‘উত্তম কুমার বাস্তবে অত্যন্ত কালো ছিলেন, উনি মুখে…’ ফর্সা দেখানোর পেছনে চরম পরিশ্রম! পডকাস্টে মহানায়কের অজানা গল্প ফাঁস করলেন নাতনি নবমিতা চ্যাটার্জি!

বাংলা চলচ্চিত্রের মহানায়ক উত্তম কুমারকে (Uttam Kumar) নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহল ও উন্মাদনার শেষ নেই। রূপালী পর্দায় তাঁর মোহময় উপস্থিতি, আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব এবং ফর্সা উজ্জ্বল রঙ আজও কোটি কোটি দর্শকের মনে গেঁথে রয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি এক পডকাস্ট শোতে এসে তাঁরই নাতনি নবমিতা চ্যাটার্জি মহানায়কের সুগঠিত রূপ ও ত্বক নিয়ে কিছু অজানা ও বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করেছেন, যা শুনে স্বাভাবিকভাবেই অনুরাগী মহল ও সোশ্যাল মিডিয়ায় জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

নবমিতা জানান, পর্দায় উত্তম কুমারকে আমরা যতটা ফর্সা ও সুন্দর দেখতে অভ্যস্ত, বাস্তবে কিন্তু তিনি এমন ছিলেন না। তিনি প্রকাশ করেন যে, মহানায়কের গায়ের রঙ আদতে অনেকটাই চাপা বা কালো ছিল। সেই যুগে আজকের মতো অত্যাধুনিক মেকআপ কিংবা ফিল্টারের প্রযুক্তি ছিল না। ফলে রূপালী পর্দায় নিজেকে নিখুঁত ও আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরতে উত্তম কুমারকে ত্বকের পেছনে প্রচুর খাটুনি ও পরিচর্যা করতে হতো।

তিনি আরও জানান, নিজের ত্বকের রঙ উজ্জ্বল ও উন্নত করার জন্য মহানায়ক নিয়মিত নিভিয়া ক্রিম ব্যবহার করতেন। শুধু তাই নয়, ত্বকের গঠন ও সৌন্দর্য বজায় রাখতে তিনি বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শও নিয়েছিলেন। এর পাশাপাশি নিজের শারীরিক গঠন বা ফিটনেস ঠিক রাখতে তিনি প্রতিদিন নিয়ম করে শারীরিক কসরত ও শরীরচর্চা করতেন। কঠিন আত্মনিয়ন্ত্রণ ও যত্নের মাধ্যমেই তিনি নিজেকে তৎকালীন সময়ের সেরা নায়কের রূপে গড়ে তুলেছিলেন।

কেবল ফর্সা রঙ নয়, চরিত্রের প্রয়োজনে মুখের ত্বকে বলিরেখা বা বয়সের ছাপ ফুটে তোলার পদ্ধতিও বেশ কণ্টকাকীর্ণ ছিল। নবমিতা জানান, আগেকার দিনে আজকের মতো সিলিকন বা আধুনিক প্রস্থেটিক মেকআপের সুবিধা ছিল না। তাই মুখের চামড়া কোঁচকানোর জন্য গলানো মোম সরাসরি চামড়ার ওপর ঢেলে দেওয়া হতো। মোমের তীব্র তাপে ও জ্বালায় ত্বক কুঁকড়ে যেত, আর এভাবেই বয়স্ক বা জটিল চরিত্রের রূপ দেওয়া হতো।

আরও পড়ুনঃ ‘ওকে আমি জন্মাতে দেখেছি, কোলে পিঠে করে মানুষ…’ ‘কোয়েলকে অভিনেত্রী হিসেবে নয়, বরং আমার…’ ছোট থেকেই খুব আদরের টলি কুইন কোয়েল মল্লিক! বিনোদন থেকে রাজনীতি, অভিনেত্রীকে নিয়ে কি বললেন রিনা চৌধুরী?

এই পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক। ছবির শ্যুটিং চলাকালীন মহানায়ককে প্রতিদিন এই তীব্র সহ্যশক্তির পরীক্ষা দিতে হতো, যা একদিন বা দু’দিনের বিষয় ছিল না। মহানায়ক হওয়ার নেপথ্যে যে কতটা কঠোর পরিশ্রম, ত্যাগ এবং অনবদ্য পেশাদারিত্ব লুকিয়ে ছিল, নবমিতা চ্যাটার্জীর এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়ায় তা দারুণভাবে সাড়াজাগিয়েছে। প্রবাদপ্রতিম এই অভিনেতার কাজের প্রতি এই নিষ্ঠা তাঁর ভক্তদের আরও একবার শ্রদ্ধাশীল করে তুলেছে।

Back to top button