‘এমনও দিন গেছে যে কোনদিন খেতে পেয়েছি কোনদিন খেতে পাইনি, সেখান থেকে আজ…’ অতীত জীবনে পার করেছেন কঠিন সময়! চরম অভাবে করেছেন দিনযাপন! সেই দিনের স্মৃতিচারণ করতেই আবেগপ্রবণ যীশু সেনগুপ্ত!

যীশু সেনগুপ্ত (Jisshu Sengupta) ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের (Film Industry) একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় অভিনেতা। টেলিভিশনের (Bengali Television) মাধ্যমেই তাঁর অভিনয় জীবন শুরু হয়, যেখানে মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেবের ভূমিকায় অভিনয় করে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। এরপর তিনি ঋতুপর্ণ ঘোষের মতো পরিচালকের হাত ধরে বড় পর্দায় অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। নৌকাডুবি, আবহমান, জাতিস্মর-এর মতো সিনেমাগুলোতে তাঁর অভিনয় দর্শক আজও ভুলতে পারেননি।

শুধুমাত্র টলিউডেই নয়, যীশু বলিউড এবং দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমাতেও সমান দাপটের সঙ্গে কাজ করছেন। মর্দানি, পিকু, শকুন্তলা দেবী এবং সীতা রামম ছবিতে তাঁর চরিত্রগুলো উল্লেখযোগ্য। অভিনয় দক্ষতা তাঁকে বর্তমান সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভারতীয় অভিনেতা হিসেবে গড়ে তুলেছে। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি একজন দক্ষ সঞ্চালক এবং তুখোড় ক্রিকেটার হিসেবেও পরিচিত।

যীশু সেনগুপ্ত আজ সাফল্যের শিখরে থাকলেও, তাঁর এই যাত্রাপথ মোটেও মসৃণ ছিল না। একসময় এমন দিন গেছে যখন তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে চরম অভাবের মধ্য দিয়ে দিন কাটাতে হয়েছে। যীশু নিজেই বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে, তাঁদের আর্থিক অবস্থা একসময় এতটাই খারাপ ছিল যে দুবেলা ঠিকমতো খাবার জুটত না। বাবা উজ্জ্বল সেনগুপ্ত ছিলেন অভিনেতা, কিন্তু কাজ নিয়মিত না থাকায় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হতো। এমনও হয়েছে যে দুপুরে একবেলা খাওয়ার পর রাতে কী খাবেন বা আদৌ কিছু জুটবে কি না, তা নিয়ে পরিবারের সবাই দুশ্চিন্তায় থাকতেন।

এই কঠিন দিনগুলোতে যীশু ক্রিকেটকে তাঁর জীবনের লক্ষ্য হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন যাতে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পাওয়া যায়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত অভিনয়ের জগতেই পা রাখেন। অভাবের দিনগুলোতে তাঁর মা ছিলেন তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি, যিনি সীমিত সাধ্যের মধ্যেও সন্তানদের আগলে রাখতেন। যীশু প্রায়ই স্মরণ করেন যে, সেই সময়কার আধপেটা খেয়ে থাকা দিনগুলোই তাঁকে আজকের বিনয়ী এবং পরিশ্রমী মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছে।

আরও পড়ুনঃ অভিনয় জীবনে অনিশ্চয়তার ছাপ! ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে নতুন ব্যবসায় অভিনেত্রী! নিজের পরিচয় গড়লেন প্রেরণা ভট্টাচার্য!

অভিনয় জগতে আসার আগে যীশু হতে চেয়েছিলেন একজন পেশাদার ক্রিকেটার। তিনি বেশ ভালো খেলতেন এবং সাব-জুনিয়র লেভেলে বাংলার হয়ে প্রতিনিধিত্বও করেছিলেন। কিন্তু দারিদ্র্যের কারণে খেলার খরচ চালানো তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়ছিল। ভাগ্যের ফেরে তিনি যখন ছোট পর্দায় সুযোগ পান, তখন সেটা ছিল মূলত উপার্জনের তাগিদেই। যীশুর ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরে যায় যখন তিনি ঋতুপর্ণ ঘোষের নজরে আসেন। ঋতুপর্ণ ঘোষের সাথে কাজ করার পরই তিনি একজন অভিনেতা হিসেবে নিজের সঠিক জায়গা খুঁজে পান। আর আজ তিনি সারা দেশের কাছে পরিচিত।

Back to top button