নিজের পায়ে উঠে দাঁড়ালো টগর! সুস্থ হয়ে উঠল শিরিন! সব ভুল বোঝাবুঝির অবসান! যে শিরিন ছিল কাঁটা, সে-ই মিলিয়ে দিল পারুল-রায়ানের হাত!

জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা ধারাবাহিকে (Parineeta) গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, পুরোনো বিলাসবহুল জীবনযাত্রায় ফিরে যাওয়ার লোভ দেখিয়ে শিঞ্জিনীকে নিজের জালে টানে চক্রান্তকারী সংযুক্তা। শিরিনকে চিরতরে শেষ করে দিতে পারলেই যে তারা সব পুরোনো অধিকার ফিরে পাবে, সেই কুটিল যুক্তি দিয়ে সে এক ঘাতককে রুগীর ছদ্মবেশে হাসপাতালে পাঠায়। উদ্দেশ্য ছিল শিরিনের স্যালাইনের বোতলে বিষাক্ত ইনজেকশন দেওয়া। কিন্তু ঠিক শেষ মুহূর্তে সেখানে হাজির হয়ে পারুল ও রায়ান অপরাধীকে হাতেনাতে ধরে ফেলে এবং গর্জে উঠে জানতে চায়, কে তাকে পাঠিয়েছে।
অন্যদিকে, নিজের জন্মদাত্রী মায়ের এই নৃশংস ষড়যন্ত্রের কথা জানতে পেরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে শিরিন। চরম অপরাধবোধ ও যন্ত্রণায় সে নিজেকে শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু চরম বিপদের মুখে দেবদূতের মতো সেখানে এসে পৌঁছায় পারুল, রায়ান এবং তাদের বাবা। অত্যন্ত তৎপরতার সাথে পারুল শেষমুহূর্তে শিরিনকে উদ্ধার করে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা করে।
উদ্ধার পাওয়ার পর শিরিনকে নিরাপদে বসু বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। সেখানে নতুন আশা ও ভালোবাসার আবহে টগরকে নিজের পায়ে দাঁড় করানোর প্রচেষ্টা শুরু হয়। পরিবারের সবাই মিলে টগরের দিকে বল ছুঁড়ে দিয়ে তাকে দাঁড়িয়ে সেটা ধরতে বলে। অবশেষে টগর যখন নিজের শক্তিতে দাঁড়িয়ে সেই বলটি ধরে ফেলে, তখন সকলের আনন্দ দ্বিগুণ হয়ে যায়। “আমি নিজের পায়ে দাঁড়াতে পেরেছি দিদি” টগরের এই কথায় সেখানে এক গভীর আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি হয়।
ঘটনাপ্রবাহের এখানেই শেষ নয়, গল্পে আসে আরও এক বড় নাটকীয় মোড়। সমস্ত জটিলতা কাটিয়ে পারুল অবশেষে শিরিনকে তার বাবা সৌমিত্র কাকুর হাতে তুলে দেয়। নিজের মেয়ের জীবন বাঁচাতে এবং তাকে সঠিক পথ দেখাতে পারুলের এই নিঃস্বার্থ অবদান দেখে সৌমিত্র কাকু অশ্রুসজল চোখে আশীর্বাদ করে বলেন, “তোমার মতো মেয়ে যেন প্রত্যেক বাবার হয়।” এই এক বাক্যে পারুলের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুনঃ পল্লবীকে কাছে টানতে আদির নতুন প্ল্যান! আদি কি পারবে পল্লবীর মনে জায়গা করে নিতে? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
সবশেষে ঘটে দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত সেই শুভ মিলন। সব দ্বিধা ও টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে শিরিন নিজেই পারুলের হাত রায়ানের হাতে তুলে দেয় এবং রায়ানকে পারুলকে “আই লাভ ইউ” বলতে উৎসাহিত করে। যার সম্পর্ককে ঘিরে এতদিন এত জটিলতা ও ঝড় বয়ে গেছে, সেই শিরিনই আজ পারুল ও রায়ানের ভালোবাসাকে পরিণতি দেওয়ার মূল অনুঘটক হয়ে ওঠে।

