছুই নেই!’ যেকোনো জায়গাতেই নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেন অভিনেত্রী জয়া আহসান!

চলচ্চিত্র জগতে (Film Industry) এপার বাংলা ওপার বাংলা মিশিয়ে একাকার। এপার বাংলার অভিনেত্রীর ওপার বাংলায় কাজ করছে, আবার ওপার বাংলারও বেশ কিছু অভিনেত্রী এপার বাংলায় কাজ করছেন। ওপার বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান (Jaya Ahsan) দীর্ঘদিন ধরেই টলিউড (Tollywood) ইন্ডাস্ট্রিতে রাজত্ব করছেন। অভিনেত্রীর অভিনয়, আদব-কায়দা, চলন বলন সবকিছুই বারবার আকর্ষিত করেছে নেটিজেনদের। জয়ার রূপে মুগ্ধ হয়েছে হাজার হাজার মানুষ। অভিনেত্রী বাংলাদেশের মানুষ হলেও কলকাতাকে খুব সহজেই আপন করে নিয়েছেন।

বিসর্জন, অর্ধাঙ্গিনী, কন্ঠ, রাজকাহিনী, বিজয়া, ঈগলের চোখ, এক যে ছিল রাজার মতো একাধিক সুপার হিট ছবিতে অভিনয় করেছেন জয়া। তার অভিনয় বারবার মুগ্ধ করেছে এপার বাংলার মানুষকে। দুই বাংলার অনুরাগীরাই তাঁকে একটিবার পর্দায় দেখার জন্য ছটফট করে। পর্দা এপারের মানুষ ভাবেন হয়তো অভিনেতা অভিনেত্রী মানেই তাদের জীবন ঝাঁ চকচকে। রূপালী পর্দার মতো একেবারে স্বপ্নে মোরা। কিন্তু জয়ার জীবনের গল্পটা কিছুটা অন্যরকম অভিনেত্রী নিজের জীবনটাকে বরাবরই অন্যরকম ভাবে বাঁচতে চেয়েছেন।

কৌশিক গাঙ্গুলী, সৃজিত মুখোপাধ্যায়, বিরসা দাশগুপ্ত, নন্দিনী রায়, শিবপ্রসাদ গাঙ্গুলী, অতনু ঘোষের মতো একাধিক বাংলার পরিচালকের সাথে কাজ করেছেন জয়া। তবে অভিনেত্রী কেমন মানুষ কিভাবে তিনি জীবন কাটাতে অভ্যস্ত সেই গল্প শুনলে আপনিও অবাক হবেন। কিছুদিন আগে একটি পডকাস্ট শোতে গিয়ে অভিনেত্রী নিজের মুখে জানিয়েছেন সেসব দিনের কথা।

সম্প্রতি সাক্ষাৎকার অভিনেত্রী জানিয়েছেন, ‘যত অ্যাডভেঞ্চার যত উদ্ভট জিনিসপত্র আমার ছোট থেকেই খুব ভালো লাগতো। বাড়িটা আমার একটা জেলখানার মতো মনে হতো। মনে হতো কখনো বাবা-মার হাত থেকে বাইরে বেরোবো। ছোট থেকে বদ্ধ জায়গায় থাকতে আমার ভালো লাগতো না।’ এছাড়াও অভিনেত্রী জানান তিনি টানা বেশ কিছুদিন নিষিদ্ধ পল্লীতে জীবন কাটিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ ‘আমার রাগ হলে আমি গালাগালি দি না, এটাই আমার শিক্ষা! কিন্তু ওনারা…’ সাক্ষাৎকারে কাদের শিক্ষা নিয়ে খোঁচা মারলেন অনির্বাণ?

অভিনয় করতে গিয়ে অভিনেত্রী অনেক কিছুই শিখেছেন। তার মধ্যে থেকে অন্যতম একটি বড় শিক্ষা সকলেই সঙ্গে ভাগ করেছেন তিনি। জয়া সাক্ষাৎকারে জানান, ‘অভিনয় করতে গেলে তোমার লজ্জা থাকলে হবে না, তোমার ঘেন্না থাকা যাবে না। আর আমার মধ্যে মানুষ হিসেবেই এই জিনিসগুলো নেই। আমাকে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হলে থেকে যেতে বললে আমি সেখানেই থেকে যাব, আমাকে সাত তারা হোটেলে থাকতে বল আমি সেখানেও থেকে যাব আমার কিছু যায় আসে না। আমাকে রাস্তার ধারে স্ল্যাবের উপর থাকতে বল আমি সেখানেও থাকতে পারি। আমি যৌনপল্লীতে থেকে কাজ করেছি সাতদিন। এমন দৃশ্য আমি দেখেছি যে ওরা একজন কাস্টমারকে খুশি করার পর সঙ্গে সঙ্গে হাতটা কোনরকমে ধুয়ে ডালে সম্বার দিল সেই ডাল আমাকে খেতে দিল। আমি ওই ডাল সেখানে ওদের সাথে বসে খেয়েছি।’ সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রীর কথা শুনে সকলেই অবাক হয়ে গিয়েছেন।

Back to top button