‘নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে অনেক শুভেচ্ছা’ ‘এখন ভয়মুক্ত কাজের পরিবেশ চাই, কারণ এতদিন…!’ টলিউড শিল্পীদের সুরক্ষা নিয়ে মুখ খুললেন গায়িকা ইমন চক্রবর্তী!

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে টলিউড ইন্ডাস্ট্রির (Tollywood) অন্দরের সমীকরণ নিয়ে এবার সরব হলেন প্রথম সারির একঝাঁক তারকা। টলিউডে রাজনীতির প্রভাব, কাজের পরিবেশ এবং শিল্পীদের ওপর মানসিক চাপ এই সব কিছুই উঠে এল তাঁদের কথায়। অভিনেতা যীতু কমল থেকে শুরু করে গায়িকা অদিতি মুন্সী এবং ঋত্বিকা সেন, প্রত্যেকেই ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যতের প্রত্যাশা নিয়ে নিজেদের স্পষ্ট মতামত ব্যক্ত করেছেন। রাজনীতির কারণে শিল্পীদের মধ্যে যে বিভাজন বা চাপের সৃষ্টি হয়েছিল, তা থেকে মুক্তি পেয়ে নতুনভাবে কাজ শুরু করার বার্তা দিয়েছেন তাঁরা।

অভিনেতা অঙ্কুশ হাজরা ইন্ডাস্ট্রির অন্দরের এক গভীর সংকটের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। তিনি জানান যে, গত কয়েক বছরে অভিনেতাদের ওপর প্রচ্ছন্ন রাজনৈতিক চাপের একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। অঙ্কুশের মতে, “কি পরিস্থিতিতে আমাদের ওপর চাপ দেওয়া হয়েছিল বা কোথা থেকে সেই নির্দেশ এসেছিল, তা বলতে গেলে দুই ঘণ্টার ইন্টারভিউ হয়ে যাবে।” তিনি আক্ষেপ করে বলেন যে, অভিনেতারা কেবল শান্তিতে কাজ করে খেতে চান, কোনো রাজনৈতিক পদ বা ক্ষমতার দড়ি টানাটানিতে তাঁরা থাকতে চান না। তিনি আরও প্রত্যাশা করেন যে, দক্ষিণ ভারতের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির মতো বাংলাতেও যেন আধুনিক পরিকাঠামো তৈরি করা হয় এবং সিনেমার বাজেট বা টেকনিক্যাল সিদ্ধান্তগুলো যেন রাজনীতিবিদের বদলে সিনেমা বোঝেন এমন মানুষরাই নেন।

অন্যদিকে, অভিনেত্রী তৃণা সাহা সোশ্যাল মিডিয়া ট্রোলিং এবং শিল্পীদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন। বেশ কিছুদিন আগে বাসে করে রাজনৈতিক মিছিলে যাওয়ার যে ছবি ভাইরাল হয়েছিল, সেই প্রসঙ্গে তিনি সাফ জানান যে, তাঁরা যা করেছিলেন তা সম্পূর্ণ সইচ্ছায় করেছিলেন। ঋত্বিকার কথায়, “কেউ গান পয়েন্টে রেখে আমাদের বলেনি যে যেতেই হবে, আমরা সবাই প্রাপ্তবয়স্ক এবং নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেরাই নিয়েছিলাম”। এছাড়াও তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্রমাগত নেতিবাচক মন্তব্য এবং ব্যক্তিগত আক্রমণকে ‘মেন্টাল মার্ডার’ বা মানসিক হত্যাকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করেন এবং মানুষকে সাইবার বুলিং বন্ধ করার অনুরোধ জানান।

টলিউডের কাজের পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে আশা প্রকাশ পেয়েছে। ইমন নতুন সরকারকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন যে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের পাশাপাশি শিল্পীদের জন্য একটি ভয়হীন এবং আনন্দের কাজের পরিবেশ তৈরি হওয়া খুব জরুরি। দেবলীনা কুমারের মতে, রাজনীতি এবং প্রেম মানুষের একান্ত ব্যক্তিগত বিষয় হওয়া উচিত। তিনি মনে করেন, মানুষের আলাদা আলাদা রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকতে পারে, কিন্তু তা যেন পেশাদার ক্ষেত্রে বা একে অপরের প্রতি সহমর্মিতার জায়গায় বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। টলিউডের পুরনো দিনের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন যে, আগে কে কোন দল করেন তা নিয়ে কাজ আটকে যেত না, সেই পুরনো সংস্কৃতিই ফিরে আসুক।

আরও পড়ুনঃ নিজের সন্তানকেই বি’ষ খাইয়ে মারতে চাইলেন টলিউডের এই অভিনেতা! গোটা ঘটনায় স্তব্ধ টলিপাড়া! নেপথ্যে কোন গভীর রহস্য?

ইমন চক্রবর্তীর মতো সঙ্গীত জগতের প্রতিনিধিদের ভাবনাও ছিল এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। শিল্পীদের দায়বদ্ধতা নিয়ে যে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, তার উত্তরে শিল্পীরা একবাক্যে জানিয়েছেন যে, একজন শিল্পী হিসেবে তাঁদের প্রধান কাজ হলো সাধারণ মানুষকে বিনোদন দেওয়া এবং সংস্কৃতির চর্চা করা। ইমনসহ অন্যান্য শিল্পীরা যারা রাজনীতির আঙিনায় পা রেখেছিলেন বা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য তাঁরা প্রত্যেকেই চান বাংলার শিল্প জগত যেন রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে। রাজনৈতিক ক্ষমতার রদবদল চলতেই থাকবে, কিন্তু দিনশেষে শিল্পী এবং তাঁদের সৃষ্টি যেন কোনো রঙের মোড়কে আটকে না পড়ে, এটাই ছিল ভিডিওর মূল নির্যাস।

Back to top button