‘বাবার হাত ধরে এসেছিল প্রথম, আজকে সেই ছেলেটার মৃ’তদেহর সামনে…!’ অকালে চলে গেল একটি জলজ্যান্ত প্রাণ! বিচারের আশায় চৈতি ঘোষাল! রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে আবেগে ভাসলেন অভিনেত্রী!

বাস্তব এক লহমায় মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল তালসারি সমুদ্রসৈকতে। জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Banerjee) আকস্মিক প্রয়াণ কেবল একটি খবরের শিরোনাম নয়, বরং বিনোদন জগতের এক গভীর ক্ষত। ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়ে যেভাবে সমুদ্রের নোনা জলে হারিয়ে গেলেন টলিপাড়ার প্রিয় ‘রাহুল’, তা মেনে নিতে পারছেন না তাঁর অগণিত অনুরাগী থেকে শুরু করে সহকর্মীরা। শুটিংয়ের সেই আনন্দঘন মুহূর্তগুলো যে এভাবে বিষাদে পরিণত হবে, তা ছিল কল্পনারও অতীত।

মর্মান্তিক এই ঘটনার রেশ ধরে অভিনেত্রী চৈতী ঘোষাল যে প্রশ্নগুলো তুলেছেন, তা আজ প্রতিটি শিল্পীর মনের কথা। শৈশব থেকে রাহুলের বেড়ে ওঠা দেখা চৈতী যেন আজও বিশ্বাস করতে পারছেন না যে সেই ‘পারফেকশনিস্ট’ ছেলেটি আর নেই। চৈতীর কণ্ঠে ফুটে উঠেছে এক অমানবিক সমাজের ছবি, যেখানে স্টুডিওর আলো বা শুটিংয়ের সেট—সবই যেন ক্রমশ যান্ত্রিক ও আবেগহীন হয়ে পড়ছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যে রাহুল ১০-১১ বছর বয়সে বাবার হাত ধরে তাঁর বাড়িতে অভিনয়ের প্রথম পাঠ নিতে এসেছিল, সেই জীবনমুখী প্রাণের এমন অকাল বিদায় কি এড়ানো যেত না?

রহস্য দানা বাঁধছে শুটিংয়ের সেই ‘ড্রোন শট’ এবং পরিকল্পনার অভাব নিয়ে। চৈতী ঘোষাল অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, একটি বড় প্রজেক্টের প্রতিটি পদক্ষেপ যেখানে চ্যানেল, প্রযোজক ও পরিচালকের যৌথ সিদ্ধান্তে হয়, সেখানে রাহুলের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এমন ধোঁয়াশা কেন? যদি চিত্রনাট্যে গভীর জলে যাওয়ার দৃশ্য না-ই থাকে, তবে কেন ড্রোন শট নিতে বলা হলো? কেনই বা সেই সময় অভিজ্ঞ কেউ তাঁকে বাধা দিলেন না? চৈতীর মতে, এই ‘ন্যারেটিভ’ বা সাজানো গল্পগুলো বড্ড কাঁচা, যা কেবল দায় এড়ানোর চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।

নিরাপত্তার অভাব আর অব্যবস্থাপনার অভিযোগ আজ আরও জোরালো হচ্ছে। ওড়িশা পুলিশের দাবি অনুযায়ী, সমুদ্রের জলে নেমে শুটিং করার কোনো অনুমতিই ছিল না প্রোডাকশন টিমের কাছে। হাঁটু সমান জলে নাচতে গিয়ে কীভাবে এক লহমায় চোরাবালির গর্তে তলিয়ে গেলেন রাহুল ও তাঁর সহ-অভিনেত্রী শ্বেতা, তা নিয়ে উঠেছে হাজারো প্রশ্ন। শ্বেতা ফিরে এলেও, রাহুল আর ফিরে আসেননি। ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে ফিসফাস তবে কি পরিকাঠামোর অভাবে আমাদের আরও কত প্রতিভাকে অকালে হারাতে হবে? প্রিয় অভিনেতার জন্য কোনো উপযুক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা কি রাখা যেত না?

আরও পড়ুনঃ তাসের ঘরের মতো ধসে গেল রক্তিমের পরিকল্পনা! তার নোংরামি শেষ করতে দিতির অভাবনীয় মাস্টারস্ট্রোক! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

আজ রাহুলের প্রয়াণে টলিপাড়া স্তব্ধ। প্রিয়াঙ্কা সরকারের আর্তনাদ কিংবা তাঁদের একমাত্র সন্তানের বিষণ্ণ মুখ যেন বারবার বিচার চাইছে এই অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে। চৈতী ঘোষাল যেমনটা বলেছেন, ব্লেম গেম বা কাদা ছোড়াছুড়ি নয়, আজ সময় এসেছে সত্যকে সামনে আনার। পর্দার রঙিন দুনিয়ার আড়ালে শিল্পীদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। প্রিয় ‘রাহুল’ হয়তো আর কোনোদিন ক্যামেরার সামনে দাঁড়াবেন না, কিন্তু তাঁর এই অকাল প্রস্থান আমাদের সিস্টেমের অমানবিকতা আর উদাসীনতার দিকে আঙুল তুলে দিয়ে গেল চিরতরের জন্য।

Back to top button